kalerkantho

ফেরার চেয়ে রান করাতেই মনোযোগী নাজমুল

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেরার চেয়ে রান করাতেই মনোযোগী নাজমুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নাজমুল হোসেন শান্ত। একটা সময় মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গেই উচ্চারিত হতো তাঁর নাম। যখন দুজনেই ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের ভেতর সবচেয়ে বেশি রান ছিল নাজমুলের। আসরে তাঁর চেয়ে মাত্র ৮ রান বেশি করেছিলেন ভারতের ঋষভ পান্ট! মিরাজ, পান্টরা যখন জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করে ফেলেছেন, নাজমুল তখন জাতীয় দল থেকে বেশ খানিকটা দূরে। বিসিবি একাদশের হয়ে বেঙ্গালুরুতে আমন্ত্রণমূলক একটি আসরে খেলতে গিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। চার ম্যাচে একটি শতরান আর দুটি হাফসেঞ্চুরিতে ৩৪৬ রান করেছেন শান্ত। সামনেই ভারত সফরে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, নির্বাচকরা নিশ্চয়ই মাথায় রাখবেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতের মাটিতে তাঁর এই সাফল্যের কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি জায়গা হবে দলে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বাড়তি চাপের মুখে নিজেকে ফেলতে চান না নাজমুল। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপে জানালেন, ‘ব্যাপারটা তো আর আমার হাতে নেই। তাই ওসব নিয়ে ভেবে আর বাড়তি চাপ নিতে চাই না। দল থেকে বাদ পড়ার পর দলে ফেরার জন্য খুব ভালো কিছু করার চেষ্টা করে দেখেছি, এতে করে শুধু চাপই বাড়ে। আমি এখন শুধু রান করতে চাই। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি; যেখানেই খেলি না কেন।’ অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে টেস্ট ক্রিকেটে মিরাজের আগমন ধূমকেতুর মতো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ সেই পারফরম্যান্স তাঁকে দিয়েছে স্থায়ী জায়গা। নাজমুলের টেস্ট অভিষেক অনেকটাই তালেগোলে। ২০১৭ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে মূল দলের বাইরে এবাদত হোসেন আর নাজমুলকে বিসিবি নিয়ে গিয়েছিল অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। চোটে-আঘাতে একের পর এক ক্রিকেটার যখন খেলতে অপারগ, তখন বাধ্য হয়েই নাজমুলকে নামিয়ে দিয়েছিলেন কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। খুব স্বাভাবিকভাবেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ভালো কিছু করতে পারেননি নাজমুল। পরেরবার যখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশে টেস্ট একাদশে জায়গা পেলেন, তত দিনে অবশ্য  অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ‘এ’ দলের অধিনায়ক হয়ে দেশে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ঢাকা লিগে রান করেছেন। কিন্তু ফের যখন টেস্টে সুযোগ পেলেন, নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না। এশিয়া কাপে ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়ে তিন ইনিংসেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। নির্বাচকদের বিরুদ্ধে একটা ঢালাও অভিযোগ করা হয় যে বাংলাদেশে ক্রিকেটাররা ধাপে ধাপে নয়, বয়সভিত্তিক দল থেকে এক লাফে পৌঁছে যান জাতীয় দলে। নাজমুল সবগুলো ধাপ ভালোভাবে পার করে এলেও শেষ ধাপে এসে আর পায়ের নিচে মাটি পাচ্ছেন না।

সেসব বাদ দিয়ে এখন যেকোনো সুযোগ পেলেই রান করতে চান নাজমুল, ‘সামনে জাতীয় দলের ভারত সফর, আমি ভারতের মাটিতে রান করেছি এসব কিছু নিয়েই আসলে ভাবছি না।’ একই সঙ্গে জানালেন, ভারতের এই আমন্ত্রণমূলক আসরের ক্রিকেটের মান ছিল জাতীয় লিগের চেয়ে ভালো, ‘আমরা যে উইকেটগুলোতে খেলেছি, সেগুলো খুবই ভালো। দুটি উইকেট ছিল পেস বোলিং সহায়ক, একটি ছিল স্পিন সহায়ক আর একটি ব্যাটিং সহায়ক। তবে প্রথম ইনিংসে সব জায়গাতেই পেসাররা ভালো সুবিধা পেয়েছে। সারা দিন সুইং করাতে পেরেছে। প্রতিপক্ষে খুব গতিশীল কোনো বোলার ছিল না, তবে পেসাররা সুইং করিয়েছে। বেশ মানসম্পন্ন বোলাররা ছিল। সব মিলিয়ে আমাদের জাতীয় লিগের চেয়ে একটু ওপরেই ছিল প্রতিপক্ষের দলগুলোর মান।’ তাদের বিপক্ষে চার ম্যাচের ৭ ইনিংসে ৩৪৬ রান। ষাট ছুঁই ছুঁই গড়। এই পরিসংখ্যান কি আরেকটু সুযোগ এনে দেবে নাজমুলকে? নাকি ২১তম জন্মদিনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুলকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে আরা বড় মঞ্চে।

মন্তব্য