kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

ট্রফি উন্মোচন

‘যে নেই, তাঁকে নিয়ে কথা না বলাই ভালো’

২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘যে নেই, তাঁকে নিয়ে কথা না বলাই ভালো’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তামিম ইকবালকে বারবারই এই কথাটি বলতে শোনা যাচ্ছিল যে, ‘আমরাও একই রকম পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম।’

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় রক্তাক্ত বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসনেই যেতে বসেছিল প্রায়। এই বছর সেই একই পরিস্থিতির মুখে ছিল শ্রীলঙ্কাও। ইস্টার সানডেতে গির্জা ও পাঁচতারা হোটেলে বোমা হামলায় ক্ষতবিক্ষত এই দ্বীপ দেশটির ক্রিকেটের প্রতি প্রথম বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া দেশটিও বাংলাদেশই। ওই ঘটনার পর স্বাগতিকদের সঙ্গে তামিম ইকবালদের তিন ম্যাচের ওয়ানডে লড়াই দিয়েই সেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে। ফেরাতে গিয়ে অতিথি দলকে দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তাও। যা এত দিন বাংলাদেশ সফরে আসা দলগুলো পেয়ে এসেছে। টিভিএস সিরিজের ট্রফি উন্মোচন উপলক্ষে কাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েই সবার আগে কথা বললেন মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরিতে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক তামিম, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব খুশি। সেই সঙ্গে দারুণ আতিথ্যও পাচ্ছি আমরা।’

তবে আয়োজকরা নিশ্চিতভাবেই অতিথির হাতে ট্রফি তুলে দিতে চাইবে না। আর শ্রীলঙ্কায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশও মাঠে বন্ধুসুলভ থাকবে না। বরং হতাশার বিশ্বকাপ সিরিজ জয় দিয়েই যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাইবে। যদিও কলম্বোয় বাংলাদেশ দলের ঠিকানা তাজ সমুদ্র হোটেলে কাল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে অন্য রকমই বললেন তামিম, ‘পয়েন্ট টেবিল দেখে হয়তো মনে হবে আমরা খুব খারাপ করেছি। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা যথেষ্ট ভালো ক্রিকেটই খেলেছি।’ তবে ‘আমরা’র জায়গায় নিজেকে নিয়ে বললে যে তামিমও বুক ফুলিয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।

কাজেই শ্রীলঙ্কা সিরিজ তাই তামিমের জন্যও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তাঁর মতো আরো অনেকেরও। সেই লড়াইয়ে নামার আগে আজ নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার একটি প্রস্তুতি ম্যাচও আছে তাদের। কলম্বোর পি সারা ওভালে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় ১০টা ৪৫ মিনিট) শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বোর্ড সভাপতি একাদশ। ৫০ ওভারের এই ম্যাচ থেকে ২৬ জুলাই প্রথম ওয়ানডের একাদশ সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা মিলতে পারে। তামিম অন্তত সে ইঙ্গিতই দিয়েছেন, ‘আমরা চেষ্টা করব প্রথম ম্যাচে যে ১১ জন খেলবে, তাদের সিংহভাগকেই যেন প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়া যায়।’ প্রথম ম্যাচে যাঁরা সুযোগ পাবেন, তাঁদের কাছে সেটি কাজে লাগানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

অবশ্য সাকিব আল হাসান না থাকায় এই দলের ভারসাম্যে কোনো সমস্যা হবে কি না, সে প্রসঙ্গও উঠল সংবাদ সম্মেলনে। এই সিরিজের অধিনায়ক জবাব দিলেন এভাবে, ‘দলে যে নেই, তাঁকে নিয়ে কথা বলাটা আমার পছন্দের নয়। তবে সাকিব তো স্পেশাল অবশ্যই। যে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম করেছে। কিন্তু এই সফরে যেহেতু নেই, মনে হয় ওকে নিয়ে কথা না বলাই ভালো। আমার হাতে ১৪ জন খেলোয়াড় আছে। প্রত্যেকেরই সামর্থ্য আছে। আশা করব প্রথম ওয়ানডেতে যারাই খেলবে, প্রত্যেকেই সুযোগটি কাজে লাগাবে।’ বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর সিরিজ যখন আসন্ন, তখন স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাও একটু বিপন্ন। এই অর্থে যে ক্রীড়ামন্ত্রী ইতিমধ্যে এই সিরিজের পর সব কোচিং স্টাফ বদলানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তাদের কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে বারবারই তা নিয়ে বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো। তিনি বারবারই বলে গেলেন যে, ‘আমার সঙ্গে এটি নিয়ে এখনো কেউ কথা বলেনি। তা ছাড়া এতে (ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণায়) আমাদের গেম প্ল্যানও বাধাগ্রস্ত হবে না।’ বললেন বটে, কিন্তু এটি তো জানা কথাই যে এই অবস্থায় খুব সুস্থির হওয়ারও

সুযোগ নেই। তাই নানা রকম অস্থিরতা নিয়েই বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। সন্ত্রাসী হামলার পর যাদের মাঠে প্রথম ক্রিকেট খেলতে গেল বাংলাদেশই।

মন্তব্য