kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টি-টোয়েন্টি মাথায় রেখেই টেস্টে বিশ্রামে মুস্তাফিজ

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টি-টোয়েন্টি মাথায় রেখেই টেস্টে বিশ্রামে মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ইনজুরির কারণ দেখিয়ে টেস্ট স্কোয়াডে রাখা হয়নি মুস্তাফিজুর রহমানকে। অথচ স্কোয়াড ঘোষণার পরদিনই কাল লাল-নীল দলের প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং করেন এই পেসার। যদিও তা মাত্র এক ওভার। পরে ফাস্ট বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টের কথাতেই স্পষ্ট, টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্যই টেস্ট থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে কাটার মাস্টারকে।

‘এখন টেস্ট খেললে মুস্তাফিজের ইনজুরি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামনে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে। আমরা মুস্তাফিজকে এক টেস্টে পাওয়ার চেয়ে সেখানে আরো বেশি সময়ের জন্য পেতে চাই। এ কারণেই ওকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ও খেলবে’—বলেছেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। টেস্টের চেয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার দর্শনের সঙ্গে এরই মধ্যে পরিচয় হয়ে গেছে সাবেক এই প্রোটিয়া পেসারের। মুস্তাফিজকে বিশ্রাম দেওয়ায় সতর্কতার ব্যাপারও দেখছেন তিনি, ‘এই মুহূর্তে মুস্তাফিজের ছোটখাটো ইনজুরি আছে। সতর্কতা হিসেবে আমরা ওকে বিশ্রাম দিয়েছি। কারণ সামনে আমাদের অনেক সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে হবে। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। মুস্তাফিজের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কারণ টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ফরম্যাটে ও আমাদের সেরা বোলার। আজ এক ওভার বোলিং করেছে; তবে ঝুঁকি থাকায় আর করেনি। সাদা কিংবা লাল বলের ক্রিকেটে ও দুর্দান্ত বোলার।’ টেস্ট সিরিজে এই পেসারকে মিস করার বিষয়ে অবশ্য সংশয় নেই তাঁর, ‘কে না মুস্তাফিজকে মিস করবে? কেউ ওকে মিস না করলে সেটি তার সমস্যা। ওকে মিস করলেও এর সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। কেউ ইনজুরিতে পড়লে তার বিকল্প তৈরি রাখতে হবে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সে টেস্ট শুরু হবে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ঢাকা পর্বের অনুশীলন কাল শেষ করেছে সাকিব আল হাসানের দল; আজ বিকেলে তাঁরা চলে যাবে চট্টগ্রামে। প্রস্তুতি ম্যাচে আগের দিন সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদ উল্লাহ, কাল নিলেন তিন উইকেট। পেসার আবু জায়েদও নেন তিন উইকেট। আর লাল দলের ২৬৮ রানের জবাবে কাল সবুজ দল অল আউট হয়ে যায় ১২৫ রানে। বলার মতো স্কোর মোসাদ্দেক হোসেন (৫১) ও মমিনুল হকের (৩৫)।

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ কজন পেসার নিয়ে একাদশ সাজায়, সেটি দেখার। ফাস্ট বোলিং কোচ ল্যাঙ্গাভেল্ট অবশ্য তা নিয়ে খুব চিন্তিত নন, ‘এটি অধিনায়কের ওপর নির্ভর করে। তিনি যদি বলেন, একাদশে এক সিমার খেলাতে চান, তাহলে সেটি তাকে প্রস্তুত করে দেওয়াই আমার কাজ। আমি একজন ফাস্ট বোলার, অবশ্যই চাই একাদশে যেন আরো বেশি পেসার থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকে কন্ডিশনের কথা মাথায় রাখতে হবে এবং সে অনুযায়ী খেলতে হবে।’ অল্প কিছুদিন হয় কাজ করছেন তিনি। এর পরও শিষ্যদের উন্নতিতে খুশি এই দক্ষিণ আফ্রিকান, ‘প্রথম দিন দেখেছি, ওরা প্রতিটি বলে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার কাছে কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা এবং টানা ১২টি বল ঠিক জায়গায় করতে পারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ১২টি ডট বল করলে সাধারণত উইকেট পাওয়া যায়। কিন্তু আমি জানি, এখানকার কন্ডিশন পেস বোলারদের জন্য খুব কঠিন। কিন্তু আমরা যখন বাইরের দেশে যাব, ভারতে গেলেই তো ওরা আমাদের জন্য সিমিং ট্র্যাক করবে। সে জন্য আমাকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করার জন্য বোলারদের তৈরি করতে হবে।’ ধারাবাহিকতার ব্যাখ্যাও রয়েছে তাঁর কাছে, ‘ধারাবাহিকতা মানে ছয় বলে চারটি ঠিক জায়গায় করা, ব্যাটসম্যানকে খেলানো, ওদের সামনে নিয়ে আসা। আমার সবচেয়ে বড় মনোযোগ এখন সেখানে। টেস্ট ক্রিকেটে গুড লেন্থে ধারাবাহিকভাবে বল করতে হবে। ভেরনন ফিল্যান্ডারের মতো ভালো বোলারের কিন্তু অত গতি নেই, কিন্তু ও তাঁর লেন্থে খুব ধারাবাহিক। পৃথিবীর যেকোনো বোলারের চেয়ে ও ব্যাটসম্যানদের বেশি খেলাতে বাধ্য করে।’

সব মিলিয়ে সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট ল্যাঙ্গাভেল্ট, ‘পেসাররা আমার ধারণাগুলো ধরতে পারছে। সিমাররা বাউন্স করাচ্ছে এবং ঠিক জায়গায় বল করছে, যা নিয়ে গেল সপ্তাহ থেকে কাজ করছি। সিমাররা বেশ উন্নতি করছে, যা আমার জন্য রোমাঞ্চকর। আমার জন্য সন্তুষ্টির জায়গা, ওরা নতুন বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। পুরনো বল নিয়ে আরো অনেক কাজ করার রয়েছে। সব মিলিয়ে এই এক সপ্তাহে কিংবা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে যা দেখেছি, তাতে আমি আনন্দিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা