kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

আবার মাঠে

আপাতত ‘দেখাশোনা’ করছেন মাহমুদ

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপাতত ‘দেখাশোনা’ করছেন মাহমুদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দিন কয়েক আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান আকরাম খান শ্রীলঙ্কা সফরে অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ হিসেবে খালেদ মাহমুদের নাম ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তিন ওয়ানডের সেই সফর সামনে রেখে গতকাল তিন দিনের অনুশীলন শিবির শুরুর দিন মাহমুদের বক্তব্যে তৈরি হলো ধোঁয়াশা, ‘‘আমার সঙ্গে এখনো এই ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। বোর্ড আমার সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেনি। আকরাম ভাই শুধু আমাকে বলেছেন, ‘তুই আপাতত দেখাশোনা কর। যেহেতু আমাদের কোচ নেই।’ তবে ব্যাপারটি আনুষ্ঠানিক নয়।’’

নয় বলেই বাংলাদেশ দলের দেখাশোনার দায়িত্ব তিন দিনেরই ধরে রাখছেন বিসিবি পরিচালক ও সাবেক এই অধিনায়ক, ‘এর মধ্যে আমরা নতুন কোচ পেয়েও তো যেতে পারি। এমন যদি হয়, তাহলে তো ভালোই। আপাতত এই দুই-তিন দিনের অনুশীলন শিবিরে অবশ্যই কাজ করব। এরপর বোঝা যাবে কী হবে না হবে।’ যদিও নতুন হেড কোচ কিংবা তাঁর সহকারীদের সহসাই খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। স্টিভ রোডসের উত্তরসূরি খুঁজে পেতে ইতিমধ্যে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। ওই পদে আবেদনের সময়সীমাও শেষ হচ্ছে আজ। ২০ জুলাই তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের দেশ ছাড়ার আগে তো বটেই, আবেদন যাচাই-বাছাই করে সাক্ষাৎকারের জন্য আগ্রহীদের ডেকে পাঠানোর বিষয়টিও বেশ সময়সাপেক্ষ বলে শ্রীলঙ্কা সফর আপৎকালীন ব্যবস্থাতেই চালিয়ে নিতে হবে বলে একাধারে বেশ কয়েকজন কোচকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের ব্যাটিং ও ফাস্ট বোলিং কোচ ওয়াসিফ জাফর এবং চম্পাকা রামানায়েকেরা আপাতত জাতীয় দলে এই দায়িত্ব সামলাবেন। তাঁদের নাম ঘোষণার দিনই অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ হিসেবে মাহমুদের নামও জানান আকরাম।

যদিও মাহমুদের বক্তব্যের সূত্র ধরে বিষয়টিকে আর জটিল হতে দেননি আকরাম। কাল সন্ধ্যায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ হিসেবে মাহমুদের নিয়োগ নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমি তো বোর্ডের বাইরের কেউ নই। আমার বক্তব্যই তাই বোর্ডের বক্তব্য। একেই বোর্ড সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী দেশে নেই। এর মধ্যে কোনো বোর্ড সভাও হয়নি। এই অবস্থায় একটি ব্যবস্থায় যেতেই হতো। আমি গিয়েছিও। আমি যা বলেছি, সেটিই আনুষ্ঠানিক। এই সফরে খালেদ মাহমুদই কোচ।’

কিছুদিনের জন্য দায়িত্ব পেলেও তাঁর যে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করার ইচ্ছা, সে কথা মাহমুদ আগেও বলেছেন। বললেন কালও। এই অল্প সময়ের জন্য কাজ করা কতটা কঠিন, সে প্রশ্নের জবাবেই আরেকবার বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হতে চাওয়ার মনোবাসনা, ‘এভাবে কাজ করা তো কঠিন অবশ্যই। কোচদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থাকে। স্টিভ রোডসও যখন বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজে কিন্তু তাঁর (প্রথম) সিরিজ ভালো যায়নি (টেস্ট সিরিজ)। এরপর তাঁর অধীনে বাংলাদেশ বেশ কিছু ম্যাচ জিতেছে। পরিকল্পনার জন্য সময়ের দরকার হয়। যদিও আমি বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানি। কারণ দলের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই আছি। এর পরও দীর্ঘ সময়ের জন্য সুযোগ পেলে যেকোনো মানুষেরই কাজ করতে সুবিধা হয়।’ তাই বলে এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকেও পায়ে ঠেলছেন না এ জন্য, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমি এত দিন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আছি। দেশের স্বার্থে আমি সব সময় কাজ করে যেতে চাই। দেশের যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি প্রস্তুত। যেহেতু আমি দলের সঙ্গেই থাকি, কোচ হিসেবে না থাকলেও ম্যানেজার হিসেবে থাকতাম।’

বিশ্বকাপে ছিলেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার। এবার শ্রীলঙ্কায় কোচ হিসেবে অন্য চ্যালেঞ্জও থাকছে, ‘ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলেও চ্যালেঞ্জ থাকে। শ্রীলঙ্কা সিরিজও আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে যদিও আমার কিছু খেলোয়াড়কে মিস করব। তার পরও আমার মতে দলটি ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই হয় আমাদের। আশা করি আমরা ভালোই করব।’ ভালো করার ক্ষেত্রে সাকিব আল হাসানের শূন্যতা পূরণের তাগিদও দিয়েছেন মাহমুদ, ‘সাকিবের জায়গা তো পূরণীয় নয়। সাকিব সাকিবই। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। ওকে না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে আমাদের দলের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটবে। ব্যাটিংয়ের তিন নম্বরে ওকে আমরা পাচ্ছি না। ওর জায়গায় যে তিন নম্বরে ব্যাটিং করবে, এটি আবার তার জন্য বড় সুযোগ। তাকে সে দায়িত্বটি নিতে হবে।’

এখন যেমন অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদ।

মন্তব্য