kalerkantho

অবিশ্বাস্য স্টোকসে অকল্পনীয় জয়

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবিশ্বাস্য স্টোকসে অকল্পনীয় জয়

বিশেষণ নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের একটু বাড়াবাড়ি আছে। যেকোনো কিছুর সঙ্গেই ‘শতাব্দীসেরা’ উপমাটা জুড়ে দিতে তারা একদমই সময় নেয় না। তবে বেন স্টোকসের ইনিংসটাকে শুধু ‘শতাব্দীসেরা’ কেন, সর্বকালের সেরা ঘোষণা দিলেও অমত করার উপায় নেই। ইস্পাতকঠিন স্নায়ুর সঙ্গে সিংহের অদম্য সাহস আর কিছুটা ভাগ্য, সবই ছিল এই অলরাউন্ডারের। তাঁর অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংসে ভর করেই তো অসম্ভব এক টেস্ট জয়ের দেখা পেল ইংল্যান্ড। অ্যাশেজে ফিরল ১-১ সমতা।

 স্টোকস বীরত্বে চতুর্থ ইনিংসে নিজেদের রান তাড়ায় নতুন ইতিহাস গড়ে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ইংলিশরা। ১৯৮১ সালে এই হেডিংলিতেই ফিরে আসার অনন্য নজির গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। আর এবার স্টোকসের অবিশ্বাস্য কীর্তিতে সেই সোনালি অতীত ফিরিয়ে এনে প্রথম ইনিংসে ৬৭ রানে গুঁড়িয়ে যাওয়ার লজ্জা ঘুচিয়ে অকল্পনীয় জয় পেল জো রুটের দল।

গতকাল চতুর্থ দিনে ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ২০৩ রানের, অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ৭ উইকেটের। শুরুতেই জয়ের পথের সবচেয়ে বড় কাঁটা জো রুটকে উপড়ে ফেলেন নাথান লায়ন। ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে রুট বিদায় নেন ৭৭ রান করে। এরপর জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে স্টোকস গড়েছেন ৮৬ রানের মূল্যবান জুটি। এই জুটিটাই ভরসা দিচ্ছিল ইংল্যান্ডকে। কিন্তু ৮ রানের ভেতর বেয়ারস্টো ও বাটলারের বিদায়ে লেজটা উন্মুক্ত হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। ওকস-ব্রডরা পারেননি বল-ভরসা জোগাতে। লিচকে সঙ্গে নিয়ে একাই অসম্ভব এক লড়াই চালিয়ে যান লর্ডসেও টেস্ট বাঁচানো ব্যাটিং করা স্টোকস। শেষ উইকেটে জ্যাক লিচকে নিয়ে মাত্র ১০.২ ওভারে ৭৬ রান যোগ করেন তিনি। যেখানে স্টোকসের একার অবদান ৭৪ রান। এমন বীরোচিত ব্যাটিংই করেছেন কাল হেডিংলিতে স্টোকস।

রুট বিদায় নেওয়ার পরও স্টোকস-বেয়ারস্টোর ব্যাটে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ইংল্যান্ড। রেকর্ডভাঙা এক জয়ের খুব কাছে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে রুটের দল। আচমকা লাফিয়ে ওঠা বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় বেয়ারস্টোর, মাত্র ১ রানেই রান আউট বাটলার। এখানেই মেরুদণ্ডটা ভেঙে যায়। এরপর আর্চারকে নিয়ে খানিকটা লড়াই চালিয়েছেন স্টোকস। শতরান তুলে নিয়ে শেষটায় তিনিই হয়ে থাকেন জয় আর অস্ট্রেলিয়ার মাঝে একমাত্র বাধা। সেই বাধা উপড়ে ফেলতে পারেননি জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্সরা। অথচ সুযোগ এসেছে একাধিক। মার্কাস হ্যারিস ক্যাচ ছেড়েছেন। মার্নাস লাবুশানে উড়ে আসা বলটা জমাতে পারেননি হাতে। এমনকি ৯৯ বিশ্বকাপের ডোনাল্ড-ক্লুজনার কাণ্ডও ঘটার উপক্রম হয়েছিল। লিচ বের হয়ে চলে গিয়েছিলেন ১৯ গজ, ফিরে আসার আগেই স্টাম্পটা ভেঙে দিতে পারতেন নাথান লায়ন। কিন্তু থ্রো থেকে বলটাই যে ধরতে পারেননি হাতে। রিভিউও শেষ, না হলে একটা সিদ্ধান্তে রিভিউ নিলে আউট হতে পারতেন স্টোকস। কিন্তু ওই যে, ভাগ্য সাহসীদের সঙ্গেই থাকে! ৩৬৯ রান চতুর্থ ইনিংসে তাড়া করার সাহস দেখিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৬৭ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জার পর টুইটারে যাঁদের সমালোচনায় মুখর ছিলেন সাবেকরা, তাঁরাই ব্যস্ত স্তবগানে! ম্যাচ শেষের মিনিট পাঁচেক পর টুইটার হ্যাশট্যাগ বলছে তিন লাখ ১০ হাজার টুইটার ব্যবহারকারী ব্যবহার করেছেন #বেনস্টোকস!

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে লিচ উইকেটে আসার পর সব দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন স্টোকস। পারতপক্ষে এক রান নেননি, ওভারের শেষ বল বা পঞ্চম বল বাদে। বেশি বেশি মেরেছেন বাউন্ডারি। ৫০ করতে নিয়েছিলেন ১৫২ বল। কিন্তু শেষবেলায় রুদ্রমূর্তি। হ্যাজেলউডের এক ওভারে চার মেরে শতক পূরণের পর দুটি ছয়ে কমিয়ে আনলেন ব্যবধান। পরের ওভারে কামিন্সের বলে  পর পর দুই চার। তার পরের ওভারে লায়নের বলে ছয়, মিসহিট হলেও বল যায় সীমানা পেরিয়ে। এরপরই সেই রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া লায়নের, ভুল রিভিউ নিয়ে সুযোগ হাতছাড়া করা পেইন পরের বলে পস্তান রিভিউ না থাকার আক্ষেপে। লায়নের বলে যে আউট ছিলেন স্টোকস!

কামিন্সের বলে কভার অঞ্চল দিয়ে চার মেরে নিজেকে নিল আর্মস্ট্রংয়ের পর্যায়ে তুলে নিলেন স্টোকস। বিশ্বকাপ ফাইনালের অমন ইনিংসের পর এভাবে অ্যাশেজে জেতানো! স্টোকসকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম যদি সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার খেতাবও দিয়ে দেয়, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এএফপি

 

 

মন্তব্য