kalerkantho

তাঁদের যুগলবন্দিতেই কিংস সেরা

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাঁদের যুগলবন্দিতেই কিংস সেরা

চ্যাম্পিয়নদের উচ্ছ্বাস - নীলফামারীতে নিজেদের হোম ভেন্যুতেই বসুন্ধরা কিংস নিশ্চিত করেছিল লিগের শিরোপা। গতকাল লিগের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ড্র করেও তাই এমন বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস কিংস ফুটবলারদের। কাল ট্রফি নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আনন্দে মেতে ওঠেন ড্যানিয়েল কলিনড্রেস-মতিন মিয়ারা। ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাদের স্লোগানের সঙ্গেই মিলে গেল মৌসুমটা। বসুন্ধরা কিংসের স্লোগান হলো ‘জেতার জন্যই জন্ম।’ প্রথম মৌসুমে দু-দুটি ট্রফি জিতেই স্লোগানকে সত্য করে তুলেছে। বড় প্রেক্ষাপটে প্রথম মৌসুমে স্বাধীনতা কাপ এবং লিগ শ্রেষ্ঠত্বের কারিগর সবাই। এর পরও দু-একজন থাকেন, যাঁরা সবাইকে ছাড়িয়ে বড় স্বপ্নের সারথি হয়ে যান। সে রকম দুই সারথি কোচ অস্কার ব্রুজোন ও ড্যানিয়েল কলিনড্রেস, শুরু থেকেই যাঁরা দলের ভেতর বড় অর্জনের সাহস জুগিয়েছেন।

খুব মনে পড়ে অস্কার ব্রুজোনের সেই কথা, ‘আমাদের চোখ শীর্ষে। আবাহনীর সঙ্গেই আমাদের আসল লড়াই।’ এ কথার মর্মার্থ দুই রকম। একটি হলো আবাহনীকে হারানোর মতো দল হয়ে উঠতে হবে। তাহলেই সফল হবে শিরোপাযাত্রা। মালদ্বীপে কোচিং করানোর সুবাদে এ অঞ্চলের ফুটবল সম্পর্কে এই স্প্যানিশ কোচের ধারণা ভালো। তিনি জানেন এখানকার ফুটবলে আবাহনীর আধিপত্য। লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য যখন আবাহনী, তখন এই চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে তাঁর শুরু থেকেই অন্য রকম লড়াই। মাঠে যেমন, মাঠের বাইরেও তেমন; দেশের অন্যতম সেরা দলের ভুল দেখলেই সোচ্চার হতেন। এ চ্যালেঞ্জটাকে আস্তে আস্তে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন দলের ভেতর আর নিজের দলকে তৈরি করেছেন প্রচণ্ড আক্রমণাত্মকভাবে। ‘আমার দল অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে সব সময়। জিততে থাকুক কিংবা হারতে থাকুক, অ্যাটাকিং ফু্টবলই খেলি। এ ম্যাচেও (গতকাল) আমরা হাই প্রেসিং করে খেলেছি ম্যাচ জেতার জন্য। সেটা হয়নি, তবে দুটি শিরোপার সাফল্যে আমরা মৌসুম রাঙিয়েছি’—বলেছেন বসুন্ধরা কিংসের এই কোচ। তাঁর অধীন লিগের ২৪ ম্যাচে মাত্র একটি হার ও তিনটি ড্র, বাকি ২০ ম্যাচই জিতেছে কিংস। এর মধ্যে টানা ১৪ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েছে তারা। তাই গতকাল লিগের সেরা কোচ হয়েছেন তিনি।

তাঁর এই অ্যাটাকিং ফুটবলে বড় আবিষ্কার হলো মতিন মিয়া। এই দেশি ফরোয়ার্ড নিয়ে বিদেশি কোচরা সব সময় নাক সিটকাতেন। অভিযোগের সুরে বলতেন, অর্গানাইজেশন মেনে খেলতে পারেন না মতিন। তাই আগের মৌসুমেও বেশির ভাগ সময় তাঁকে বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছিল। কিন্তু কিংস কোচ তাঁকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন নিজের মতো খেলার। পরামর্শ ছিল শুধু ডান দিক দিয়ে খেলার। এভাবে খেলতে গিয়েই দেখা গেল কিংসের অন্যতম হাতিয়ার মতিন মিয়া। লিগে ১১ গোলের আগে দুটি টুর্নামেন্টে করেছেন দুই করে গোল।

তবে তাঁদের নেতা ছিলেন একজনই—ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। বাঁ দিকের উইংটাই ছিল সবচেয়ে ক্ষুরধার, এদিক থেকেই বল বানিয়ে দেওয়াটাই তাঁর মূল কাজ। তাই গোল করার চেয়ে করানোর দিকেই ছিল তাঁর বেশি মনোযোগ। কিন্তু লিগ শেষে দেখা গেছে গোলেই তিনি এগিয়ে, ১১ গোলের সঙ্গে ১০ অ্যাসিস্ট! এই বিশ্বকাপার দারুণ খুশি নতুন দলের এ সাফল্যে, ‘আমি খুব খুশি নতুন জায়গায় এসে সাফল্য পেয়েছি। এটা আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা, কারণ আমাদের অঞ্চলের চেয়ে একদম ভিন্ন এখানকার সব কিছু। তবে মানুষ খুব ভালোবাসে আমাকে। দলের সবার সহযোগিতায় আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’ এই বিশ্বকাপারের পাশে আমাদের ফুটবলাররা আসলে সাধারণ। তবে লিগের সেরা খেলোয়াড় হয়েও দেশি খেলোয়াড়দের অবদানের কথা অস্বীকার করেননি কলিনড্রেস, ‘এখানকার খেলোয়াড়রা খুব ভালো। তারা একসঙ্গে ভালো না খেললে আমাদের পক্ষে শিরোপা জেতা কঠিন হতো। আমরা আসলে একটি দল হয়ে খেলেছি, তাই বসুন্ধরা কিংস মৌসুমের সেরা দল হতে পেরেছে।’

এর পরও সেরা হওয়ার বড় উপকরণ যেন এই দুজন—অস্কার ব্রুজোন ও ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। তাঁদের যুগলে কিংস বসেছে কিংয়ের আসনে।

মন্তব্য