kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবারও রক্তাক্ত রেসিং ট্র্যাক

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবারও রক্তাক্ত রেসিং ট্র্যাক

মুহূর্তেই গতি ওঠে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার। কঠিন সব বাঁকেও গতি কমাতে অনীহা চালকদের। কেউ যদি এগিয়ে যায়! তাই যুগে যুগে গতির নেশায় প্রাণ হারানো ফর্মুলা ওয়ান বা টু ড্রাইভারদের সংখ্যাটা কম নয়। ট্র্যাক রক্তলাল হলো আরো একবার। বেলজিয়াম গ্রাঁপ্রিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২ বছরের তরুণ ড্রাইভার আন্তোয়ান হুবার্ত। এই ট্র্যাকের বিখ্যাত ইউ রোগ বাঁকে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে থাকা তাঁর গাড়ি আছড়ে পড়ে হোর্ডিংয়ে। সেখানেই সব শেষ।

ফর্মুলা টু রেসটির সময় হুবার্তের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগেছিল পাশ দিয়ে যাওয়া আরেক চালক হুয়ান মানুয়েল কোরেয়ার গাড়ির। সৌভাগ্য মানুয়েলের, প্রাণে বেঁচেছেন অল্পে। হেলিকপ্টারে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তবে দুটি পা-ই ভেঙে গেছে ২০ বছর বয়সী এই মার্কিন তরুণের। আপাতত শঙ্কামুক্ত হলেও ট্র্যাকে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বেলজিয়ামে গত পরশু এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাজা একটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে রেসিং জগতে। এই দুর্ঘটনার আগে একই ট্র্যাকে চলছিল ফর্মুলা ওয়ানের বাছাই। বিশ্বসেরা প্রায় সব তারকা অংশ নিয়েছেন তাতে। তাঁদের সামনেই ফর্মুলা টুতে ঘটে যাওয়া এমন ট্র্যাজেডি নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে।

গতকাল ফর্মুলা ওয়ানের রেস শুরুর আগে পালন করা হয়েছে নীরবতা। এ সময় আন্তোয়ান হুবার্তের মা ও ভাই এসেছিলেন একটি হেলমেট নিয়ে। দুর্ঘটনার আগে এই হেলমেট পরেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন হুবার্ত। হৃদয়বিদারক এক পরিবেশ তৈরি হয় তখন। মাইকেল শুমাখারের ছেলে মিক শুমাখার অংশ নিয়েছিলেন এই রেসে। তিনি পাশে এসে সমবেদনা জানান আন্তোয়ান হুবার্তের মা ও ভাইকে। সময়ের অন্যতম সেরা ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভার লুইস হ্যামিল্টনও সমবেদনা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ‘এভাবে তাজা একটি প্রাণের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। শান্তিতে ঘুমাও হুবার্ত।’

ট্র্যাকের ট্র্যাজেডিতে পঞ্চাশের দশকে ১৫ জন, ষাটের দশকে ১৪, সত্তরের দশকে ১২, আশির দশকে চার আর নব্বইয়ের দশকে মারা যান দুজন ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভার। ১৯৯৪ সালে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলিয়ান আর্টন সেনা ও রোলান্দ রাযেনবার্গার মারা যান পর পর দুই দিনে। গত ২০ বছরে মৃত্যুর সংখ্যাটা পাঁচ। সব শেষ ২০১৭ সালে মারা যান ফরাসি দাভিদ ফেরার। তাঁর পথ ধরে না ফেরার দেশে আরেক ফরাসি আন্তোয়ান হুবার্ত। এএস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা