kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের প্রস্তুতি

ম্যাচের আগে আরেকটি ধাক্কা খেল আবাহনী

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ম্যাচের আগে আরেকটি ধাক্কা খেল আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভ স্পোর্টস ক্লাব এর আগে ১৯৯১ সালে মোহামেডানের বিপক্ষে এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ঢাকায় এসেছিল। সে ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সময় অনেক বদলে গেছে। সেই এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের মুখোমুখি হওয়ার আগে আবাহনী এখন কম্পমান।

উত্তর কোরিয়া এশিয়ার পরাশক্তি না হলেও বড় শক্তি অবশ্যই। এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভই যেমন টানা তৃতীয়বারের মতো ইন্টার জোনাল সেমিফাইনাল খেলছে, গতবার খেলেছে ফাইনালও। সেবার সিঙ্গাপুরের হোম ইউনাইটেডকে ৯-১ গোলে ভাসিয়ে আসরে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডও গড়েছে তারা। এবারও টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল দলটির। স্ট্রাইকার কিম ইউ সং আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে। এই দলের বিপক্ষে হোম ম্যাচেও রক্ষণ ছাড়া আর কিছুই ভাবছে না আবাহনী। সেই রক্ষণে একের পর এক ধাক্কা তো তাদের সেই মৌসুমের শুরু থেকে। দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক তপু বর্মণের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে লিগের শুরুতেই। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আতিকুর রহমানও এখনো ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে পারেননি। লিগ শেষে মাসি সাইঘানির বিদায় আরো বড় ঘটনা। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে আবাহনীর সেরা খেলোয়াড় নক আউট পর্বেই যে নেই। সেই ঘাটতি পোষাতেই তড়িঘড়ি করে মিসর থেকে নিয়ে আসা হয়েছে ঈসা আলেলদিনকে। এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের বিপক্ষে দুই লেগের ম্যাচের জন্য সকাল-বিকাল আবাহনী মাঠে ঘামও ঝরাচ্ছেন এই সেন্টারব্যাক। কিন্তু পরশু, যেদিন কোরিয়ান দলটি ঢাকায় পা রেখেছে সেদিনই এএফসির এক চিঠিতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে কোচ মারিও লেমসের। ঈসা গত বছর টিসি স্পোর্টসের হয়ে এফসি কাপের কোয়ালিফায়িং প্লে-অফ খেলেছিলেন, সেটিরই দ্বিতীয় ম্যাচে দেখেছিলেন লাল কার্ড। এ মৌসুমে এএফসি কাপে খেলেনি টিসি স্পোর্টস। ঈসাও সেই কার্ডের কথা ভুলে গিয়েছিলেন নাকি গোপন করেছিলেন কে জানে। এদিকে আবাহনীও তা খোঁজ নেয়নি। তারা এই ডিফেন্ডারকে ঢাকায় এনে খেলোয়াড় তালিকাও জমা দিয়ে দেয় এএফসিতে, কিন্তু পরশু এএফসি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন ঈসা কিছুতেই খেলতে পারবেন না ঢাকায় প্রথম লেগের এই ম্যাচে। লাল কার্ডে  ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এখনো যে কার্যকর হয়নি।

যে ডিফেন্স পরিকল্পনায় বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন লামোস ম্যাচের তিন দিন আগে, তাঁর কাছে এই খবর বজ পাতের মতোই আঘাত করেছে। সেন্টারব্যাক পজিশনে এখন বিকল্পই নেই তাঁর হাতে। রাইটব্যাক মামুন মিয়াকে দিয়ে কাজ চালানো যায় কি না, কিংবা কোরিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লি তায়ে মিনকে সেই দায়িত্ব দেওয়া যায় কি না, পর্তুগিজ কোচ তা নিয়েই মূল দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন কাল সকালে আবাহনী মাঠে এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের অনুশীলন দেখতে এসে, ‘ঈসার কার্ডের বিষয়টিতে আমি নজর দিইনি। ক্লাবও যে খোঁজখবর করেনি জানতাম না। এখন বুঝতেই পারছেন কী রকম চ্যালেঞ্জর মুখে পড়ে গেছি আমরা। এই দলের বিপক্ষে ডিফেন্স শক্তিশালী না করে কোনো উপায়ই নেই আমাদের সামনে।’ আগের দিন ঢাকা পৌঁছে কাল সকালেই আড়াই ঘণ্টা নানা অনুশীলন করেছে এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভ। দলটির খেলার ভিডিও দুষ্প্রাপ্য বলে লামোস অনেকটা লুকিয়ে হলেও এই অনুশীলন দেখার সুযোগ নষ্ট করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা