kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

রশিদ আসার আগেই তো সর্বনাশ!

সামীউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রশিদ আসার আগেই তো সর্বনাশ!

সিলেবাসের বাইরে থেকে আসা প্রশ্নের ভয়ে ‘কমন’ পড়া প্রশ্নের ভুলভাল উত্তর লিখে দিয়ে ফেল করার ঘটনাও বিরল নয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দশা সেইসব ছাত্র-ছাত্রীর মতোই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামলেই আগে থেকেই মাথায় ঘুরতে থাকে রশিদ খানের নাম। ‘রিস্ট স্পিনার’ জুজুতে কাবু হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ সব ম্যাচেই রশিদ মাঠে নামার আগেই হয়ে পড়েছে কোণঠাসা। এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরিসংখ্যান তা-ই তো বলছে।

আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম দেখা ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির প্রথম পর্বে। সেই ম্যাচে খেলেননি রশিদ খান, বলা ভালো অভিষেকই হয়নি। আফগানিস্তানকে ৭২ রানে অলআউট করে দিয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচটি জিততে কোনো অসুবিধাই হয়নি বাংলাদেশের। তবে দুঃখের বিষয়, এটাই এখন পর্যন্ত আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র জয়। রশিদ দলে আসার পর আরো চারবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান, তাতে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ১ রানে হার!

বনের বাঘে যতটা না খেয়েছে, তার চেয়ে বেশি খেয়েছে মনের বাঘে। চারটি ম্যাচেই রশিদ খান যতটা না সাফল্য পেয়েছেন, তার চাইতে বেশি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই দায়িত্বহীন ক্রিকেট খেলে দলকে ফেলেছেন চাপে। দেরাদুনের তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজের ম্যাচগুলো পর্যালোচনা করা যাক। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানের ১৬৮ রান তাড়া করতে গিয়ে একদম প্রথম বলেই আউট তামিম ইকবাল। চতুর্থ ওভারে সাকিব আল হাসান ও অষ্টম ওভারে লিটন কুমার দাসও আউট হয়েছেন অল্প রানেই। একাদশ ওভারে রশিদ বল হাতে আক্রমণে আসার আগেই বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৭৯। এখান থেকে রশিদ ৩ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিলেন বাংলাদেশকে। পরের ম্যাচেও রশিদ বল করতে আসেন ১১তম ওভারে, বাংলাদেশের রান তখন ৩ উইকেটে ৮১। রশিদ প্রথম দুটি ওভার ছিলেন উইকেটশূন্য, নিজের তৃতীয় ওভারে এসে তুলে নেন সাকিব, তামিম ও মোসাদ্দেকের উইকেট। পরের ওভারে আউট করেন সৌম্য সরকারকেও।

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রশিদের জাদুছড়ি চলে শেষ ওভারে। তবু অবশ্য রশিদ বল করতে আসার আগেই ৬০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। এর পরও শেষ ওভারে জিততে লাগত মাত্র ৮ রান, নিজের প্রথম তিনটি ওভার উইকেটশূন্য থাকার পর চতুর্থ ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই মুশফিককে আউট করে নাটকীয়ভাবে জয় ছিনিয়ে নেন রশিদ। ম্যাচে তাঁর একটাই শিকার। টেস্ট সিরিজে রশিদের ঘূর্ণি এতটাই ভয় ধরিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মনে যে ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচে রশিদ খান বল করতে আসার আগেই চার ব্যাটসম্যান ধরেছিলেন ডাগআউটের পথ। রশিদ খান বল করতে আসার আগেই বাংলাদেশের স্কোরকার্ডের রুগ্ন দশা, ৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৫৫ রান। পরের ১১ ওভার থেকে জিততে চাই ১১০ রান। ওভারপ্রতি রানের চাহিদা যখন ১০, তখন রশিদ খান আসছেন বোলিং করতে, খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন দ্রুত রান তোলার তাড়ায় লেগ স্পিনারকে উইকেট দেবেন ব্যাটসম্যানরা। ৪ ওভারে ২৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন রশিদ, তবে ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে গেছে বহু আগেই।

রশিদ মূল বোলিংয়ে আসেন ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে, বিশেষ করে উইকেট পতনের পরের ওভারে। ম্যাচের ১১, ১৬, ১৮ ও ২০তম ওভারগুলো করেন বেশির ভাগ সময়ে। কিন্তু রশিদের ভাবনায় আগেই অন্য বোলারদের কাছে উইকেট বিলিয়ে আসেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেটা ভুল শট নির্বাচনের মাধ্যমে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা