kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আফগান ব্যাটিং দেখে অন্য হিসাব

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগান ব্যাটিং দেখে অন্য হিসাব

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অতিথি দল আসে এবং নিয়মানুযায়ী প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে। তাতে কখনো কখনো স্থানীয় দলের হয়ে নেমে যেতে দেখা গেছে এমনকি জাতীয় দলের কাউকে কাউকেও। তবে এবার সচেতনভাবেই দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের পক্ষে নামানো হয়েছে একেবারে আনকোরা ক্রিকেটারদের। যাতে স্বাগতিকদের বিষয়ে কোনো রকম পূর্ব ধারণাই না পায় সফরকারীরা।

সে জন্যই টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া আফগানদের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের হয়ে নতুন বল হাতে নিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা ও ডানহাতি মানিক খান। তাঁর মতো আরেক তরুণ পেসার সুমন খানও বোলিং করেছেন। আরেক বাঁহাতি সালাউদ্দিন শাকিলও হাত ঘুরিয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টের আগে বাংলাদেশের রণপরিকল্পনার পুরোপুরি বিপরীত বোলিংসজ্জাও বিসিবি একাদশের। এর বিপক্ষে কোনো উইকেট না হারিয়েই আফগানদের প্রথম সেশন পার করে দেওয়া এবং দুই ওপেনারের ১৩১ রানের জুটিতে এই অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনের দায় দেখতে পারেন অনেকেই। কিন্তু এই আফগানিস্তান দলের অনেকের বিষয়েই পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে মিনহাজুল আবেদীন সেরকম কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন না। বরং কাল চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই ওপেনার ইহসানউল্লাহ জানাত ও ইব্রাহীম জাদরানের ব্যাটিং সমীহই আদায় করল প্রধান নির্বাচকের, ‘খুব দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছে। কোনো ফালতু শটই খেলেনি।’

দুজনকেই স্থানীয় দলের কেউ আউটও করতে পারেনি। ইহসানউল্লাহ ১৩৭ বলে ৬২ রান করে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। অন্য ওপেনার ইব্রাহীমও ১২৪ বলে ৫২ রান করে অবসর নেন। তবে তাঁদের স্বেচ্ছা অবসরের পর আর সেভাবে ভালো কোনো জুটি গড়তে পারেনি আফগানরা। মূলত ব্যাটসম্যান হলেও আল-আমিন জুনিয়রের অফস্পিনে (৪/৫১) প্রথম দিনে ২৪২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে রশিদ খানের দল। যদিও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আফগানদের মারদাঙ্গা ক্রিকেট নিয়েই ধারণা বেশি স্বচ্ছ সবার। তাই দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে তাদের সামর্থ্য নিয়ে অস্পষ্টতাই থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি তা নয়। কারণ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিশ্চিতভাবেই এরই মধ্যে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে গেছেন নির্বাচকদের কাছ থেকে। কিছুদিন আগে আফগানিস্তান ‘এ’ দল যে বাংলাদেশে এসে দুটি আন-অফিশিয়াল টেস্ট ম্যাচ খেলে গিয়েছিল। খেলেই যায়নি শুধু, দুই ম্যাচের সিরিজও জিতেছিল ১-০তে। ওই সিরিজ থেকেই দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচের জন্য আফগানদের উঠে-পড়ে তৈরি হওয়ার ব্যাপারটি নজর কেড়েছিল নির্বাচকদের। সেই বার্তা পৌঁছেও গেছে বাংলাদেশ শিবিরে।

আফগানদের খেলার ধরন নিয়ে প্রচলিত ধারণা বা বিশ্বাসের প্রতিফলন তাঁর চোখের দেখায় ছিল না বলেই সেই সময় দাবি করেছিলেন আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘এই আফগানিস্তান একটু ভিন্ন ক্রিকেট খেলছে। আমরা একটু অবাকই হচ্ছি। কারণ আফগানিস্তানের মূল দল স্লগ করে খেলে। মারা শুরু করে। এরা কিন্তু এ রকম খেলছে না। বরং প্রথাগত ক্রিকেট যদি বলি, এরা খেলছে সেটিই। একদম ভিন্ন রকম খেলছে।’ তাঁর কথারই প্রতিধ্বনি কাল মিনহাজুলের কথায়ও, ‘‘এই দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই আমরা চার দিনের ম্যাচে (বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে) দেখেছি। বেশ ডিসিপ্লিনড ব্যাটিং করে। এই ম্যাচে এখনো বোলিং দেখা হয়নি। তবে চার দিনের ম্যাচে দেখেছি। ওদের বোলিংও ডিসিপ্লিনড। ওরাও টেস্ট ক্রিকেটের জন্য তৈরি হয়ে যাচ্ছে। ওদের খেলার ধরনেও বেশ পরিবর্তন এনেছে তাই।’’

খুলনায় প্রথম চার দিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে ৭ উইকেটে হারানোর পথে রশিদের দলের আরেক লেগস্পিনার কায়েস আহমেদও স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানদের ফেলেছিলেন চরম ভোগান্তিতে। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। একই ম্যাচে অপরাজিত ৭৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন ওপেনার ইব্রাহীম জাদরানও। চট্টগ্রামে বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেছিলেন ৯৬ রানের ইনিংসও। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অপরাজিত ৮৬ ও ১২৭ রানের ইনিংস খেলার পথেও উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকার মানসিকতার প্রমাণ দিতে পেরেছিলেন তিনি। সেই সিরিজে সফল অনেকেই তাই জায়গা করে নিয়েছেন টেস্ট দলেও। এই ফরম্যাটের জন্য চোখের সামনেই আফগানদের বদলে যেতে দেখা মিনহাজুল নিশ্চিত যে, ‘পূর্ব ধারণা থেকে বলতে পারি যে আমাদের জন্যও কাজ সহজ হবে না।’ তাই বলে দিচ্ছেন, ‘আমাদেরও দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলতে হবে।’

দায়িত্বশীলতার দাবিটা সাকিব আল হাসানদেরও এরই মধ্যে শুনে ফেলার কথা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা