kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স

খেলাধুলার স্বপ্নের ঠিকানা গড়ছে বসুন্ধরা

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খেলাধুলার স্বপ্নের ঠিকানা গড়ছে বসুন্ধরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দূর থেকে দেখে চোখে পড়ার মতো কিছু এখনো দাঁড়ায়নি। শুধু দেখা যাচ্ছে সীমানাপ্রাচীর। গাড়ি যত এগোয়, সীমানা দেয়ালের দৈর্ঘ্য তত বড় হতে থাকে। থামার পর তার বিশালত্ব এবং ভেতরের কর্মযজ্ঞ বিস্ময় জাগায়—এত বড় ক্রীড়া কমপ্লেক্স! না, এ সীমানাই শেষ নয়। এটি ৫৪ বিঘার পরিকল্পনা, তা আরো পরিবর্ধন-পরিমার্জন হয়ে ঠেকেছে ১০০ বিঘায়। ঢাকার বুকে এত বড় জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স।

এই শহরে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ। আর এই মানুষের অসহনীয় চাপে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠগুলো। তখনই বসুন্ধরা গ্রুপ নিজেদের আবাসিক এলাকার এক প্রান্তে, ‘এন’ ব্লকে তৈরি করছে আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এক বছরের মধ্যেই এটি মাথা তুলে দাঁড়াবে। এত বড় কমপ্লেক্সে খেলাধুলার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এই প্রজেক্টের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আমান উল্লাহ গড়গড় করে কমপ্লেক্সের সুযোগ-সুবিধার কথা বলে গেলেন, ‘ফুটবল মাঠ তো দেখতেই পাচ্ছেন। এর পাশে ক্রিকেট মাঠ এবং ফুটসালের মাঠ হবে। আছে হকি মাঠও। এ ছাড়া কমপ্লেক্সে যে ভবন তৈরি হচ্ছে সেখানে দুটি সুইমিং পুল, তিনটি স্কোয়াশ কোর্ট ছাড়াও মাল্টিপারপাস কোর্ট থাকবে। থাকবে নানা ইনডোর গেমের সুবিধা। এই বিল্ডিংটি তৈরি করতে খরচ হবে ৬০ কোটি টাকার মতো।’ প্রথম ডিজাইনে ৫৪ বিঘাতেই ছিল সব। পরিবর্তিত ডিজাইনে জায়গা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০০ বিঘা। সেখানেই রাখা হয়েছে হকি মাঠ, আটটি ফুটসাল মাঠ এবং বসুন্ধরা কিংসের ক্লাব ভবন।

ডিজাইন বদলানোর অন্যতম কারণ ফুটবল মাঠের আধুনিকায়ন। বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান বলেন, ‘আগে ফুটবল মাঠে গ্যালারির পরিকল্পনা ছিল না। নতুন ডিজাইনে সেখানে ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারি রাখা হয়েছে, যাতে এক মৌসুম পর আমরা এটিকে হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। এটিকে বসুন্ধরা কিংস ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের হোম ভেন্যু হিসেবে এরই মধ্যে ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।’ এখন বসুন্ধরা কিংসের হোম ভেন্যু নীলফামারী স্টেডিয়াম আর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে নিজেদের ভেন্যু করে প্রিমিয়ার লিগ খেলছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। এক মৌসুম পর থেকে দুই ক্লাব দলেরই হোম ভেন্যু হবে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স। এর ফুটবল মাঠ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে মাস তিনেক আগে। এখন তার অর্ধেকটা ভরে গেছে সবুজ ঘাসে, বাকিটাও তৈরি হয়ে যাবে মাস দুয়েকের মধ্যে।

এই মাঠ তৈরি হচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার তত্ত্বাবধানে। তাঁর বিশ্বাস, ‘এটি হবে ঢাকায় সবচেয়ে আধুনিক মাঠ। এর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হবে আধুনিক। মাঠের নিচে দুটি স্তর, একটি নুড়ি-পাথরের আরেকটি জিও টেকের। তা ছাড়া ১৪২টি পাইপ আছে, যেগুলোর মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যাবে দ্রুত। ভারি বৃষ্টির পর পানি নিষ্কাশন পরীক্ষা হয়েছে, ১৫ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে গেছে মাঠের পানি। আশা করি দুই মাসের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে এই মাঠ।’ তবে গ্যালারির কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফুটবলের আন্তর্জাতিক ভেন্যুর কথা ভেবেই তারা ১৫ হাজার আসনের গ্যালারি, উন্নত ড্রেসিংরুম, প্রেসবক্স, ভিআইপি বক্সসহ মাঠের চারদিকে তৈরি হবে একটি কাঠামো।

ফুটবল মাঠের পাশেই থাকবে ক্রিকেট মাঠ। অত বড় গ্যালারি থাকবে না তার, তবে রাখা হবে অন্য সব সুযোগ-সুবিধা। বসুন্ধরা গ্রুপের বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের প্র্যাকটিসের উপযোগী করে ক্রিকেট মাঠকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাদের। এ ছাড়া কমপ্লেক্সে থাকবে আটটি ফুটসাল মাঠ। ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ফুটবল একাডেমি শুরু করা। সেটা করতে সময় লাগবে, তবে বাইরে যেমন ফুটবল স্কুল আছে, সেটা চালু করব এখানে। বিদেশি ফুটবল কোচ রেখে আমরা এই স্থাপনার ভেতর শুরু করব নতুন ফুটবলার তৈরির কাজ’, জানালেন ইমরুল হাসান। মাঠের কাজ আগে শুরু হলেও গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ক্রীড়া কমপ্লেক্স ভবন তৈরির কাজ। এত বড় জায়গাজুড়ে এই কমপ্লেক্স, তবে অন্ধ অনুকরণের ছাপ নেই। নিজস্ব চিন্তার আধুনিকায়নে তৈরি হচ্ছে এই বসুন্ধরা ক্রীড়া কমপ্লেক্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা