kalerkantho

স্কোয়াশের সোহেল হামিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ!

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্কোয়াশের সোহেল হামিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : স্কোয়াশ র্যাকেট ফেডারেশন আর সোহেল হামিদ প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছিল! একই সঙ্গে তালাবদ্ধ ফেডারেশনটিও যেন স্কোয়াশের প্রতীক হয়ে গেছে! এই জোট এবং প্রতীকের বিরুদ্ধে কখনো কেউ বিদ্রোহ করবে, সেটা অভাবনীয়। গতকাল এই ফেডারেশনেরই একজন দাঁড়িয়ে গেছেন সোহেল হামিদের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলন ডেকে ফেডারেশন সম্পাদক সোহেল হামিদের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠলেন ফেডারেশন সদস্য হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ক্রীড়া পরিষদের কাছে অভিযোগ করে ব্যর্থ হয়ে তিনি এসেছেন সংবাদ সম্মেলন করতে।

সোহেল হামিদের আনুষ্ঠানিক নাম জাহাঙ্গীর হামিদ সোহেল। তিনি কত বছর ধরে স্কোয়াশের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন সেটা তিনি নিজেও সঠিক জানেন না। সংবাদ সম্মেলনকারীর দাবি অনুযায়ী ১৬ বছর হলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্র বলছে, আরো বেশি। ১৯৮৯ সালে প্রথম ফেডারেশনের কমিটিতে ঢোকেন তিনি, এর কয়েক বছর বাদে তিনি সম্পাদকের পদে অসীন হন। সেই তুলনায় একদম নবীন হেদায়েত উল্লাহ তুর্কীর ফেডারেশন সদস্যের বয়স মাত্র চার বছর। তিন পৃষ্ঠা অভিযোগপত্রে তিনি প্রথমেই উল্লেখ করেন হকি স্টেডিয়ামে তালাবদ্ধ ফেডারেশন কক্ষের কথা, ‘গত চার বছরে আমাদের ফেডারেশন খোলা হয়েছিল ২০১৫ সালের ৮ আগস্টে কার্যকরী পরিষদের প্রথম সভার দিন। অফিস বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় চিঠিপত্রও সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না।’ যদিও এটা মানতে নারাজ সোহেল হামিদ। তিনি না মানলেও সত্যি হলো, হকি স্টেডিয়ামের ২৬৫ নম্বর রুমটি খোলা দেখার সৌভাগ্য খুব বেশি লোকের হয়নি।

অনেকগুলোর মধ্যে বড় অভিযোগ হলো আর্থিক অনিয়মের। ২০১৬ সালে তৃণমূলে প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ১২ লাখ টাকায় তিনি শুধু কুমিল্লা, যশোর, রংপুর, ও ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে দুই দিন করে প্রশিক্ষণ শিবির চালিয়েছেন। ‘এ জন্য প্রশিক্ষকের পেছনে সামান্য কিছু অর্থ খরচ হয়েছে। বাকি টাকা কোথায় গেল সেটা সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ ছাড়া কেউ জানে না’—তুর্কীর ইঙ্গিত অর্থ আত্মসাতের দিকেই। এ বছরও ক্রীড়া পরিষদ বরাদ্দকৃত পাঁচ লাখ টাকায় চলছে প্রশিক্ষণ। অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী ঝিনাইদহ ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও বিল-ভাউচারে দেখানো হয়েছে পাঁচ জায়গায় প্রশিক্ষণের কথা, ‘এ ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে ফেডারেশন স্টাফ গোপালকে সহযোগিতা করেছেন ক্রীড়া পরিষদের বাজেট অফিসার তাজুল ইসলাম। এ জন্য তাজুলকে গত ৬ মে দেড় লাখ টাকা দেন সাধারণ সম্পাদক।’ সোহেল হামিদ স্বাক্ষরিত বিল-ভাউচারের কিছু ফটোকপি সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হলেও সাধারণ সম্পাদক এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং হয়েছে এবং এখনো তা শেষ হয়নি। স্কোয়াশের জন্য সরকার ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও আমরা খরচ করতে পারিনি বলে পাঁচ লাখ টাকা ফেরত গেছে। তা ছাড়া আমরা এখনো হিসাবপত্র জমা দিইনি ক্রীড়া পরিষদে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে তুর্কীর পাশে কোনো ফেডারেশন সদস্যকে দেখা না গেলেও ছিলেন স্কোয়াশ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এম এ গনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জোবায়ের আহমেদ ও যুগ্ম সম্পাদক ভোলা লাল চৌহানসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। তাঁদের অভিযোগ চলমান এসএ গেমসের ক্যাম্পে র‍্যাংকিং মেনে খেলোয়াড় ডাকা হয়নি। র‍্যাংকিংয়ের প্রথম দুজনকে ঢেকে বাকিদের নেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনী থেকে। বিওএর বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিজনের প্রাপ্য ৮৭৫ টাকা হলেও দেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা করে। ক্যাম্পে মেয়ে না থাকলেও সেই অর্থও সম্পাদক তুলে নিচ্ছেন বিওএ থেকে। এই অভিযোগ খানিকটা মেনে নিয়ে সোহেল হামিদ বলছেন, ‘দেড়-দুই সপ্তাহ ধরে ট্রেনিং চলছে। কেবল এক বেলা ট্রেনিং করছে, তাই টাকা কম দেওয়া হচ্ছে।’ তবে র‍্যাংকিং মেনে সবাইকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও সাফ গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী ভোলা লালের মতো খেলোয়াড়দের যথাযথ সম্মান না পাওয়ার আক্ষেপ আছে। কোনো টুর্নামেন্টে ফেডারেশন তাদের কখনো আমন্ত্রণপত্র পাঠায় না। প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি জোবায়ের আহমদে ফেডারেশনের এই কমিটির ওপর অনাস্থা এনে বলছেন, ‘যারা একটা টুর্নামেন্ট সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারে না, দুই-তিনটা ট্রফি কিনে পাঁচ-ছয়জনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেয় তাদের অধীনে এই খেলার কোনো উন্নতি আশা করা যায় না। যে ফেডারেশন দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, যারা খেলোয়াড়দের কোনো খোঁজ রাখে না তাদের দিয়ে কিছু হবে না। ফেডারেশনের কাছে খেলোয়াড় হবে আগে, এই মূলনীতি থেকে এই কমিটি অনেক পেছনে। তাদের দিয়ে কিছু হবে না।’ খেলোয়াড়রাই এই অ্যাডহক কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

মন্তব্য