kalerkantho

বাবার কাছে এটাই স্মিথের সেরা ইনিংস

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবার কাছে এটাই স্মিথের সেরা ইনিংস

১৮ মাস আগের ঘটনা। স্টিভেন স্মিথের বাবা পিটার স্মিথ ছেলের ক্রিকেট কিট ব্যাগ ছুড়ে ফেলেছেন আস্তাকুঁড়ে। টাইম মেশিন দরকার নেই, গুগল করলেই খুঁজে পাওয়া যাবে সেই ফুটেজ, খবর সব কিছু। তারিখটা ছিল ১ এপ্রিল ২০১৮। আর ১ আগস্ট ২০১৯, টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেললেন স্মিথ। অঙ্কের বিচারে ১৪৪ হয়তো সামান্য তাঁর জন্য, কারণ এর চেয়ে বেশি রানের ইনিংস আছে আটটি। কিন্তু পরিস্থিতি বিচারে, স্মিথের অন্যতম সেরা ইনিংস। বিশেষ করে লোয়ার অর্ডারে পিটার সিডল ও নাথান লায়নকে নিয়ে যে লড়াইটা চালিয়েছেন, সেটা মনে করিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ব্রায়ান লারার সেই মহাকাব্যিক ১৫৩ রানের ইনিংসটাকেও।

কেপ টাউন ২০১৮ থেকে অ্যাজবাস্টন ২০১৯। মাঝের সময়টা কেমন কেটেছে সেটা শুধু স্মিথই জানেন। অধিনায়কত্ব গেছে। ক্ষুণ্ন হয়েছে মর্যাদা। ক্রিকেটটা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও এসেছিল মাথায়। সেখান থেকে নিজেকে তৈরি করেছেন ক্রিকেটে ফেরার জন্য। বিশ্বকাপে ঝলকটা দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু পরিণতি পাচ্ছিল না। অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে, দল যখন বিপদের মুখে তখনই বেরিয়ে এলো স্মিথের সেরাটা। শুধু নিজের রান করাই নয়, দলকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়েই খেলেছেন স্মিথ, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১০৫ রানে ৫ উইকেট পড়া দলটাকে পৌঁছে দিয়েছেন ২৮৪ রানে। শেষ দুটি উইকেটে ৮৮ ও ৭৪ রানের জুটি। স্মিথের বাবা পিটার একজন রসায়নবিদ, ছেলের মনের ভেতর কী রাসায়নিক বিক্রিয়া চলছে, সেটা টের পেয়েই বোধ হয় দেড় বছর আগে বলেছিলেন, ‘সে টিকে থাকবে।’ কাল অমন রূপকথার প্রত্যাবর্তনের পর বললেন, ‘এটা যদি তার সেরা ইনিংস নাও হয়, তবু সেরার কাছাকাছি। বিশেষ করে যেসব পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে মাঝের সময়টা গেছে, তাকে যে চাপের মুখে খেলতে হয়েছে আর আশপাশের মানুষকে যেভাবে সরে যেতে দেখেছে। সব মিলিয়ে এটা ওপরের দিকেই থাকবে।’ পিটার আরো জানান, ‘ছেলে তাঁকে বলেছে, এটা ছিল স্মিথের খেলা সবচেয়ে কঠিন ইনিংসগুলোর একটি।’ রিকি পন্টিংও স্মিথের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘এত কিছুর পর এত দিন পর ফিরে এসে কেউ যদি এভাবে খেলে, তাহলে বুঝতে হবে তার ভেতরে কী আছে। সে দেখিয়ে দিয়েছে সে মানসিকভাবে কতটা শক্ত আর কতটা ভালো টেস্ট ক্রিকেটার।’ সিএ, টিওআই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা