kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

‘অ্যাভারেজ’ বিশ্বকাপ ভুলে দৃষ্টি সামনে

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘অ্যাভারেজ’ বিশ্বকাপ ভুলে দৃষ্টি সামনে

মোসাদ্দেক হোসেনের জবাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার গ্লানিই যেন ফুটে উঠল, ‘আমার দৃষ্টিতে অ্যাভারেজ একটি বিশ্বকাপই পার করে এসেছি আমরা।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কেমন গেল বিশ্বকাপ? ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে খেলে আসা মোসাদ্দেক হোসেনের জবাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার গ্লানিই যেন ফুটে উঠল, ‘আমার দৃষ্টিতে অ্যাভারেজ একটি বিশ্বকাপই পার করে এসেছি আমরা।’ নিজেদের ইতিহাসের সেরা দল নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ১০ দলের মধ্যে হয়েছে অষ্টম। জিতেছে মাত্র তিনটি ম্যাচ। ‘মাত্র’ই কারণ সমানসংখ্যক ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে আগের তিনটি আসরেও। কাজেই ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫-র সঙ্গে তুলনায় এবারের পারফরম্যান্সকে আশাব্যঞ্জকও বলার সুযোগ কম।

কিন্তু সেই আশা ভঙ্গের বেদনায় মুষড়ে থাকলেও তো চলে না। তাকাতে হয় সামনে। আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে হয়। সামনে এগিয়ে যেতে পূর্ববর্তী ব্যর্থতার কথা ভুলে যাওয়াকেও মনে হয় সেরা উপায়। শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার আগে সম্ভবত সে পথই বেছে নিতে চাইছে বাংলাদেশ শিবির। দলের হয়ে কাল মোসাদ্দেকই যে মনোভাব জানিয়ে গেলেন। বিশ্বকাপ ভুলে সামনে তাকানোই এখন সর্বোত্তম হবে বলে মত এই অলরাউন্ডারের, ‘এখন যেহেতু বিশ্বকাপ শেষ, আমি মনে করি না যে ওটা নিয়ে খুব বেশি ভাবা উচিত। যেটি শেষ হয়ে গেছে, সেটি নিয়ে হাজার কথা বললেও আর ফিরে আসবে না। কাজেই সামনে আমাদের যে সিরিজগুলো আছে, সেগুলোতে দৃষ্টি দেওয়াই ভালো হবে।’

তবে মাত্রই খেলে আসা বিশ্বকাপের কথা কি অত সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ২৭ বলে ৫২ রানের হার না মানা বিস্ফোরক ইনিংসে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশকে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতানো মোসাদ্দেকের জবাব, চাইলে সেটিও অসম্ভব নয়, ‘যদি চিন্তা করতে যাই, তাহলে অনেক বেশি কিছু হয়তো (মাথায়) চলে আসবে। আবার চিন্তা না করলে কিছুই না। কারণ জীবনে একটি বিশ্বকাপই সব কিছু না। এমন নয় যে বিশ্বকাপ শেষ মানে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। দিন শেষে আমাদের ক্রিকেটই খেলতে হবে। তাই আমি মনে করি না যে বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের চিন্তা করার খুব বেশি সময় আছে।’ 

এটি অবশ্য ঠিক কথাই। বিশ্বকাপ শেষ বলে পেশাদার ক্রিকেটারের জীবন তো আর থেমে থাকবে না। তাঁকে নতুন সিরিজে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেমে পড়তে হবে। অন্যদের মতো মোসাদ্দেকের চোখও তাই আপাতত শ্রীলঙ্কা সফরের তিন ওয়ানডেতেই। ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো সামনে রেখে দলে নিজের গাঁথুনি আরো মজবুত করারই চিন্তা এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের। তা ছাড়া যেখানে ব্যাটিং করতে হয় তাঁকে, সেখানে নেমেই দলের রান দ্রুত বাড়ানোর দাবি থাকে। গত বেশ কিছুদিন ধরে যে ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করে এসেছেন, সেই স্ট্রাইক রেট নিয়েই ভাবনায় ডুবে থাকছেন মোসাদ্দেক। বিশ্বকাপেও কিছু ম্যাচে বড় ইনিংস না খেললেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০-র ওপরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই যেমন ২০ বলে করেছিলেন ২৬ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল না জিতলেও ১৬ বলে ২৬ রানের ইনিংসে পরিস্থিতির দাবি মেটানোর চেষ্টা করেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৪ বলে খেলেছিলেন সদ্যঃসমাপ্ত বিশ্বকাপে তাঁর সর্বোচ্চ ৩৫ রানের ইনিংসটি। ৭ ম্যাচে ১৯.৫০ গড়ে মাত্র ১১৭ রান করলেও তাঁর স্ট্রাইক রেট একশর (১০৬.৬৩) ওপরেই ছিল।

শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যাটিং অর্ডারে একই জায়গায় নেমে আরো ভালো কিছুই করার চিন্তা তাঁর, ‘আয়ারল্যান্ড সিরিজ বা বিশ্বকাপে যে জায়গায় ব্যাটিং করেছি, শ্রীলঙ্কায়ও করতে হবে সেখানেই। টিম কম্বিনেশন বা যা-ই বলুন না কেন, ওখানটাতেই আমি সেট। এর বাইরে কিছু চিন্তা করছি না।’ স্ট্রাইক রেটের ব্যাপারটি খুব করেই মাথায় আছে, তবে আগে পরিস্থিতির দাবিটা বুঝতে চান, ‘বিশ্বকাপের আগে গত প্রিমিয়ার লিগ থেকেই আমি স্ট্রাইক রেট নিয়ে কাজ করছি। তবে আমি ব্যাটিংয়ে নামার পর কী পরিস্থিতি থাকে, সেটিও দেখতে হবে। হয়তো খারাপ পরিস্থিতি থাকলে আমাকে ভালো করে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। তাই এটি নিয়ে অবশ্যই কাজ করছি যে ভালো পরিস্থিতি পেলে কী করা লাগবে এবং খারাপ পরিস্থিতিতে দলকে কিভাবে বাঁচাতে হবে। এই দুটি ব্যাপার নিয়ে কাজ করছি।’

সেই সঙ্গে ‘অ্যাভারেজ’ বিশ্বকাপ ভুলে যাওয়ার চেষ্টা তো আছেই!

মন্তব্য