kalerkantho

আফগানদের জন্য ‘ট্রু’ উইকেট!

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগানদের জন্য ‘ট্রু’ উইকেট!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এমন এক দলের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ, যাদের বিপক্ষে সাফল্যে পুরস্কার নেই তবে ব্যর্থতায় তিরস্কার ঠিকই আছে। এর আগে ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের কাছে কয়েকবারের হারে সেটি আরো ভালো করে বুঝেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামার আগে তাই বাড়তি সতর্কতার দাবি না থেকে পারেই না। দলের অন্যদের মতো মেহেদী হাসান মিরাজও সেটি উপেক্ষা করছেন না। যে কারণে নিজেদের এগিয়ে থাকার অনেক কারণ দেখানোর পাশাপাশি এও বলে রাখলেন, ‘আমরা কিন্তু ওদের থেকে অনেক এগিয়ে আছি। অভিজ্ঞতার দিক থেকে যেমন, তেমনি অনেক দিক থেকেই। তার পরও যতই এগিয়ে থাকি, যতই অভিজ্ঞতা থাকুক, আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের সবাইকে পারফরম করতে হবে।’

রশিদ খানদের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর আগে সম্মিলিত পারফরম্যান্সের দাবি আরো জোরালো হয়ে উঠেছে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফরের ব্যর্থতায়। কাজেই এমন কিছু করা চাই, যাতে সেই ব্যর্থতা ভুলে আবার সামনে তাকানো যায়। নতুন হেড কোচের অধীনে নতুনভাবে সব শুরুর অভিযানেও আবার প্রচলিত পথ ধরা যাচ্ছে না। একেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের অনিশ্চিত চরিত্রের কারণে এখানে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট খেলার ঝুঁকিতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। আবার যেখানে যাচ্ছে, সেখানেও বরাবরের মতো স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষের টুঁটি চেপে ধরার সুযোগ কম। কারণ লেগ স্পিনার রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগান দলের দুই অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী ও মুজিব উর রহমানও পাল্টা স্বাগতিকদের গলার ফাঁস হতে সক্ষম। কাজেই ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নিতে গিয়েও সতর্ক হতে হচ্ছে সাকিব আল হাসানদের। গত পরশু টেস্ট অধিনায়কের সঙ্গে নির্বাচক ও নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সভায় ঠিক হওয়া রণকৌশল নিয়ে কিছুটা ধারণাও পাওয়া গেছে। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খান জানিয়েছেন, ‘ট্রু উইকেট’ই বেছে নেওয়া হবে। যেখানে সবুজের আচ্ছাদন থাকবে। পেস বোলাররাও যাতে সুবিধা পান এবং একই সঙ্গে ব্যাটসম্যানরাও রান করতে পারেন। 

সেরকম কিছু হলে মিরাজের মতো অফ স্পিনারদের সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। আবার দেশের মাটিতে টেস্টে বরাবরই পেসারদের কম গুরুত্ব দিয়ে আসা বাংলাদেশ এবার এই ধরনের বোলারদেরও ফেলছে নতুন পরীক্ষার মধ্যে। তবে উইকেট যেমনই হোক না কেন, দলের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে তা বাধা হবে না বলেই মনে করেন মিরাজ, ‘স্পিনার হিসেবে আমরা সব কন্ডিশনেই খেলতে অভ্যস্ত। আমাদের যে উইকেটই দিক না কেন আমরা প্রস্তুত। আসলে টেস্ট ক্রিকেট সব সময় চ্যালেঞ্জ নিয়েই খেলতে হয়। যে ধরনের উইকেটই হোক না কেন, চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই নিজেদের কাজ সহজ করে তুলতে চান এভাবে, ‘যার যার জায়গায় পারফরম করতে হবে। আমরা যদি নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে পারফরম করি, তাহলে কাজটি সহজ হয়ে যাবে।’ প্রভাববিস্তারী ক্রিকেটে আফগানদের চেয়ে নিজেদের এগিয়ে থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণও দিতে চান, ‘অবশ্যই আমরা আধিপত্য বিস্তার করে খেলার চেষ্টা করব। সেভাবেই আমরা কাজ করছি। ওদের থেকে আমরা অনেক এগিয়ে থাকব। আমরা ভালো ক্রিকেট খেললে দিনের শেষে ওরা আমাদের বিপক্ষে ওই রকম কিছুই করতে পারবে না।’ সেই সঙ্গে এই তরুণ অলরাউন্ডার আরো যোগ করেছেন, ‘তার পরও খেলায় হার-জিত থাকবে। ভালো সময়-খারাপ সময় যাবে। আমাদের চাওয়া থাকবে, আমরা যেন ভালো ক্রিকেট খেলি এবং প্রমাণ করি যে ওদের চেয়ে আমরা ভালো দল। সেই চেষ্টাই আমরা করছি। সে জন্য করছি কঠোর পরিশ্রমও।’

আফগানদের স্পিন গভীরতা বাংলাদেশের সমান্তরাল নয় বলেও বিশ্বাস মিরাজের। তাঁর কথা, ‘আমাদের বোলারদের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। সাকিব ভাই আছেন। আর একটি উইকেট পেলে তাইজুল ভাইয়ের ১০০ টেস্ট উইকেট হবে। আমারও তিন-চার বছরের অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি বলব, ওদের থেকে আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ভালো।’ এই যুক্তিও দেখিয়েছেন যে, ‘আফগান স্পিনাররা ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টিতে রান বাঁচিয়ে বল করে। এ জন্য হয়তো ব্যাটসম্যানরা চড়াও হয়। টেস্টে কিন্তু এ রকম কোনো ব্যাপার নেই যে জোর করে মারতে বা চড়াও হতে হবে। যতক্ষণ ভালো করবে, ততক্ষণ টিকে থাকবে। ওরা কতটুকু করবে বা কতটুকু প্রস্তুতি নিয়ে আসবে, সেটি ওরাই ভালো জানে। কিন্তু আমি মনে করি, ওদের থেকে টেস্ট ক্রিকেটে আমরা অনেক এগিয়ে আছি। আমরা শতভাগ দিতে পারলে ফলাফল আমাদের দিকেই আসবে।’

 

মন্তব্য