kalerkantho

নিয়ম বদলেও অনিয়ম বিপিএলে

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিয়ম বদলেও অনিয়ম বিপিএলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আসর শুরু হয় এক নিয়মে। কিন্তু শুরু হতে না হতেই আবার অনেক কিছু বদলেও যায়। নিয়ম ভাঙার এই অনিয়ম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) হয়ে আসছে নিয়মিতই। এমনকি হয়েছে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির ষষ্ঠ আসরেও। যেটি শুরুর পরও বিশেষ একটি দলের সুবিধার কথা ভেবে একাধিক নিয়ম বদলে ফেলা হয়েছিল।

বিশেষ সেই দলটি যে ঢাকা ডায়নামাইটস, ক্রিকেটাঙ্গনে সেটিও ‘ওপেন সিক্রেট’। তাদের সুবিধার্থে যখন-তখন নিয়ম বদলাতে দ্বিধা করে না বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলও। গতবার যেমন তারা প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য স্থানীয় ক্রিকেটার দলভুক্তির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছিল, এর নিচে নামা যাবে না। নিয়মটি ছিল বিপিএলে সেই খেলোয়াড়রাই শুধু খেলতে পারবেন, যাঁদের অন্তত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কিংবা লিস্ট ‘এ’ অর্থাৎ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু গত ১১ জানুয়ারি সেই নিয়ম ভেঙে প্রথম বিভাগে খেলা ক্রিকেটার মাঠে নামায় ঢাকা ডায়নামাইটসই।

কাকতালীয় হলেও সত্যি, অ্যালিস আল ইসলাম নামের সেই অচেনা ও অখ্যাত ক্রিকেটারকে তারা মাঠে নামায় রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষেই। যে দলটির পক্ষে আসন্ন বিপিএলে খেলার জন্য সাকিব আল হাসান চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে নানা নিয়মের দোহাই দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার রংপুর যোগও দিয়েছেন ডায়নামাইটস ছেড়েই।

গত আসরে তাঁর নেতৃত্বেই বিপিএলের রঙিন দুনিয়ায় অভিষেক অ্যালিসের। এর আগে কোনো দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই না খেলা এই অফস্পিনার সেদিন সহজ দুটি ক্যাচ ছেড়ে শুরুতে সমালোচিত হলেও পরে বাজিমাতই করেছিলেন। হ্যাটট্রিকসহ ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অভিষেকেই দলের জয়ের নায়ক হয়েছিলেন ম্যাচের সেরাও। একই ম্যাচে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল তাঁর বোলিং অ্যাকশনও। তবে প্রথম বিভাগ লিগের খেলোয়াড়কে সেদিন মাঠে নামানোই হয়েছিল নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। যদিও সেটিকে পরে বৈধতা দিতে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যও এ রকম খেলোয়াড় দলভুক্তির সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

 

কাজেই আবারও ডায়নামাইটসের সুবিধার জন্য যে এ রকম নিয়ম বদলানো হবে না, সে নিশ্চয়তাও নেই। নেই বলেই নিঃসংশয় হওয়ারও উপায় নেই অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। গত পরশুর সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছিলেন, কিছু বিষয় নিয়ে ‘ধূম্রজাল’ দূর করতেই নাকি তাঁদের ওই আয়োজন। যদিও আসর শুরুর আগের নিয়ম পরেও বহাল থাকবে কি না, ডায়নামাইটস ছাড়া আর সব ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যেই তা নিয়ে ‘ধূম্রজাল’ রয়েছে। যেজন্য এবার তারা আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করার দাবি জানাতে শুরু করেছেন। চার বছর মেয়াদি বিপিএলের নতুন চক্রে নতুন নিয়মে সব শুরুর কথাই বলা হয়েছে পরশুর ‘বিতর্কিত’ সংবাদ সম্মেলনে। এরপর একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধির মুখে নিয়ম বদলানোর পুরনো অনুশীলন ফিরিয়ে না আনার আকুতিও ঝরেছে।

পরের চার বছর একই নিয়মে বিপিএল হোক, সিংহভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই তা চায়। যেমন চেয়েছেন খুলনা টাইটান্সের মালিক ও বিসিবি পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদও। হুট করে নিয়ম বদলালে যে তাদের পরিকল্পনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হতাশা নিয়ে বলেছেন সেটিও, ‘বিপিএলের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন থাকা দরকার। যে নিয়ম মেনেই চার বছর বিপিএল হবে। তাতে অন্তত আমরা পরিকল্পনাটা আরো ভালোভাবে করতে পারব।’ প্রতি আসরেই নিয়ম বদলানোর ঘোর বিরোধী বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও, ‘প্রতিবছরই নিয়ম বদলাতে পারে না। আমরা চাই পরের চার বছরের পুরো চক্রেই একই নিয়মে বিপিএল হোক। যা প্রতিটি আসরে আমাদের ভালো প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।’ অভিন্ন মত রাজশাহী কিংসের প্রধান নির্বাহী তাহমিদ আজিজুল হকেরও, ‘আমরা চাইব বিসিবি নির্দিষ্ট আইন-কানুনেই স্থির থাকুক। এবং কোনো পরিবর্তন না এনেই সেটি মেনে চলুক। কারণ নিয়ম বদলালে আমাদের পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

অ্যালিসকে হুট করে খেলিয়ে দেওয়াই গতবারের একমাত্র নিয়ম বদল নয়। আরো আছে। যেমন আসর শুরুর আগে হুট করেই ‘ডিরেক্ট সাইনিং’-এর সুযোগ উন্মুক্ত হয়ে যায় সবার জন্য। অভিযোগ আছে যে এই নিয়মটিও করা হয়েছিল আন্দ্রে রাসেলকে ডায়নামাইটসে দলভুক্তির স্বার্থেই। যদিও পরে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিও এর সুবিধা ভোগ করেছে।

আর এমন ‘সুবিধাভোগে’র ধাক্কায় বিপিএলকে ঘিরে অনাস্থাই বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

মন্তব্য