kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেই গোল

রোমাঞ্চের শেষ আত্মঘাতী গোলে

ইউরোপিয়ান ফুটবল

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রোমাঞ্চের শেষ আত্মঘাতী গোলে

অবিশ্বাস্য লড়াই। চোখ-ধাঁধানো দ্বৈরথ। জুভেন্টাসের তিন গোলে এগিয়ে যাওয়া। নাপোলির সব গোল ফিরিয়ে দেওয়া। এমন এক ম্যাচের শেষ হলো কিনা আত্মঘাতী গোলে! তাতেই হূদয় ভাঙে নাপোলির। তাতেই মৌসুমের প্রথম মহারণ ৪-৩ গোলে জিতে হাসিমুখে শেষ করতে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দল।

আর ফুটবলপ্রেমীরাও পেয়ে যায় দীর্ঘদিন স্মৃতির জাবর কাটার মতো ৯০ মিনিটের গল্প।

আসলে গল্পটি ৯০ মিনিটের নয়। এর চূড়ান্ত বাঁকবদল নির্ধারিত পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। জুভেন্টাসের পাউলো দিবালা ফ্রি-কিকে বল ভাসান নাপোলির পেনাল্টি এরিয়ায়। সবার আগে ছুটে যান কালিদু কুলাবালি। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কোনো চাপ নেই, সহজ ক্লিয়ারেন্সই প্রত্যাশিত সেনেগালের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের কাছ থেকে। অথচ বলে ঠিকঠাক লাথি মারতে ব্যর্থ তিনি; বল উল্টো উড়ে জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে। জুভেন্টাসের আনন্দ-আলোয় তখন চাপা পড়েছে নাপোলির বিষণ্ন আঁধার। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুলাবালি, ‘এই আত্মঘাতী গোল আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। কারণ আমরা দারুণভাবে ম্যাচে ফেরার পর তা হলো। সে জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু এটি তো মেনে নিতেই হবে।’

মেনে নেওয়াটা অবশ্য কঠিন। বিশেষত অমন প্রত্যাবর্তনের পর। সিরি ‘এ’কে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা জুভেন্টাসকে গত কয়েক মৌসুম ধরে যা কিছুটা বেগ দিচ্ছে এই নাপোলিই। এবারের পূর্বাভাসও তা-ই। লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে এ দুই দল মুখোমুখি হওয়ায় রোমাঞ্চ ছিল কিছুটা বেশি। সে লড়াইকে জুভ একতরফা বানিয়ে ফেলে তিন গোলে। দানিলো, গনসালো হিগুয়াইনের পর রোনালদোর দারুণ গোলে এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। ম্যাচের মাত্র আধঘণ্টা বাকি থাকায় নাপোলির ফিরে আসার সম্ভাবনার কথা ভাবেননি তেমন কেউ।

কিন্তু এক মিনিটের মধ্যে মানোলাস ও লোসানোর দুই গোলে ম্যাচে ফেরে উত্তেজনা। সেই শিখরে পৌঁছে ৮১তম মিনিটে জিওভান্নি দি লরেনসোর গোলে। ৩-৩ সমতা। এরপর ইনজুরি সময়ে কুলাবালির আত্মঘাতী গোলের নাটক। ‘এটি ছিল রোলার কোস্টারের মতো। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি বলে ওরা ফিরতে পারে। কিন্তু ভাগ্য ভালো যে শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতেছি’—জুভ গোলদাতা হিগুয়াইনের কণ্ঠে স্বস্তি। আর নাপোলি কোচ কার্লোস আনচেলত্তির হতাশা যাচ্ছেই না, ‘এটি মোটেই ইতিবাচক পারফরম্যান্স না। কারণ ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় ভালো করতে পারিনি। পরে ম্যাচে ফিরলেও জানতাম যে, জুভেন্টাস দল কতটা ভালো। শেষ পর্যন্ত সুযোগ হারিয়েই আমরা ম্যাচটি হেরেছি।’

সিরি ‘এ’তে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট জুভেন্টাসের। আর প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া এসি মিলান পরশু ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রেসিয়ার বিপক্ষে।

এদিকে স্প্যানিশ লা লিগায় নতুন মৌসুমের তিন ম্যাচেই তিন রকম ফল দেখল বার্সেলোনা। প্রথম রাউন্ডে হারের পর বিস্ফোরক জয়, এরপর পরশু ওসাসুনার সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র। ইনজুরি কারণে মাঠের বাইরে থাকায় লিওনেল মেসিকে সত্যি বড্ড মিস করছে বার্সা।

পরশুর ম্যাচটি হতে পারত শুধুই আনসু ফাতির। বার্সেলোনার এই উইঙ্গার গোল করেছেন ১৬ বছর ৩০৪ দিন বয়সে। বার্সেলোনার ক্লাব ইতিহাসেরই কনিষ্ঠতম গোলদাতা তিনি। ১৭ বছর ৫৩ দিন বয়সে গোল করা বোয়ান কিরকিচকে ছাড়িয়ে গেছেন ফাতি। আর স্প্যানিশ লিগ ইতিহাসের তৃতীয় কনিষ্ঠতম গোলদাতা হিসেবে নাম লেখান নিজের।

পিছিয়ে পড়া বার্সাকে ফাতি সমতায় ফেরান ৫১তম মিনিটে। আর ৬৪তম মিনিটে আর্তুরের গোলে দল যায় এগিয়ে। কিন্তু ৮১তম মিনিটে জেরার্দ পিকের হ্যান্ডবলে পাওয়া পেনাল্টিতে রবার্ত পিরেস গোল করলে ড্রয়ের হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় বার্সাকে। তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাত নম্বরে ছিল এর্নেস্তো ভালভের্দের দল।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও টটেনহামের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল। এমিরেটস স্টেডিয়ামের ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন দশম মিনিটে এগিয়ে দেন স্পারদের। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে করা গোলে ব্যবধান ২-০ করে  টটেনহাম। তবে আলেকজান্দ্রে ল্যাকাজেত্তে এবং পিয়েরি-এমেরিক অবামেয়াংয়ের গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে গানাররা।

ওদিকে লিভারপুলের জয়রথ ছুটছেই। ক্রিস উডের আত্মঘাতী গোলের পর সাদিও মানে ও রবের্তো ফিরমিনোর লক্ষ্যভেদে পরশু বার্নলিকে ৩-০ গোলে হারায় তারা। নতুন মৌসুমের চার ম্যাচে এটি লিভারপুলের চতুর্থ জয়। সঙ্গে গত মৌসুমের শেষ ৯ জয় মিলিয়ে লিগে টানা ১৩ জয় হলো লিভারপুলের। যা ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটিও। সের্হিয়ো আগুয়েরোর জোড়া গোলের সঙ্গে কেভিন দি ব্রুইন ও বের্নার্দো সিলভার লক্ষ্যভেদে ৪-০ গোলে হারায় ব্রাইটনকে।

জার্মান বুন্দেসলিগায় বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখেছে আরবি লিপজিগ। তৃতীয় ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ দ্বিতীয় জয় পেয়েছে পরশু মেইঞ্জকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। আর আগের দুই রাউন্ডে জেতা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড অঘটনের শিকার হয়েছে ইউনিয়ন বার্লিনের কাছে ১-৩ গোলে হেরে। এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা