kalerkantho

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চোখ রেখেই শুরু

২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চোখ রেখেই শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নতুন মৌসুমের শুরুতে অগ্রাধিকার তালিকায় কোনটি সবার আগে থাকছে—প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কথায়ই সেটি স্পষ্ট, ‘সামনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। যেটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে থিতু হওয়াটা খুব জরুরি।’

নভেম্বরের ভারত সফর দিয়ে আট দলের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশেরও। এর আগে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের নতুন মৌসুমও শুরু হচ্ছে টেস্ট দিয়েই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং এরপর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে টাইগারদের অনুশীলন শিবিরও শুরু হয়ে গেল কাল থেকে। যে শিবিরে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে ফিটনেস। জাতীয় দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়েন শিবিরে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের কয়েকজন বাদে সবারই নিলেন ফিটনেস পরীক্ষা।

যা নেওয়ার পর পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি এই শ্রীলঙ্কান। অবশ্য ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার ব্যাখ্যাও দিলেন, ‘আমরা ফিটনেস পরীক্ষা নিলাম আট মাস পর। কারণ গত অক্টোবর থেকে বিরতিহীন ক্রিকেট খেলছিলাম। এ পরীক্ষা থেকে দেখে নিলাম যে কে কোন অবস্থায় আছে এবং সামনের মাসগুলোতে ওদের সেরা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কী করাতে হবে, তাও বুঝলাম। এখন ওরা যে অবস্থায় আছে, তাতে সন্তুষ্ট হলেও খুশি নই। এটাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে গত আট মাস ফিটনেস শিবির না হওয়াতেই ওরা সেরা জায়গায় নেই। তাই বলে অবস্থা আবার খারাপও নয়।’

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং সাব্বির রহমান ছাড়া শিবিরে ডাক পাওয়া বাকি ৩৩ ক্রিকেটারই উপস্থিত ছিলেন কাল। হজ করে দেশে ফিরেই ছুটি কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সাকিবের ফেরার কথা ২৫ আগস্ট। আর সাব্বির আছেন বিয়ের জন্য ছুটিতে। উপস্থিত থাকলেও ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না সৌম্য সরকার। পায়ে পেরেক ঢুকে আহত সৌম্যর দৌড়ানো নিষেধ। তবে জানা গেছে, সেরে ওঠার পর্যায়ে থাকা এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার দুই দিন পরই দৌড়াতে পারবেন। কাল শুরু হওয়া শিবিরে ফিটনেস পরীক্ষা না দেওয়া ব্যতিক্রম আছেন আরেকজনও। তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা। যাঁর অনুশীলন শিবিরের দলে থাকারই কথা ছিল না। কারণ সেপ্টেম্বরের শেষে কিংবা অক্টোবরের শুরুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে আয়োজন করে তাঁকে বিদায় দেওয়ার যে প্রস্তাব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দিয়েছিল, তাতে তিনি সায় দেননি। অবসর ভাবনার জন্য সময় নিয়েছেন আরো দুই মাস।

তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই একমাত্র ওয়ানডেটিও আর হচ্ছে না নিশ্চিতভাবেই।

টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি না খেলা মাশরাফিকে তবু নির্বাচকরা রেখেছেন অনুশীলন শিবিরের দলে। তবে অন্য সবার নিলেও ওয়ানডে অধিনায়কের কোনো ফিটনেস পরীক্ষা নেননি মারিও। কেন? সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আগামী বছরের আগে আমাদের কোনো ওয়ানডে নেই। কাজেই এখনই ওর ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার কোনো কারণ দেখি না। ছয় মাস পর যখন ওয়ানডে আসবে, তখনই আমরা ওকে নিয়ে কাজ করব।’ ঠাসা সূচির মধ্যে ফিটনেস নিয়ে লম্বা সময় কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি করা হচ্ছে না মারিওর। এ অনুশীলন শিবিরে ফিটনেসের জন্য বরাদ্দ মাত্র চার-পাঁচ দিন। এ সীমাবদ্ধতা মেনেই অন্য উপায় ঠিক করেছেন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এ সময়টি অবশ্যই যথেষ্ট নয়। অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ প্রয়োজন (ফিটনেসের জন্য)। কিন্তু এটিও মানতে হবে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে এ সময়টি বের করা বেশ মুশকিলও। সুতরাং আমরা ঠিক করেছি, স্কিল ক্যাম্পের মধ্যেও আমরা ফিটনেস সেশনগুলো রাখব, যাতে এই ক্ষেত্রে উন্নতির ধারাটা অব্যাহত থাকে।’

টানা ক্রিকেটের পর কিছুদিনের বিশ্রামে ফিটনেসের পর্যায় কিছুটা নেমে গেলেও তা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই চোখ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে।

মন্তব্য