kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তাঁরা এখন হাসপাতালে

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তাঁরা এখন হাসপাতালে

ডেঙ্গুতে ক্যাম্প বন্ধ - প্রতিদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। এর প্রকোপ দেখা দিয়েছে আসন্ন এসএ গেমসের জন্য চলমান নারী ক্রীড়াবিদদের ক্যাম্পেও। মহিলা কাবাডি দলের অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল হাসপাতালে। ওই ক্যাম্পে নারীদের খো খো এবং বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড়দেরও অনুশীলন চলছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে সব খেলারই ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নারী কাবাডি খেলোয়াড়দের কয়েকজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ডেঙ্গু আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের এসএ গেমস ক্যাম্প। অনানুষ্ঠানিকভাবেই বন্ধ হয়ে গেছে। যখন একের পর এক অ্যাথলেট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, তখন আর বিধি-নিষেধ মানার সাহস থাকে না। এই ক্যাম্পে এ পর্যন্ত ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাই ঈদুল আজহার ছুটির আগেই খালি হয়ে গেছে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ক্যাম্প।

এডিস মশার বড় প্রজননকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। ঢাকায় বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনায় এসএ গেমস চললেও মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এডিস মশার উপদ্রব ভয়াবহ। ওখানে ট্রেনিং করে কাবাডি, খো খো ও বাস্কেটবলের মহিলা দল। গত মাসের শেষের দিকে জ্বরে পড়েন তাঁদের কয়েকজন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়লে ২৯ জুলাই থেকে কয়েকজনকে বাংলাদেশ মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় কাবাডি খেলোয়াড় মুসলিমা আক্তারের, পরশু তাঁকে স্থানান্তর করা হয় আইসিইউতে। তাঁর অবস্থার খানিকটা উন্নতির কথা বলেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিকের মেডিক্যাল কমিটির প্রধান ডা. শফিক। কাবাডির সহকারী কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকাও গতকাল বলেছেন, ‘আমি আজ (কাল) তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম, আগের চেয়ে ভালো মনে হয়েছে। কিন্তু গতকাল বিকেলেও কাবাডি দলের আরেকজনকে ভর্তি করানো হয়েছে এখানে। আমাদের তিন খেলোয়াড় এখন হাসপাতালে ভুগছে ডেঙ্গুতে। এখন আর মহিলা কমপ্লেক্সে কেউ নেই। সামনে ঈদ আছে, তাই আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাকিদের।’ মুসলিমা ছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে শ্রাবণী মল্লিক ও তাসমি আক্তারকে। সর্বশেষ খবর, কাল রাতে মুসলিমার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে স্থানান্তর করা হয়েছে সিএমএইচের আইসিইউতে।  কাবাডি ছাড়াও মহিলা খো খো দলের পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন ডেঙ্গুতে। তাঁরা সবাই ট্রেনিং করছিলেন মহিলা কমপ্লেক্সে, ওখানে ডেঙ্গু যেন মহামারির আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাই কাউকে ধরে-বেঁধে সেখানে রেখে ট্রেনিং করানো মুশকিল।

খো খোর কোচ সাইদুল হকও এখন ট্রেনিংয়ের পরিবর্তে খেলোয়াড়দের সুস্থতা নিয়েই বেশি চিন্তিত, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যালে চারজন ভর্তি আছে, তাদের দেখাশোনার জন্য কয়েকজন ঢাকায় থেকে গেছে। বাকিদের নিজেদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সবাই আতঙ্কে ছিল।’ হাসপাতালে ভর্তি চার খো খো খেলোয়াড় হলেন হাসনা আক্তার, আসমা খাতুন, প্রিয়াঙ্কা আক্তার ও শম্পা। এ ছাড়া হ্যাপি শেখ পরশু ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। খো খো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাবুল জানিয়েছেন, ‘হাসপাতালে তাদের ভালো চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে তাদের। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।’ সবার আগে এই ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন বাস্কেটবলের বৃষ্টি, সুস্থ হয়ে তিনি কয়েক দিন আগে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বাস্কেটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ কে সরকারই আবার বাংলাদেশ অলিম্পিকের এসএ গেমস ট্রেনিং কমিটির আহ্বায়ক। তিনি বলেছেন এডিস মশার উপদ্রব কমানোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, ‘অন্য ক্যাম্পগুলোতে এ রকম হয়নি। মহিলা কমপ্লেক্সে এডিস মশার উপদ্রবটা একটু বেশি। সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে আমাদের সভাপতি সেনাবাহিনী থেকে মশার ওষুধ ছিটানোর দল পাঠিয়েছিলেন মহিলা কমপ্লেক্সে। তা ছাড়া সিটি করপোরেশন থেকেও নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের ব্যাপারে আমরা খুব সিরিয়াস। কাবাডির মুসলিমা ছাড়া কারো অবস্থা খারাপের দিকে যায়নি।’ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে যেভাবে ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে কি এখন ট্রেনিং চলছে? এ কে সরকারের জবাব, ‘আগামী ৮ তারিখ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হবে। তখন সব ক্যাম্প বন্ধ করে অ্যাথলেটদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও ছুটি শুরু হবে একই সময়ে।’

বিওএর এই ৮ আগস্টের ছুটির জন্য মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের কেউ অপেক্ষা করে থাকেনি। ভয়-আতঙ্কে বেশির ভাগ মেয়েই এই ক্যাম্প ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল ছেড়ে যাওয়ার সময় এক নারী অ্যাথলেটের চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট, ‘এই ক্যাম্পে প্রতিদিনই কেউ না কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। ৮-৯ জন মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ রকম অবস্থায় এখানে থাকা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের বাড়ির লোকজনও খুব দুশ্চিন্তা করছে। আগে তো মানুষের প্রাণ, তারপর খেলাধুলা।’ এই প্রাণের ঝুঁকির কাছে ডিসেম্বরের এসএ গেমস কিংবা তার ট্রেনিং ক্যাম্পও তুচ্ছ। তাই অনানুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হয়ে গেছে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। ছুটি শেষে কি আবার এ কমপ্লেক্সে শুরু হবে ক্যাম্প? ক্যাম্প কমান্ডার তাসলিমা আক্তার বলেছেন, ‘সেটা এখন বলা কঠিন। পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে নিশ্চয় বিওএ সিদ্ধান্ত নেবে।’ এক সপ্তাহের ছুটিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নামে আতঙ্কিত অ্যাথলেটরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা