kalerkantho

নতুন পরিকল্পনার তাগিদ সাকিবের

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন পরিকল্পনার তাগিদ সাকিবের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক হাহাকারের বড় অংশজুড়েই আছে ব্রিস্টলে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি। যেটি হয়নি বলে আরো ২টি পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশা এখন নিশ্চিতভাবেই কমা উচিত। যখন সাকিব আল হাসান নিজেই কাল বলে বসেছেন, ‘বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের ম্যাচটি হয়নি। অনেকেই নিশ্চিত ছিল আমরা ২ পয়েন্ট পাব। এই সিরিজে কিন্তু প্রমাণ হয়েছে যে সেই জয়টি নিশ্চিত ছিল না।’

সদ্য সমাপ্ত সিরিজে যখন হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ, তখন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের বক্তব্যে পাল্টা যুক্তি দেখানোরও কোনো সুযোগ নেই। বরং এই সিরিজের পারফরম্যান্সে মনে হচ্ছে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা থমকেই গেল কি না। যদিও দুর্দান্ত পরিকল্পনায় সাময়িক এই ধাক্কা সামলে ওঠা সম্ভব বলেই মনে করেন বিশ্বকাপে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি ১১টি উইকেটও নেওয়া সাকিব, ‘হয়তো এখন সময় এসেছে ভালোভাবে চিন্তা করে তিন-চার বছরের জন্য পরিকল্পনা করার। আমি নিশ্চিত বিসিবিতে যাঁরা আছেন, তাঁরাও এটি নিয়ে চিন্তা করছেন। ইতিমধ্যেই তাঁরা দুজন কোচও নিয়োগ দিয়েছেন। হয়তো পুরো কোচিং স্টাফ একসঙ্গে হলে বোর্ডকে একটি পরিকল্পনা দিতে পারবে। সেভাবে কাজ করতে পারলে আমাদের ক্রিকেট গত চার বছরে যত দূর এগিয়েছে, এখান থেকেই আবার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

আগের দিনই ঢাকা ডায়নামাইটস ছেড়ে রংপুর রাইডার্সে যোগ দেওয়া আনুষ্ঠানিকতা সারা সাকিব কাল কথাগুলো বলছিলেন বনানী বিদ্যা নিকেতনে। সেখানে ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নিতেই গিয়েছিলেন তিনি। যদিও সেখানেও ক্রিকেট প্রসঙ্গ চলেই এলো। সাকিব যখন কথা বলছেন, তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই হতাশার সফর শেষে দেশে ফেরার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। কিন্তু সাত সকালে কলম্বো থেকে উড়াল দেওয়ার আগে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের এয়ারক্রাফটে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত হয় বেশ কয়েক ঘণ্টা। অবশেষে গতকাল দুপুর আড়াইটায় দেশে ফেরেন ক্রিকেটাররা। যাঁদের প্রত্যেকের কাছেই ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন সাকিব, ‘আমি তো মনে করি, সবারই নিকটস্থ স্কুলে গিয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া উচিত।’

অবশ্য শ্রীলঙ্কা সফরে তাঁর সতীর্থদের ব্যর্থতার কারণ প্রকাশ্যে অনুসন্ধান করতে রাজি হননি সাকিব, ‘আমি সব সময়ই বলি, এগুলো মিডিয়ার সামনে বলতে চাই না। মানে এটি সবার জানার বিষয় বলে আমি মনে করি না। দলসংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ করে সমাধান বের করাই সেরা উপায়।’ এর পরও তাঁর কথায় কিছু বার্তা কিন্তু আছে, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত ধারণা। ঠিক হতে পারে, ভুলও হতে পারে। যখন একজন খেলোয়াড় প্রস্তুত থাকে, তখনই তার খেলা উচিত। প্রস্তুত না হয়ে খেলা উচিত নয়। কিংবা পুরো ফিট না থেকে খেলা কঠিন হয়ে যায়। এটি পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে যে আপনি কতটা ফিট বা আনফিট। সেটি (ফিটনেস) মানসিকও হতে পারে অথবা শারীরিকও।’

পুরো প্রস্তুত না হয়ে খেলার বিষয়টি নির্ধারণ করবেন কে? সে প্রশ্নের জবাবে সাকিব দায়িত্ব দেখছেন খেলোয়াড়ের নিজের এবং সংশ্লিষ্ট (কোচ, ফিজিও) যাঁরা আছেন, প্রত্যেকেরই। পুরো ফিট না হলে ‘ব্রেক’ নেওয়ার যে পরামর্শ দিচ্ছেন, তার সুফলও দেখিয়েছেন এই অলরাউন্ডার, ‘একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে কখনোই টানা খেলা সম্ভব নয়। সুতরাং ব্রেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্রেক যখন দেওয়া হবে, তখন অনেক খেলোয়াড়েরও সুযোগ আসবে। তাতে পাইপলাইনে খেলোয়াড়ও তৈরি হবে। এসব নিয়েই বিশদ পরিকল্পনা করতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে ভারতের উদাহরণও টেনেছেন তিনি, ‘আমি ভারতের একটি ভালো উদাহরণ দিতে পারি। গত কয়েক বছরে ওদের খেলোয়াড়দের ইনজুরি কম হয়েছে। এর বড় কারণ ওরা রোটেশন পলিসিতে খেলিয়েছে। এতে করে অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। অনেক খেলোয়াড় এক্সপোজার পেয়েছে। একই সঙ্গে ওদের খেলোয়াড়রা যখন যে এসেছে, তখন ঝরঝরে অবস্থায় খেলে পারফরম করতে পেরেছে।’

আজ হজ করতে সৌদি আরব যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাকিব কথা বলেছেন তামিম ইকবালের দুঃসময় নিয়েও। শ্রীলঙ্কা সিরিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ককে দিয়েছেন এই পরামর্শও, ‘দেখুন, একজন খেলোয়াড়ের এ রকম সময় যেতেই পারে। আমার কাছে এখন ওর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় খুব ভালো বিশ্রাম নেওয়া, রিকভার করা, ঝরঝরে হওয়া এবং দারুণভাবে ফিরে আসা। আমি নিশ্চিত যে ও সেটি করবে।’

মন্তব্য