kalerkantho

ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ

স্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ইংল্যান্ড। স্কোরটা ৪ উইকেটে ২৬৭। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে পিছিয়ে মাত্র ১৭ রানে। তখনো অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান রোরি বার্নস। সঙ্গে ছিলেন বেন স্টোকস। বড় লিডের স্বপ্ন দেখাটা বাড়াবাড়ি নয় মোটেও। তবে গতকাল তৃতীয় দিন ইংলিশদের ৩০০ রানে ৮ উইকেটে পরিণত করে ম্যাচে ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকেই লড়াই ক্রিস ওকস ও স্টুয়ার্ট ব্রডের। নবম উইকেটে দুজনের জুটি ৬৫ রানের। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড অলআউট ৩৭৪ রানে। জো রুটের দলের প্রথম ইনিংসে লিড ৯০ রানের।

প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকার পর অস্ট্রেলিয়া সব শেষ ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জিতেছিল ১৯৮১ সালে। ৩৮ বছরের ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ জেতাটা সহজ নয় টিম পাইনের দলের। তৃতীয় দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা করেছিল ১২৪ রান। ডেভিড ওয়ার্নার ৭, ক্যামেরন ব্যানক্রফট ৭ ও উসমান খাজা ফেরেন ৪০  রানে।

অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও পেয়েছেন ওপেনার রোরি বার্নস। গত ৩৪ বছরে অ্যাশেজে এমন কীর্তি করা প্রথম ইংলিশ তিনি। অথচ কদিন আগেও বার্নসকে ‘নাইটওয়াচম্যান’ বলেছিলেন মার্ক ওয়াহ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দুই ইনিংসে ৬ ও ৬ রানে ফেরার পর ওয়াহর টুইট, ‘কথাটা চাঁচাছোলা হয়ে যায়। তার পরও রোরি বার্নসকে দেখে নাইটওয়াচম্যান মনে হয়েছে। ও অ্যাশেজে সুযোগ পাবে বলে মনে হয় না।’

২৯ বছর ছুঁই ছুঁই বার্নসের ব্যাটিং টেকনিক দৃষ্টিনন্দন নয়। ব্যাট নামিয়ে থাকেন দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় স্লিপের দিক থেকেও। তবে কচ্ছপের মতো মাটি কামড়ে থাকার গুণটা অসাধারণ। ৯০ থেকে ১০০-তে পৌঁছতে খেলেছেন ১০ ওভার। আর ৯৯ থেকে সেঞ্চুরি করেছেন ৯ বল খেলে। তখন মার্ক ওয়াহর আরো এক টুইট, ‘নিজের গর্ত খুঁড়ছে বার্নস।’ তখনই জবাবটা দেন রোরি বার্নসের ভাই লিয়াম বার্নসের টুইট, ‘থামো তো মার্ক। ও মানসম্পন্ন, বুদ্ধিমান এবং অবশ্যই তোমাদের পেস সামলানোর মতো মেরুদণ্ড ওর আছে।’ নিজের প্রথম সেঞ্চুরি নিয়ে বার্নস জানালেন, ‘২০০৫ অ্যাশেজ জয়ী নায়কদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাই উৎসাহ জুগিয়েছেন আমাকে।’

২৮২ বলে ১২৫ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করা বার্নস গতকাল আউট হয়েছেন ১৩৩ করে। নাথান লায়নের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে টিম পাইনকে। ৩১২ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি ১৭টি। আগের দিন ৩৮ রানে অপরাজিত থাকা বেন স্টোকসও বেশিক্ষণ টানতে পারেননি ইনিংসটা। ৫০ করে প্যাট কামিন্সের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দেন পাইনকে। হতাশ করেছেন বিশ্বকাপ মাতানো জনি বেয়ারস্টো। ৮ রান করে পিটার সিডলের শিকার এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। নাথান লায়নের বলের বাঁক বুঝতে না পেরে মঈন আলী বোল্ড ০ রানে। অ্যাশেজে এ নিয়ে সবশেষ ১০ ইনিংসে ৮ বারই লায়নের শিকার মঈন। ৫ উইকেটে ২৯৬ থেকে ৩০০ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয়েছিল ইংল্যান্ড। ১১ বলে বদলে যায় ম্যাচের গতি। তবে ক্রিস ওকস ও স্টুয়ার্ট ব্রডের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ৩৭৪ রানে অলআউট ইংল্যান্ড। ৬৫ রানের জুটিটা ব্রডকে ফিরিয়ে ভাঙেন প্যাট কামিন্স। ব্রড আউট হন ২৯ করে। ক্রিস ওকস অপরাজিত ছিলেন ৩৭ রানে। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নের শিকার ৩ টি করে উইকেট। সমান ২টি করে উইকেট জেমস প্যাটিনসন ও  পিটার সিডলের। ক্রিকইনফো

পকেট খালি - প্যান্টের পকেটে শিরীষ কাগজ এনে কেপ টাউনে বল বিকৃতি করেছিলেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট। এ নিয়ে ইংলিশ দর্শকরা দুয়ো দিয়ে চলেছে ব্যানক্রফট, ডেভিড ওয়র্নার ও স্টিভেন স্মিথকে। তবে মেজাজ হারাননি অস্ট্রেলিয়ানরা। গতকাল ফিল্ডিংয়ের সময় পকেটে কিছু নেই দেখিয়ে উল্টো মজা করলেন ওয়ার্নার। ছবি : ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস : ৮০.৪ ওভারে ২৮৪।

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ১৩৫.৫ ওভারে ৩৭৪ ( বার্নস ১৩৩, রুট ৫৭, স্টোকস ৫০, ওকস ৩৭*, ব্রড ২৯ ; কামিন্স ৩/৮৪, লায়ন ৩/১১২)।

মন্তব্য