kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

কলকাতার দুই জায়ান্টকে আনতে চাইছে চট্টগ্রাম আবাহনী

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : তোড়জোড় শুরু হয়েছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ আয়োজনের। এবার আরো জমজমাট করে এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করতে চায় চট্টগ্রাম আবাহনী। আগের দুই আসরকে ছাপিয়ে দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্ট করতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন কর্মকর্তারা।

ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম আবাহনীর পরিচালক রুহুল আমিন তরফদার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাইজমানি বাড়িয়ে দেওয়ার, ‘আগে আমরা ২৫ হাজার ডলার প্রাইজমানি দিতাম চ্যাম্পিয়ন দলকে, এবার সেটা ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত করব। এ ছাড়া ক্লাব দলগুলোর আসা-যাওয়া, আবাসনের পাশাপাশি আগের মতো ১০ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে অংশগ্রহণের জন্য। আগের দুই আসরের চেয়েও আকর্ষণীয় একটি টুর্নামেন্ট করতে চাই আমরা।’ চট্টগ্রামে ২০১৫ সালে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে দেশের ছিল তিনটি দল। ঢাকা আবাহনী ও মোহামেডানের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। দেশের বাইরে থেকে কলকাতা ইস্টবেঙ্গল, কলকাতা মোহামেডানের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে এসেছিল একটি করে দল। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় আসরে নতুন ছিল চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাব, দক্ষিণ কোরিয়ার এফসি পোচেন ও নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাব।

আয়োজকরা এবার চাইছে কলকাতার দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলকে একসঙ্গে। নিশ্চিত করতে টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন এখন কলকাতায় আছেন। মোহনবাগানের সঙ্গে গভীররাতে সভা শেষে তিনি জানিয়েছেন, অক্টোবরে টুর্নামেন্ট হলে মোহনবাগান এই আসরে খেলতে আসার সম্মতি দিয়েছে। কলকাতার দুই জায়ান্টকে একসঙ্গে পাওয়া গেলে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ অনেক বেড়ে যাবে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের লিগ চ্যাম্পিয়ন দলকে আমন্ত্রণ করার কথা জানা গেছে। আগস্টের মধ্যেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিশ্চিত করতে চায় আয়োজকরা। চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যে আছে শুধু তিনটি—লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী ও স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। একটি সূত্র জানায়, আগের দুইবার অংশ নেওয়া ঢাকা মোহামেডানের কথা বললেও এবার তারা টুর্নামেন্টে থাকছে কি না এখনো নিশ্চিত নয়।

তবে এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় নিয়ে এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী আগামী অক্টোবরে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ আয়োজন করতে চাইলেও বাফুফের চাওয়া নভেম্বরে। এর জন্য ২০ থেকে ৩০ নভেম্বর সময় বেঁধে দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন। এ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় টানাপড়েন থাকলেও আসল কথা হলো বাইরের দলগুলো কখন সময় দিতে পারছে, তার ওপরও টুর্নামেন্ট সূচি নির্ভর করছে অনেকখানি। তবে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠও একটি সমস্যা। দুটি আসর হয়ে গেলেও কখনো ভালো মানের ছিল না খেলার মাঠটি। স্থানীয় আবাহনীর পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন ইতিমধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করেছেন, ‘টুর্নামেন্টের সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে আমরা গত মাসেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বসেছিলাম। ওখানকার মাঠের মানোন্নয়ন এবং ফ্লাড লাইটের আলো পর্যাপ্ত করতে তাঁর সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন আমাদের।’ মাঠ এবং ফ্লাড লাইটের মান উন্নয়নের জন্য গত মাসের শেষের দিকে তারা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে। মাঠের কারণেই এবার চট্টগ্রাম আবাহনী এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকে প্রিমিয়ার লিগে হোম ভেন্যু করেনি। মাঠ উপযুক্ত না হলে এ রকম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের খেলার মানও ভালো হয় না। বরাবরের মতো এবারও টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর থাকছে সাইফ পাওয়ার টেক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা