kalerkantho

স্মিথের জন্য সকালে দুয়ো বিকেলে করতালি

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্মিথের জন্য সকালে দুয়ো বিকেলে করতালি

সার্ফ এক্সেলের উচিত স্টিভেন স্মিথকে যতটা তাড়াতাড়ি পারা যায় তাদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ করে ফেলা। কারণ ‘দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তাহলে দাগই ভালো’—এই পাঞ্চলাইনটির জন্য স্টিভেন স্মিথের জীবনের চেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয় না। কেপটাউন টেস্টে স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারিতে শাস্তি ভোগ করেছেন যে তিনজন, তাঁদের ভেতর স্মিথের অপরাধই সবচেয়ে কম। তাঁর শাস্তি হয়েছে কারণ তিনি নেতা হিসেবে দলের সদস্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেছেন কিংবা থামানোর চেষ্টা করেননি। এ জন্য একটি বছর ক্যারিয়ার থেকে হারিয়ে গেছে স্মিথের। এক বছরে ৯ খানা টেস্ট, কমপক্ষে ১৫টি ইনিংস তো জীবন থেকে হারিয়ে গেল স্মিথের। ক্রিকেট দুনিয়ায় টেস্টে তাঁর চেয়ে গড় যাঁর বেশি, সেই ডন ব্র্যাডম্যানের ক্যারিয়ারের একটি অংশ হারিয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে। স্মিথ বলা যায় নিশ্চিত এক হাজারটি রান হারিয়েছেন।

শুরুতে ছিলেন লেগ স্পিনার যে খানিকটা ব্যাট করতে পারেন। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার তো বটেই, বিশ্বেরই সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হওয়ার পথে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছেন স্মিথ। অন্যদের চেয়ে আলাদা তাঁর ব্যাটিং ভঙ্গি, ক্রিকেটের ব্যাকরণ বইয়ের আদলে নয়। এভাবে ব্যাট করেই টেস্টে সাড়ে ছয় হাজার রান হয়ে গেছে স্মিথের; ২৫টি শতরান, যার ১০টিই অ্যাশেজে। এক বছর নিষিদ্ধ থাকার পর টেস্টে ফিরে প্রথম ইনিংসেই করেছিলেন শতরান। চাপের মুখে, টেলএন্ডারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ার পর দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিলেন স্মিথই। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো একই টেস্টের দুই ইনিংসেই করলেন শতরান। প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৪২। যে কৃতিত্ব অ্যাশেজে সব শেষ দেখা গিয়েছিল ২০০২ সালে, ব্রিসবেনে ম্যাথু হেইডেনের ব্যাটে। আর ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো অস্ট্রেলিয়ানের জোড়া শতকের কীর্তি খুঁজতে যেতে হবে আরো পেছনে, ১৯৯৭ সালের ম্যানচেস্টার টেস্টে। যেখানে স্টিভ ওয়াহ করেছিলেন ১০৮ ও ১১৬।

চাপের মুখে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রান করার কোনো মানদণ্ড থাকলে তাতে ‘একক’ হবে স্টিভ ওয়াহসুলভ ইনিংস। ‘আইসম্যান’ নামটা তো আর এমনি এমনি হয়নি! ম্যানচেস্টারে প্রথম ইনিংসে স্কোরবোর্ডে যখন ৩ উইকেটে ৪২ রান, তখন স্টিভের আগমন এবং শতরান। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর নেমেছেন। দুই ইনিংসেই শতরান করে দলের সম্মান ও সাফল্য নিশ্চিত করেছেন। স্মিথের এ ইনিংসটিও কোনো অংশে কম নয়! প্রথম ইনিংসে তো পঞ্চাশের পর বলতে গেলে টেলএন্ডারদের নিয়ে একাই লড়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও উদ্বোধনী জুটির ব্যর্থতার পর ফের হাল ধরেছেন স্মিথ। মনে রাখতে হবে, এই মানুষটি এক বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলেননি! স্মিথের ইনিংসটাকে তাই স্টিভ ওয়াহর পাল্লায় মাপলেও মনে হচ্ছে ওজনদার।

টেস্ট ক্রিকেটে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির মতো চটক নেই। যাঁরা দেখতে আসেন, তাঁরা হুল্লোড় করতে নয় বরং ক্রিকেটটা দেখতেই আসেন। ডেভিড ওয়ার্নার যে ‘স্নিক’ হওয়ার পরও নিজে থেকে হেঁটে ক্রিজ ছাড়লেন না, বরং রিভিউ নেওয়ার পর আম্পায়ার তাঁকে আউট দিলেন; এই ঘটনার পর আবারও তাঁকে ‘চিট, চিট’ ধ্বনি শুনিয়েছেন ইংল্যান্ডের দর্শকরা। কাল সকালে স্মিথ যখন নামেন, তখনো একই সুর। অনেকে গ্যালারিতে আবার স্মিথের মতো মুখোশ পরে এসেছেন। অ্যাশেজে তো বটেই, বিশ্বকাপেও দুয়োধ্বনি কম শোনেননি স্মিথ। মায়ের দিক থেকে তিনি আবার ইংরেজ, ‘মামার বাড়ি’র লোকদের কাছ থেকে এমনটা নিশ্চয়ই খারাপ লেগেছে তাঁর! সেসব গায়ে না মেখেই ব্যাট করেছেন। তুলে নিয়েছেন অ্যাশেজে নিজের দশম আর ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে দুই শতরান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সব শেষ ১০ ইনিংসে তাঁর রান ১০৭৭! একমাত্র ব্র্যাডম্যানই টানা ১০ ইনিংস ধরে এর চেয়ে ভালো খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাইতো সব ভুলে গ্যালারির দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন  স্মিথকে। প্রতিপক্ষ হলেও বীরের সম্মান দেওয়াটাই যে ক্রিকেটের প্রকৃত চেতনা। ক্রিকইনফো

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা