kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভাগ্যে মিল রুট আর সাউথগেটের!

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাগ্যে মিল রুট আর সাউথগেটের!

কে বেশি ভাগ্যবান? গ্যারেথ সাউথগেট নাকি জো রুট? প্রথমজন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের কোচ আর পরেরজন টেস্ট ক্রিকেটের অধিনায়ক। বড় বিপর্যয়ের আগে ভাগ্য এঁদের কার দিকে বেশি ঝুঁকে ছিল, তা নিয়েই গবেষণায় মেতেছে ইংল্যান্ডের দ্য ডেইলি মেইল। সেটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও এই গণমাধ্যমের রায়, দুটি জাতীয় খেলায় সে দেশের সব শেষ বিপর্যয়ের ভাগ্যলিপি নাকি লেখা হয়েছে প্রায় একই রকম হরফে! বিপুল বিক্রমে ২০১৮-র বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়া সাউথগেটের দলের সঙ্গে খুব বেশি অমিল তারা পায়নি চলতি অ্যাশেজে জো রুটের নেতৃত্বাধীন দলটির।

এমনকি ওয়াটারলুর যুদ্ধে হেরে রিক্ত, নিঃস্ব সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ছায়াই যেন দেখা হচ্ছে রুটের মধ্যে। অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২৫১ রানের বিশাল হারের পর নিজেদের দুর্গ এজবাস্টনই রুটের জন্য ওয়াটারলুর ময়দান হয়ে উঠেছিল বলে মনে করছে ডেইলি মেইল। এটি যদি হয় ইংল্যান্ডের জন্য চরম বিপর্যয়ের ছবি, তাহলে এর মাত্র কিছুদিন আগেই ওয়ানডের বিশ্বকাপ জিতে চরম উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার হাজারো ফ্রেমও আছে।

কিন্তু শুদ্ধবাদীদের কাছে অ্যাশেজের তুলনায় সেটির মূল্য সামান্যই। ডেইলি মেইলও সেই মতেরই অনুসারী। পরিষ্কার লিখে দিয়েছে বিশ্বকাপের চেয়ে অ্যাশেজ অনেক বড় ব্যাপার। কাজেই ঐতিহ্যের সেই সিরিজের প্রথম টেস্টে বিশাল ব্যবধানের হারে টান পড়েছে পতনের আগের সৌভাগ্য নিয়েও। সেই এক টানেই সাউথগেট আর রুটের যুগলবন্দি। তাতে দুজনেরই সব শেষ বড় সাফল্যে যোগ্যতার চেয়ে ভাগ্যের যোগকেই বড় করে দেখানো হয়েছে।

যেমন বলা হয়েছে, রাশিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপে তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখে না পড়েই সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল সাউথগেটের দল। আর শেষ চারে যেই না প্রথম কোনো মানসম্মত দলের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছে ইংলিশরা। ক্রোয়েশিয়ার কাছে সেমিতে সেই হারের পর তারা বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই ভাগ্য বরণ করেছে ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। বছরখানেক পর ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হলেও সেটিতেও এখন ভাগ্যের কৃতিত্বই বেশি দেখা হচ্ছে। সেটি বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে বল বাউন্ডারিতে চলে যাওয়া এবং তাতে ইংল্যান্ডের ৬ রান পাওয়ার ঘটনাই ইংল্যান্ডকে শিরোপা এনে দিয়েছে বলে মত ডেইলি মেইলের। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল থ্রো করার সময় ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান উইকেটে একে অন্যকে অতিক্রম না করায় তাদের ১ রান কম পাওয়ার নিয়ম নিয়েও চর্চা হয়েছে অনেক। ওভার থ্রো থেকে হওয়া ৪ রানের সঙ্গে দৌড়ে নেওয়া ২ রানও পেয়েছে ইংলিশরা। যদিও পাওয়ার কথা ছিল ৫ রান। ডেইলি মেইল তাদের প্রতিবেদনে সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছে। তবে এটিও মনে করিয়ে দিয়েছে যে ব্যর্থতা ভুলিয়ে দেওয়ার সুযোগ বিবেচনায় রুটই সৌভাগ্যবান। কারণ পরের সপ্তাহেই লর্ডসে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে ভালো কিছু করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রুটদের সামনে। যেটি সাউথগেটের জন্য আসছে আরো অনেক পরে। আপাতত ইউরো ২০২০-র বাছাই পর্ব সামনে। সেটি উতরে পরের বছরের মূল পর্বের ফাইনাল ইংল্যান্ডেরই ওয়েম্বলিতে। আগের ব্যর্থতা ভুলতে সে পর্যন্ত অন্তত অপেক্ষায় থাকতে হবে সাউথগেটকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা