kalerkantho

স্মিথে শুরু লায়নে শেষ

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্মিথে শুরু লায়নে শেষ

৩৯৮ রান। চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে ইংল্যান্ডের সামনে এই লক্ষ্য ছুড়েই দান ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া। ততক্ষণে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের নিয়তি থেকে অসিদের পরাজয় উধাও। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল তাই ওই প্রায় চার শ করে জেতা নয়, হার এড়ানো।

কিন্তু সেটিও তারা করতে পারল কই! অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপে কাল শেষ দিনে হুড়মুড়িয়ে গেল স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইন। চতুর্থ ইনিংসে ১৪৬ রানে অল আউট হয়ে জো রুটের দল ম্যাচ হেরে গেল ২৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে। তাতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের আভিজাত্যের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হলো দাপটে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম পথচলাও প্রবল আধিপত্যে।

কাল এজবাস্টনে পঞ্চম দিনের খেলার শুরুতেই অবশ্য এমন কিছুর আঁচ করা যাচ্ছিল। বিনা উইকেটে ১৩ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। এজবাস্টনের উইকেটে টেস্টের শেষ দিনে ব্যাটিংটা সহজ হওয়ার কথা নয়। আসলেই তাই। দিনের তৃতীয় ওভারেই অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন প্যাট কামিন্স। সেটিও কাকে আউট করে? প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রোরি বার্নসকে (১১)। লাফিয়ে ওঠা বল তাঁর গ্লাভসে লেগে সহজ ক্যাচ হয় গালিতে।

কামিন্স-প্যাটিনসনের আগুনে গোলায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। প্যাটিনসনের বলে জো রুটকে আউটও ঘোষণা করে আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে সে যাত্রা রক্ষা, বল চলে যায় লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আম্পায়ার জোয়েল উইলসন ভুল করেন আবার। এবার পিটার সিডলের বলে রুটের বিপক্ষে এলবিডাব্লিউর আবেদনে আঙুল তুলে দেন। রিভিউতে ইনসাইড এজের স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় আবার বেঁচে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কিন্তু স্বাগতিকদের ওপর জেঁকে ধরা চাপটা বাড়ছিল ক্রমশ।

যার খেসারতে আত্মহত্যা জেসন রয়ের। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম এই নায়ক ঝুঁকিপূর্ণভাবে টিকে ছিলেন অনেকক্ষণ। কিন্তু কতক্ষণ আর! লাথান লায়নকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে টার্নে বিভ্রান্ত। বোল্ড হয়ে যান রয় (২৮)। জো ডেনলি (১১) এলেন, দ্রুত রান তুলে চাপ কমানোয় চেষ্টার শেষে ওই অফ স্পিনারের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরেও গেলেন। আর রুটও (২৮) যখন লায়নের বলে ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ক্যাচ দিলেন, তখন ম্যাচের ফল নিয়ে সামান্যতম সংশয় আর বাকি রইল না। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ৮৫ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন—অস্ট্রেলিয়ার জয় ঠেকায় কে!

ঠেকাতে পারেননি ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যান। আসা-যাওয়ার মিছিলের যাত্রী সবাই। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারে জশ বাটলারকে (১) বোল্ড করেন কামিন্স। এরপর জনি বেয়ারস্টোকে (৬) ফিরিয়ে টেস্টে নিজের ১০০তম উইকেট নেন এই ফাস্ট বোলার। লায়নই-বা মাইলফলকের উপলক্ষে সামনে অপেক্ষায় থাকবেন কেন! ঠিক পরের বলেই বেন স্টোকসকে (১) উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানিয়ে টেস্টে নিজের ৩৫০তম শিকার উদ্‌যাপনে মাতেন ওই অফ স্পিনার।

এরপর? ৯৭ রানে সাত উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের হারের ব্যবধান কমানোর পালা শুধু। তা যা কিছুটা ৯ নম্বরে নামা ক্রিস ওকসের ৩৭ রানের ইনিংসে। তবু তো ৫২.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অল আউট হয়ে যাওয়া ঠেকানো হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার দুই বোলার লায়ন (৬/৪৯) ও কামিন্স (৪/৩২) মিলেই ১০ উইকেট নিয়ে নেন ইংল্যান্ডের।

এমনিতেই টেস্ট ক্রিকেট তার সব রং নিয়ে হাজির হয়েছিল এজবাস্টনের এই পাঁচ দিনে। এর শেষটাও কী যথার্থ! টেস্টের পর্দা নামে কামিন্সের বলে ক্রিস ওকসের ক্যাচ স্টিভেন স্মিথ মুঠোবন্দি করতেই। বল টেম্পারিং কাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যিনি টেস্টে খেলতে নামলেন প্রথম। ম্যাচে যাঁর ১৪৪ ও ১৪২ রানের ইনিংস দুটি হয়ে রইবে ব্যাটসম্যানশিপের প্রদর্শনী। সেই স্মিথের ক্যাচেই কিনা ম্যাচের শেষ!

ক্রিকেট কখনো কখনো কতটাই না ফিরিয়ে দেয়! ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর : অস্ট্রেলিয়া : ২৮৪ এবং ৪৮৭/৭ (ডিক্লে.)। ইংল্যান্ড : ৩৭৪ এবং ৫২.৩ ওভারে ১৪৬ (ওকস ৩৭, রুট ২৮, রয় ২৮; লায়ন ৬/৪৯, কামিন্স ৪/৩২)। ফল : অস্ট্রেলিয়া ২৫১ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : স্টিভেন স্মিথ।

মন্তব্য