kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বললেন অ্যান্ডি মোলস

বাংলাদেশকে ভয় পাই না, সমীহ করি

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশকে ভয় পাই না, সমীহ করি

দুটি দলের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির সময়ের ফারাক দেড় যুগের। বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ১১৪টি আর আফগানরা খেলেছে মাত্র দুটি। সংখ্যাই বলে দেয় দুই দলের পার্থক্য কতখানি। আফগানিস্তানের কোচ অ্যান্ডি মোলস স্পষ্ট করেই বললেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা সমীহ করি, তারা আমাদের ওপরে। তবে ভয় পাচ্ছি না।’

বিশ্বকাপ চলাকালীনই আফগান দলের অন্তঃকলহের কথা এসেছিল গণমাধ্যমে। বাংলাদেশ দলও যে একদম চাঁদের হাট ছিল তা নয়। দুই দলেই নতুন কোচ। বিশ্বকাপের পর আফগান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে ফিল সিমন্সের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ। নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে মাঝের সময়টায় দায়িত্ব পালন করছেন মোলস, “আমি আফগানদের সঙ্গে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে আছি। ওদের অনূর্ধ্ব ১৯, ২৩, ‘এ’ দল সবগুলোর দেখভাল করেছি। আমি শুধু অন্তর্বর্তী দায়িত্বেই আছি, যতক্ষণ নতুন কেউ এসে হাল না ধরছে।” তবে নিয়মিত কোচ না হলেও খেলোয়াড়দের ভালো করেই চেনেন মোলস। তাই কাজ করতে সমস্যা হবে না বলেই জানালেন ওয়ারউইকশায়ারের এই সাবেক পেসার, ‘আমার খুব বেশি চিন্তা নেই। সপ্তাহ দুয়েক আমরা আবুধাবিতে ছিলাম। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। শেষের কয়েকটা দিন স্পিন বোলিং সামলানোর ওপর জোর দিয়েছি। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে খুশি। এখন খেলোয়াড়দের কাজ মাঠে তাদের দক্ষতা দেখানো।’ দেশের মাটিতে টানা তিন টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে ৪০ উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই মোলসের এই প্রস্তুতি, ‘বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ নিয়ে আমি মোটেও অবাক নই। আমি দেখেছি তারা শেষ কয়েকটা টেস্টে কিভাবে দল সাজিয়েছে, একেই বলে ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়া। বাংলাদেশ যদি শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ নিয়ে না নামে তাহলে আমি অবাকই হব।’ যদিও রশিদ খান, জহির খানদের ভোঁতা করে দিতে স্পিনবান্ধব উইকেট নাও করতে পারে বাংলাদেশ, সে ক্ষেত্রে হয়তো পেসারদেরই আধিক্য থাকবে একাদশে। ব্যাপারটা ধোঁয়াশায় রাখছে মোলসকেও, ‘তারা (কিউরেটর) কয়েকটা উইকেট বানিয়েছে, হয়তো আজ (কাল) ঠিক করবে কোন উইকেটে খেলা হবে। আমাদের ১৫ জন ফিট ও যোগ্য ক্রিকেটার আছে। চূড়ান্ত একাদশ আমরা উইকেট দেখেই ঠিক করব।’

মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে আফগানিস্তান, তাই হারজিতের চেয়ে খেলায় উন্নতি করার দিকেই বেশি ঝোঁক মোলসের, ‘আমরা মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে যাচ্ছি। আমাদের আরো বেশি সময় ধরে ব্যাট করতে হবে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্পেলে আরো ভালো বল করতে হবে। মাঠে যেন সব সময় মনোযোগী থাকি সেটা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাটার এই সংস্করণে আমরা একদম শিশু পর্যায়ে। আমরা যদি ভালো না খেলি, সেটাও হবে আমাদের একটা শিক্ষা।’ সব মেনে নিয়েও অঘটনের স্বপ্ন দেখাটা বাদ দিচ্ছেন না মোলস, ‘বাংলাদেশ দলকে আমরা অনেক সম্মান করি, ওরা আমাদের চেয়ে এক ধাপ ওপরে। তবে আমরা ভীত নই, বরং সম্মান করি। তারা অনেক দিন ধরে ঘরের মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলছে। সামনে আমাদের দক্ষতার চরম পরীক্ষা দিতে হবে। যদি আমরা সব কিছু ভালোভাবে করতে পারি, তাহলে সামনের কয়েকটা দিন আমরা দারুণ কিছুই করে দেখাতে পারব।’ বাংলাদেশ যেমন খানিকটা ভাবছে রশিদ খানকে নিয়ে, তেমনি সাকিব আল হাসানকে নিয়েও বাড়তি ভাবনা আছে আফগানদেরও। তবে মোলস বললেন, সাকিবকে আটকানোর চেয়ে সাকিবের মতো হওয়াটাই খেলোয়াড়দের লক্ষ্য হওয়া উচিত, ‘শুধু সাকিব নয়, অনেক বিশ্বমানের ক্রিকেটারই আছে বাংলাদেশ দলে। তার পারফরম্যান্সের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ধারাবাহিকতা। আমরা যখন খারাপ ক্রিকেট খেলি, তখন আমরা অধারাবাহিক। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়দের সাকিবের মতো ধারাবাহিক বানানো।’

আটঘাট বেঁধেই এসেছে আফগানরা। কিছুদিন আগে ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়ার সুবাদে আর বিপিএলের কল্যাণে এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচয় আছে সবারই। ঘূর্ণি বলের ক্যারিশমাও কম নেই। ঘাটতির জায়গাটা ব্যাটিং আর অভিজ্ঞতায়। ব্যাটিংটা আশা জাগালে মোলস তাই অসম্ভব এক স্বপ্ন দেখতেই পারেন!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা