kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নারী হকি দলের প্রথম সফর

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী হকি দলের প্রথম সফর

আগামী ৯ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে হবে জুনিয়র এএইচএফ কাপের আসর। সিঙ্গাপুর, হংকং, শ্রীলঙ্কা, চায়নিজ তাইপে ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ঢুকতেই রিতু, মনি, খুশি, সুমিদের বড় বড় পোস্টার স্বাগত জানাল। বাংলাদেশ মহিলা হকি দলের খেলোয়াড় তাঁরা সবাই। কোনো কীর্তি এখনো গড়া হয়নি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো বড় দলকে হারাননি বা কোনো ট্রফি জিতেও আসেননি। মাঠের একপাশে বড় প্যান্ডেল গড়ে তবু তাঁদের ঘিরে সংবর্ধনার মতো আয়োজন। এমন সংবর্ধনা আয়োজনের কারণ বাংলাদেশের প্রথম মহিলা জাতীয় হকি দল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছে।

আগামী ৯ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে হবে জুনিয়র এএইচএফ কাপের আসর। সিঙ্গাপুর, হংকং, শ্রীলঙ্কা, চায়নিজ তাইপে ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্যই ভারতীয় একাডেমি দলের বিপক্ষে ছয়টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। হকি ফেডারেশন মেয়েদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট করলেও জাতীয় দল গড়ার প্রথম প্রক্রিয়াটি শুরু হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে। তারাই প্রথম ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে সমন্বিত একটি দল গড়ে, যারা ঢাকা একাদশ নামে কলকাতার একটি ক্লাব দলের বিপক্ষে বেশ কিছু ম্যাচও খেলেছে গত বছর। এরপরই ফেডারেশন উদ্যোগী হয় জাতীয় দল গড়ার। ঢাকা একাদশের হয়ে খেলা অনেকেই ডাক পান এএইচএফ কাপের জন্য করা অনূর্ধ্ব-২১ দলে। ফেডারেশন ভারত থেকে নিয়ে আসে দ্রোণাচার্য খ্যাত অজয় কুমার বানসালেকে। তাঁর সঙ্গেই ঢাকায় আসে ভারতীয় একাডেমি হকি দল। যারা ভারতীয় হকির দীর্ঘ ঐতিহ্য বহন করছে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে পথচলা শুরু করা বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে তারা সত্যিকার পরীক্ষা হয়ে দেখা দেয়। ৬ ম্যাচে ৩২ গোল হজম করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ৬-০তে হেরে সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশ দল প্রথম গোলই পায় তৃতীয় ম্যাচে, সেই ম্যাচে রিতু, সুমিরা ৩ গোল করলেও ৯ গোল হজম করতে হয়েছে। পরের ম্যাচেই ২-১ ব্যবধানে হার ছিল। শেষ ম্যাচে অবশ্য আবার ৬-০। অজয় কুমার বানসালে তবু প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েদের, ‘আমি শুরুতে যখন আসি তখন মোটেও আশাবাদী ছিলাম না এই মেয়েদের নিয়ে। ভেবেছিলাম ওরা হয়তো মাত্রই স্টিক ধরা শিখেছে। কিন্তু ওদের নিয়ে কাজ করে আমি সত্যি মুগ্ধ হয়েছি। ভারতীয় একাডেমির খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া স্কিলফুল একটি দলের বিপক্ষে ওরা যেভাবে পারফরম করেছে, তা সত্যি আমাকে আশাবাদী করেছে। এএইচএফ কাপে ম্যাচের ফল কী হলো সেদিকে চোখ রাখাটা আমাদের ঠিক হবে না। প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছে, খেলার এই অভিজ্ঞতাই হবে তাদের জন্য বড় ব্যাপার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা