kalerkantho

জহুরুলের আশা ফরহাদের আক্ষেপ

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জহুরুলের আশা ফরহাদের আক্ষেপ

এসে গেছেন! - কদিন আগে ঘটা করে জাতীয় দলের নতুন হেড কোচের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। গতকাল বিকেলে ঢাকায় পৌঁছেও গেছেন রাসেল ডমিঙ্গো। তাঁর আগে আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট পা রেখেছেন বিমানবন্দরে। তিনি জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট (ছবিতে নেই)। ছবি : ফেসবুক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চলে এসেছেন কাল বিকেলে, আজ সকালের অনুশীলন হবে তাঁর অধীনে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাচ্ছে রাসেল ডমিঙ্গোর অধ্যায়। নতুন এই পথচলায় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরনো-পরীক্ষিত সৈনিকরা থাকবেন তো?

যেমন জহুরুল ইসলাম। যেমন ফরহাদ রেজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামর্থ্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি তেমনভাবে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই দুর্দান্ত পারফরমার। সামনের ব্যস্ত ক্রিকেটসূচি সামনে রেখে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যে ৩৫ জনকে ডাকা হয়েছে, সেখানে রয়েছেন এই অভিজ্ঞরাও। আর নতুন কোচের অধীনে নতুন সুযোগের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

সাত টেস্ট, ১৪ ওয়ানডে এবং তিন টি-টোয়েন্টি খেলেছেন জহুরুল। তিন ফরম্যাটেই সর্বশেষ ম্যাচ ছয় বছরের বেশি সময় আগে; ২০১৩ সালে। অনেক দিন ব্রাত্য থাকার পর আবার ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মূল স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না, ‘আসলে আমি অনেক দিন পর প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পেলাম। প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলা। আমি এ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবছর খেলা শুরু করি। এবার প্রিমিয়ার লিগে ভালো করার পর ‘এ’ দলে ডাকল। বেঙ্গালুরুতে ভালো খেলার পর ডাক পেলাম জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে। আমি চেষ্টা করছি দিন দিন আরো উন্নতি করার এবং ফিটনেস নিয়ে কাজ করার। বাকিটা নির্বাচকদের ওপরে। ওনাদের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে নেবে। সে ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

এই জহুরুলকে প্রয়োজন হতে পারে নির্বাচকদের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে তামিম ইকবাল ছুটি নিয়েছেন যে! দুই ফরম্যাটের মধ্যে বিশেষত পাঁচ দিনের খেলার জন্য এই ওপেনার বিবেচনায় রয়েছেন ভালোভাবেই। সেখানে সুযোগের অপেক্ষায় থাকার কথা জানান কাল জহুরুল, ‘তামিম অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়। ওর শূন্যতা পূরণ করাটা কঠিন। এর পরও এটি বড় সুযোগ। সাদমান, ইমরুল, সৌম্য কিংবা আমি—যাদের সুযোগ দেওয়া হবে, তাদের জন্যই। আর টেস্ট সব সময় ক্রিকেটের বড় ফরম্যাট। এখানে ভালো পারফরম করলে সব ফরম্যাটে পারফরম করা সহজ। যেহেতু তামিম নেই, তাই যারা সুযোগ পাবে তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।’

সে সুযোগ পাওয়ার জন্য ফিটনেস হতে পারে বড় ইস্যু। বিশেষত ত্রিশ পেরিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের বেলায়। জহুরুল সেটি জানেন এবং ফিটনেসের ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন, ‘বিসিবির পরিকল্পনায় আছি জেনে আমি আনন্দিত। আমার বয়সের অন্যরাও খুশি হবে। আসলে কোনো সময় আশাহত হওয়া যাবে না। বয়স কোনো ব্যাপার নয়। আপনি যদি ফিটনেস ধরে রাখেন এবং পারফরম্যান্স ভালো করেন—তাহলে বয়স কোনো বাধা না।’

৩২ পেরোনা জহুরুল বলছেন বয়স বাধা না। ৩৩ পেরেনো ফরহাদ রেজা সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরের দলে থেকে সেটি প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের স্কোয়াডেও ছিলেন। কিন্তু কোথাও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সীমিত ওভারের ক্রিকেট সামর্থ্যের জন্য ফরহাদের ৩৪ ওয়ানডের শেষটি হয়ে আছে তাই ২০১১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে। আর ১৪ টি-টোয়েন্টির সর্বশেষটি ২০১৪ সালের মার্চে, হংকংয়ের বিপক্ষে। সামনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তাঁর ডাক পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই; যা কিছুটা রয়েছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ত্রিদেশীয় সিরিজে। একাদশে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় কাল ঝরে ফরহাদের কণ্ঠে, ‘আগেও বলেছি যে, আমার কাজগুলো ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। যখনই সুযোগ আসবে যেন কাজে লাগাতে পারি। একাদশে সুযোগ পাওয়া তো আমার হাতে না। নিজের কাজগুলো ঠিকমতো করতে চাই, যখন সুযোগ আসবে তখন যেন কাজে লাগাতে পারি।’

সুযোগ পাওয়ার সে আকুতি পরে আরেক প্রশ্নের উত্তরেও ঝরে ফরহাদের কণ্ঠে। শেষ পাঁচ বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে না নামার যন্ত্রণাটাও বোঝা যায়, ‘জাতীয় দলে না হোক, আমি ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বিপিএল সব জায়গাতেই খেলছি। আর বিপিএলে তো বড় ক্রিকেটাররাই খেলেন। আসলে আমাকে তো সুযোগ দিতে হবে। না হলে কিভাবে বুঝবেন যে আমি পারব। যদি সুযোগই না পাই তাহলে আর কি হবে? এই যে শেষ চার-পাঁচ বছরের কথা বলছেন, আমাকে সুযোগ না দিলে তো আমি বলতে পারব না। আপনি কিভাবে বলবেন যে আমি পারব কি পারব না।’

সেই পারা-না পারার আরেক বাঁকে এখন জহুরুল-ফরহাদের মতো অভিজ্ঞরা। ডমিঙ্গোর অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ে এই পুরনোরা আরেক দফা সুযোগের অপেক্ষায়। সুযোগটা কি পাবেন তাঁরা?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা