kalerkantho

এসএ গেমসে সোনার খোঁজে অলিম্পিয়ান রোমান

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসএ গেমসে সোনার খোঁজে অলিম্পিয়ান রোমান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : খুব অল্প সময়ে সাফল্যের রাস্তা চিনিয়েছে আর্চারি। ২০০৩ সালে ফেডারেশনই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। সেখান থেকে ২০১২ সালেই একজন তীরন্দাজের অলিম্পিক দলে ঢুকে যাওয়াটা ছিল বড় ঘটনা। যদিও সে আসরে হতাশই করেছিলেন ইমদাদুল হক মিলন। তেমনি অনেক শোরগোলের বিপরীতে দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনা জিততে না পারাটাও চিহ্নিত হয়েছে ব্যর্থতা হিসেবে। অবশেষে বড় প্রাপ্তির সেই খাতা কি খুলল! গলফার সিদ্দিকুর রহমানের পর রোমান সানা যে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের যোগ্যতায় পেয়েছেন অলিম্পিকের টিকিট। ডিসেম্বরে নেপালে হতে যাওয়া ত্রয়োদশ এসএ গেমসেও যে এখন তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ থেকে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করেন গুটিকয়েকজন। শ্যুটার, অ্যাথলেট, সাঁতারুরাই মূলত প্রাধান্য পেয়ে এসেছেন। ২০১২ থেকেই সম্ভাবনাময় হিসেবে যোগ হয়েছেন আর্চাররা। টানা দুটি অলিম্পিকে সেই আর্চারদের প্রতিনিধিত্বের পর এসএ গেমসে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের নিয়ে আশা বাড়ে। কিন্তু গুয়াহাটিতে গতবার সাঁতার, শ্যুটিং প্রত্যাশা মেটালেও আর্চাররা ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। দুটি মিশ্র ও মেয়েদের দলগত ইভেন্টে রুপা এলেও সোনা অধরাই থেকে যায়। সেই ২০১০-এ ঢাকায়ও রুপা জিতেছিলেন আর্চাররা। ছয় বছর পর প্রত্যাশাটা বেশিই ছিল। তা পূরণ হয়নি। হতো হয়তো বা। রোমান সানা যদি থাকতেন। গত এসএ গেমসের আগেও তিনি দেশ সেরা আর্চার হিসেবে খ্যাত। কিন্তু শেষ সময়ে চোটের হানায় ভারতে যাওয়াই হয়নি তাঁর। রোমান নিজেও এবার তাই নেপালে আসরটা নিয়ে মুখিয়ে আছেন, ‘গতবার ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও যেতে পারিনি। নেপালে এবার এটি হবে আমার প্রথম এসএ গেমস। স্বাভাবিকভাবেই আমি রোমাঞ্চিত। পাশাপাশি প্রত্যাশার চাপটাও টের পাচ্ছি। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ থেকে অলিম্পিক কোটা অর্জনের পর আত্মবিশ্বাসটা অবশ্যই বেড়েছে। এটাই আমি কাজে লাগাতে চাই।’

রোমানের অলিম্পিক যাত্রাপথে আসলে এই এসএ গেমস। সেখানে অলিম্পিয়ান হিসেবে নিজের অবস্থানটাই আসলে তুলে ধরতে হবে। তাতে সোনা জয়ের বিকল্পই। যেহেতু অন্যরাই এর আগে রৌপ্যপদক এনেছেন বেশ কয়েকটি। রোমান তা নিয়ে ভাবিতও নন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের জন্যই যে নিজেকে তৈরি করছেন তিনি। নিজের যোগ্যতায় এই আসরের টিকিট নিশ্চিত করে এরপর একটাই লক্ষ্য থাকে, তা হলো পদক। ২৪ বছর বয়সী এ আর্চার সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন, ‘অলিম্পিক কোটা পাওয়ার জন্য নিজেকে তার জন্য যোগ্য করে তুলতে হয়েছে। অলিম্পিকে পদক পেতে হলেও তা-ই করতে হবে। পদক পাওয়ার মতোই যোগ্য করতে হবে নিজেকে। অর্থাৎ আমাকে আরো ওপরে উঠতে হবে এবং এর জন্য আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে। আমি সেভাবেই নিজেকে তৈরি করছি।’ মাঝপথে এসএ গেমসের অধরা সোনা ছুঁয়ে যেতে চান তিনি সেটাই স্বাভাবিক।

জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের অধীনেই মূলত নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছে আর্চারি। রোমানই যেমন বলছিলেন, ‘উনি আসার পর আমাদের আর্চারদের মান বেড়েছে। এখন আমাদের টিম র্যাংকিং ভালো, ছয়-সাতজনের ইনডিভিজুয়াল র্যাংকিং বেড়েছে। আর নেদারল্যান্ডসে আমার অর্জনেই তো প্রমাণ উনি কী দিতে পারেন। সত্যি বলতে উনি না থাকলে এটা একরকম অসম্ভবই ছিল আমার জন্য। ভীষণ পরিশ্রমী, প্রচুর ভাবেন আমাদের নিয়ে। আমাদের মূলটা পরিবর্তনের কোনো চেষ্টাই উনি করেননি, বরং সে জায়গাটা ধরেই আরো উন্নতির চেষ্টা করেছেন।’ রোমান অলিম্পিকের বৃত্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিলেন অলিম্পিক পর্যন্ত। কিন্তু সেখানে উঠতি এবং কিছুটা পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর আর্চারদের সঙ্গে অনুশীলন চলছিল দেখে এই কোচের সঙ্গেই পরামর্শ করে রোমান সিদ্ধান্ত নেন সুইজারল্যান্ড ছেড়ে আসার। যা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল নেদারল্যান্ডসে অলিম্পিক কোটা অর্জনে তারই প্রমাণ। রোমানের সামর্থ্য যে বিশ্বসেরা হওয়ার—দুজনের সেই উপলব্ধিই অলিম্পিকের ঠিকানা দিয়েছে দক্ষিণ এশীয় আসরের সোনার খোঁজ দেবে না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা