kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সাকিবকে টপকানোর হাতছানি তাইজুলের

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাকিবকে টপকানোর হাতছানি তাইজুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাকিব আল হাসান, নাইম হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম। চট্টগ্রামে সব শেষ খেলা টেস্টে চার স্পিনার ছিল বাংলাদেশের একাদশে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর নভেম্বরের সেই টেস্টে সবাইকে ছাপিয়ে যান তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদেন গুঁড়িয়ে দেন ১৩৯-এ। সাকিব আল হাসান দুই ইনিংস মিলে পান ৫ উইকেট। তখনই সাকিবকে ছাপিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত হয়ে পড়েছিলেন তাইজুল, ‘সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কারো তুলনা করা যায় না। তবু সাকিব ভাই থাকার পরও যখন উইকেট পাই খুব ভালো লাগে।’

সেই চট্টগ্রামে বাংলাদেশের পরের টেস্ট আফগানিস্তানের সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর। এর আগে সাকিব আল হাসানকে জড়িয়ে আরো একবার প্রশ্ন শুনতে হলো তাইজুলকে। কারণ সাকিবের একটি রেকর্ড ভাঙার দুয়ারে বাঁহাতি এই স্পিনার। ২৮ টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলকে পা রেখেছিলেন সাকিব, যা বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্রুততম। ২৪ টেস্টে তাইজুলের উইকেট ৯৯টি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে সাকিবকে পেছনে ফেলার হাতছানি তাঁর সামনে। তবে রেকর্ড নিয়ে না ভেবে সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়ে আফগান বধ করতে চান তাইজুল। ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশি অধিনায়ক যে দলে ফিরছেন, এটা জেনেই বেশি ভালো লাগছে তাইজুলের, ‘সাকিব ভাই না থাকলে কঠিন হয়ে যায়। তিনি এত অভিজ্ঞ, বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। তিনি যখন বোলিং করেন, ব্যাটসম্যানরা তাঁকে খুব সাবধানে খেলে। আমরা যারা অন্য প্রান্তে বোলিং করি তাদের কাজটা একটু সহজ হয়ে যায়। সাকিব ভাই দলে যোগ দিচ্ছেন। বাংলাদেশ দলের জন্য এটা খুশির সংবাদ। আমার লক্ষ্য থাকবে জুটি গড়ে সাকিব ভাইকে সহায়তা করে যতটা ভালো করা যায়।’

২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। এবার বাংলাদেশের দ্রুততম বোলার হিসেবে পা রাখতে চলেছেন শততম উইকেটের মাইলফলকে। এ নিয়ে অবশ্য উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না তাইজুল। তাঁর প্রথম লক্ষ্য বাংলাদেশকে জয় এনে দেওয়া, ‘এসব (রেকর্ড) মাথায় থাকে, আবার থাকেও না। যখন মাঠে নামি এক উইকেটের জন্য নামি না। নামলে পাঁচ-ছয় উইকেট পেতেই নামি। এক উইকেট নিয়ে চিন্তা করছি না। কপালে থাকলে হবে। আমি চিন্তা করছি ভালো বোলিং করে দলকে কিভাবে সহায়তা করা যায়।’

ছয় বছরের ক্যারিয়ারে তাইজুল ইসলাম টেস্ট খেলেছেন ২৪ আর ওয়ানডে মাত্র ছয়টি। শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডেতে ডাক পেয়েছিলেন তিন বছর পর। সিরিজটা ভালো কাটেনি। দুই ওয়ানডেতে উইকেট মাত্র একটি। তবে টেস্ট তাঁর চেনা আঙিনা। উইকেট যেমনই হোক উজাড় করে দেন নিজেকে। চট্টগ্রামে আরো একবার জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় তাইজুল নিজেকে শানিয়েও নিচ্ছেন সেভাবে, ‘উইকেট কেমন হবে আমাদের এখনো জানানো হয়নি। তবে যে উইকেট দেওয়া হোক স্পিন কিংবা ন্যাড়া, ভালো বোলিং তো করতে হবে। সে অনুযায়ী আমাদের তৈরি হতে হবে।’

আফগানিস্তান বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও উপমহাদেশের কন্ডিশনে সব সময় সমীহ জাগানিয়া দল। তাদের স্পিনাররা বিশ্বমানের। নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে তারা হারিয়েছে আয়ারল্যান্ডকে। তাই রশিদ খানের দল নিয়ে সতর্ক তাইজুল, ‘আফগানিস্তানকে এখন আর ছোট দল বলতে পারবেন না। এ টেস্টে যারা ভালো খেলবে তারা জিতবে। আমরা যেহেতু দেশের মাঠে খেলব, চেষ্টা করব সিরিজ জেতার।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা