kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভাগ্যবিধাতা তাহলে ব্যাটিংই

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাগ্যবিধাতা তাহলে ব্যাটিংই

অনুশীলন শেষে ড্রেসিংরুমে ওঠার পথে নিজের ডান হাতের তর্জনীটা ‘ট্রিগার’ চাপার মতো করে একাধিকবার নড়ালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অফ স্পিনার হয়তো এটিই বোঝাতে চাইলেন যে সামান্য চোট-আঘাত কাটিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য মারণাস্ত্র হয়ে উঠতে তিনি তৈরিই আছেন।

অবশ্য আফগানিস্তান শিবিরেও স্পিন মারণাস্ত্রের মজুদ কম নেই। বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিচার করতে গেলে স্বাগতিকদের চেয়ে বরং একটু বেশিই। বৈচিত্র্যময় সেই স্পিন আক্রমণের পুরোভাগে খোদ অধিনায়ক রশিদ খান আগের দিনও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন। কালও খুঁটিয়ে দেখা এই লেগ স্পিনারের না দেখেই জানা ব্যাপারটি হলো দেশের মাটিতে স্পিন ফাঁদ পেতেই জয়ের পরিকল্পনা সাজায় বাংলাদেশ। উইকেট দেখার পরও পূর্বানুমানের সঙ্গে তেমন কোনো ফারাক খুঁজে পাননি বলেই মনে হলো। উইকেট নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা জানতে চাওয়া হলে অবশ্য জবাবের শুরুটা ছিল একেবারে হালকা মেজাজেই, ‘আশা তো করছি এক মাইল লম্বা টার্ন।’

অত না হোক, আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টের উইকেটে টার্ন কিছু থাকলেও তাতে রশিদের মতো লেগির খুশিই হওয়ার কথা। এ ধরনের বোলারদের বড় শক্তির জায়গা তো এটিই। বাংলাদেশ টেস্ট-পূর্ব বিশ্লেষণে যাঁর ফুটেজ একটু বেশি দেখছে, সেই চায়নাম্যান জহীর খান আফগান স্পিন ভাঁড়ারের রহস্যময়তা বাড়াবেন আরো। তাঁদের সঙ্গে আছেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীও। প্রতিপক্ষের বহুমুখিতার তুলনায় বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ তাই খুব আকর্ষণীয়ও নয়। দুজন করে বাঁহাতি আর অফ স্পিনার নিয়ে স্বাগতিকদের স্পিন-সজ্জা।  

চাহিদা থাকলেও সরবরাহ যখন নেই, তখন লেগ স্পিনারের অভাব নিয়ে ভাবনায় আগ্রহ নেই সাকিব আল হাসানের। টেস্ট অধিনায়ক বরং বর্তমান স্পিন আক্রমণেই পরম স্বস্তি খুঁজে নিতে পারছেন, ‘যদি ওরকম কোয়ালিটি লেগ স্পিনার থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা যায়। যদি না থাকে, তাহলে অনুভব করে লাভ কী! আমাদের যারা বোলার আছে, তাদের সামর্থ্য আছে ২০ উইকেট নেওয়ার। ওদের ওপর আমার এবং আমাদের পুরো দলের সবার আস্থা আছে।’

তাই বলে আফগানদের বিপক্ষে জেতার জন্য স্পিনারদেরই ‘ভাগ্যবিধাতা’ ধরে বসে থাকছেন না এই অলরাউন্ডার। ম্যাচের আগে দুই দলের স্পিন শক্তির গভীরতা পরিমাপ যেভাবে চলছে এবং এর ভিত্তিতেই ম্যাচ ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে ধরে নেওয়া হলেও সাকিব লাগামটি ধরা দেখছেন অন্য জায়গায়। তাঁর মতে লাগাম ধরা আছে ব্যাটসম্যানদের হাতেই, ‘দেখুন, দেশে আমরা তো ভালোই বোলিং করেছি। আমাদের স্পিনাররা যখনই সুযোগ পেয়েছে, তাদের পছন্দমতো উইকেট যখন পেয়েছে, সব সময়ই ভালো করেছে। এর পরও বলতে হচ্ছে, ওদেরও (আফগানিস্তান) কোয়ালিটি স্পিনার আছে। আমার মনে হয় এখানে আসলে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুই দলের ব্যাটিংটাই।’

স্পিনাররা প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিয়ে দেওয়ার আগে জিততে হলে ব্যাটসম্যানদেরও তো পর্যাপ্ত পুঁজি জমা করে দিতে হবে। তা করতে গেলে ভালোভাবে সামলাতে হবে প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্যময় স্পিন আক্রমণও। সাকিবের এমন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত আফগান অধিনায়ক রশিদও, ‘একদম ঠিক কথা। আমরাও এভাবেই ভাবছি। এ ধরনের কন্ডিশনে কোনো দলের ব্যাটসম্যানদের জন্যই কাজ সহজ হবে না। স্পিনারদেরও সঠিক জায়গায় বল করে যেতে হবে। এমন নয় যে ওরা খুব সহজে উইকেট পেয়ে যাবে। উইকেট তুলে নেওয়া কঠিন হবে ওদের জন্য। তবে ব্যাটসম্যানদেরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। এই পরীক্ষায় যে দল টিকে থাকতে ও চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং স্নায়ু ধরে রাখতে সক্ষম হবে, আমার মনে হয় জিতবে তারাই।’ 

নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের সেই পরীক্ষার মুখে পড়তে হলেও তাঁরা উতরে যাবেন বলেই বিশ্বাস সাকিবের, ‘হ্যাঁ, ব্যাটসম্যানদের পারফরম করার চাপ অবশ্যই থাকবে। কারণ ওদের (আফগানদের) যারা ফাস্ট বোলার আছে, তারাও ভালো মানের। স্পিনাররা তো খুবই ভালো। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমি আমার ব্যাটসম্যানদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছি। আসলে গত দুই সপ্তাহে যতটা প্রস্তুতি নিয়েছি, এর চেয়ে বেশি কিছু করা উচিত বলে আমি মনে করি না। সবাই যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চটাই দিয়েছে। এখন শুধু মাঠে ওই অনুশীলনের প্রতিফলন ফেলতে পারলে আমরা ভালো কিছুই করতে পারব।’ 

সেই ‘ভালো কিছু’ মানেই জয়। জিততে গেলে ব্যাটিং নির্ধারক হলে এখানেও তো কত কিছু করার আছে সাকিবের!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা