kalerkantho

কঠিন পর্বে অঘটনের আশায় আবাহনী

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কঠিন পর্বে অঘটনের আশায় আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এএফসি কাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি কাপের প্রথম রাউন্ডের চৌকাঠ পেরিয়ে আবাহনী ঢুকেছে ফুটবলের কঠিন ভুবনে। এটা আগের লেভেলের চেয়ে ঢের শক্তিশালী, তাই এখানে দাঁড়িয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখা কঠিন। বড়জোর লড়াই করা যায়। এএফসি কাপের আঞ্চলিক সেমিফাইনালে সেই লড়াইয়েরই প্রস্তুতি নিচ্ছে আকাশি-নীলরা।

উত্তর কোরিয়ার দলের বিপক্ষে আঞ্চলিক সেমিফাইনাল প্লে-অফের তুলনায় এএফসি কাপের প্রথম পর্ব ছিল যথেষ্ট সহজ। এই অঞ্চলের ক্লাবগুলো শক্তি-সামর্থ্যে খুব বেশি নয়। পরস্পরকে চেনাজানাও ছিল। সেই হার্ডল পেরিয়ে আবাহনী পড়েছে উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টুয়েন্টিফাইভ ক্লাবের সামনে। ২১ আগস্ট এএফসি কাপের আঞ্চলিক সেমিফাইনাল প্লে-অফে ঢাকায় তাদের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। শেষ দিনে গতকাল তারা খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছে মাসি সাইগানিকে ছাড়াই। আবাহনীর  কোচ মারিও লামোস তাঁর স্কোয়াড সম্পর্কে বলেছেন, ‘দুই নতুন বিদেশিকে নিয়ে এএফসি কাপ সেমিফাইনালের জন্য দলের খেলোয়াড় তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। দুজনের মধ্যে মিসরি ঈসা দীর্ঘদেহী খেলোয়াড়, তাকে বিভিন্নভাবে খেলানো যাবে। তার সেন্স ভালো, সেটপিসে হেডিংয়ের সুবিধা নেওয়া যাবে। অনেকটা মাসির মতো খেলে। আমাদের রক্ষণের সমস্যাটা ঘুচে যাবে আশা করি।’ কোচ স্পষ্ট করেই বলেছেন আবাহনীকে গ্রুপ পর্ব উতরে দেওয়ার সেরা খেলোয়াড় মাসি সাইগানিকে ছাড়াই তাদের খেলতে হবে। আফগান ডিফেন্ডার ভারতের চেন্নাইয়ান এফসিতে নাম লেখানোয় তাঁর জায়গায় নিয়ে এসেছে মিসরের ডিফেন্ডার ঈসা আলেলদীন নাসেরকে।

গত দুই বছর ঈসা খেলেছেন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসে। আবাহনীতে নাম লিখিয়ে এই ডিফেন্ডার খুশি মনে উত্তর কোরিয়ান দলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, ‘আশা করি এএফসি কাপের নক আউটে ভালো কিছু হবে। প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা করেই বলছি, আমার কাছে এটা কঠিন মনে হয় না। কোনো চাপও অনুভব করছি না। এ রকম কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে।’ মাসির বিকল্প হিসেবে এলেও তিনি সেই মানে নিজেকে উন্নীত করতে পারবেন কি না, এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে দলের ভেতর।

তাদের আরেক নতুন বিদেশি দক্ষিণ কোরিয়ার লি তায়ে মিন খেলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশনে। দুজনের একজন ডিফেন্ডার আরেকজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। অর্থাৎ দুই বিদেশিই রক্ষণমনস্ক! নতুন সংযোজনই বলে দিচ্ছে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ রানার্স-আপদের প্রত্যাশা এবং কৌশল। আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ অবশ্য বলছেন রক্ষণের দুর্বলতা সারিয়ে সম্ভাবনার কথা, ‘রক্ষণে আমাদের সমস্যা আছে, সেই দুর্বলতা আগে কাটিয়ে ওঠা দরকার। তা ছাড়া আমাদের দেশি সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার আছে, তারা ভালো খেললে দল ভালো করবে। সত্যি বলতে আমাদের সুযোগ যদি দেখি, সেটি ঢাকার ম্যাচে। এখানে ভালো পারফরম করে কোনোভাবে ম্যাচ বের করতে পারলে কোরিয়ায় গিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা যাবে।’

গ্রুপ পর্বে আবাহনী খেলেছে ইনজুরি-জর্জর এক দল নিয়ে। শুরু থেকেই ইনজুরিতে ছিলেন দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, দুই ম্যাচ খেলার পর ছিটকে গেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাহাদ। এমন দুরবস্থার মধ্যেও মাসি-মামুনুলদের নৈপুণ্যে এবং ভাগ্যের সাহচর্যে আবাহনী প্রথমবারের মতো পেরিয়েছে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের হার্ডল। তাই পরের ধাপে নামার আগে ঝালাই করে নিচ্ছে রক্ষণের দুর্বলতাগুলো।

শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার চাপ নিতে চাইছেন না কোচ। যত বেশি সময় ম্যাচে থেকে যদি অঘটন ঘটানো যায়। মিরাকলের জন্য গোল দরকার, সেই গোল বের করার সামর্থ্য কি আছে সানডে, বেলফোর্ট ও নাবিব নেওয়াজের! প্রতিপক্ষ এপ্রিল টুয়েন্টিফাইভ ক্লাবের খেলা দেখেছেন আবাহনী কোচ। সব দিক থেকেই তিনি এগিয়ে রাখছেন কোরীয় দলকে, ‘ফুটবল মানে কোরিয়ান দল এগিয়ে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তাদের তিনটি ম্যাচ ভিডিও আমরা দেখেছি, তাদের খেলার স্টাইল বোঝার চেষ্টা করেছি। সেই অনুযায়ী আবাহনী তৈরি হচ্ছে। এটি খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হবে আমাদের জন্য। তাদের বিদেশি খেলোয়াড় নেই, এটা সেনাবাহিনীর দল। তাদের সুবিধা হলো, তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলছে।’ তাদের বিপক্ষে জিততে গেলে তাই অভাবিত কিছুই করতে হবে!

মন্তব্য