kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

উদ্‌যাপন হলো ওভালে

বিশ্বাসে বিশ্বকাপ মিলেছে ইংল্যান্ডের

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বাসে বিশ্বকাপ মিলেছে ইংল্যান্ডের

ক্রিকেটের আবিষ্কারক তারা, কিন্তু এত দিন বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। পরশু নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে যে ট্রফি জিতল ইংল্যান্ড, সেটি তাই অমূল্য। ২০১৫ বিশ্বকাপের পরের চার বছরের পরিশ্রমের পুরস্কারও। অধিনায়ক এউইন মরগানও তো বলে গেলেন তা।

‘আমার জন্য, আমার দলের জন্য, গত চার বছরে এ দলের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন সবার জন্যই এ জয় অমূল্য। কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা, দায়বদ্ধতা এবং ফাইনালের কিছুটা ভাগ্য আমাদের বিশ্বকাপ জেতাল। ইংল্যান্ডের সবার জন্য এবং বিশ্বজুড়ে যাঁরা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের জন্যও এটি অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই সবাই আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল, কারণ আমরাও বিশ্বাস রেখেছি নিজেদের ওপর। সবাইকে তাই ধন্যবাদ’—ফাইনাল শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। আবেগে যে তখনো টইটম্বুর, স্বীকার করে নেন তা, ‘আমি কিছুটা আবেগপ্রবণ

হয়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপ যে জিতেছি, সেটি এখনো ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না। এটি অলৌকিক এক দিন। সবাই সাক্ষী হলো সবচেয়ে অবিশ্বাস্য এক ক্রিকেট ম্যাচের; যেখানে দুই দলকে আলাদা করার প্রায় কোনো উপায় নেই। কিন্তু খেলায় কখনো কখনো সূক্ষ্ম পার্থক্যই বড় হয়ে যায়। এ ফাইনালে সেটি ছিল সূক্ষ্মতম। যেকোনো দলই তাই জিততে পারত। ভাগ্যকে ধন্যবাদ যে আমরা জিতেছি।’

ফাইনালের ম্যাচসেরা বেন স্টোকসকেও প্রশংসায় ভাসান মরগান, ‘স্টোকস তো প্রায় অতিমানব। ও পুরো দল এবং ব্যাটিং লাইনকে টেনে নিয়ে গেছে। বাটলারের সঙ্গে ওর জুটি ছিল দুর্দান্ত। তবে লোয়ার অর্ডার নিয়ে পরে ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা অবিশ্বাস্য। আশা করছি, বাড়িতে বসে যারা খেলা দেখেছে, ওরা ভবিষ্যতের বেন স্টোকস হতে চাইবে।’ তাঁর ব্যাটে লেগে বলের দিক বদলে বাউন্ডারি হওয়ার সময়টি ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক কী হচ্ছিল, তা ইংল্যান্ড অধিনায়কও ঠিক বুঝতে পারছিলেন না বলে স্বীকার করে নেন, ‘আমি আসলে ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না যে, কী হলো। অবশ্যই স্টোকস লাফিয়ে পড়ল, চারদিকে ধুলো, এর মধ্যে ব্যাটে বল লেগে তা দিক পরিবর্তন করে বাউন্ডারির দিকে ছুটল আর নিউজিল্যান্ডের সবাই হতবুদ্ধি হয়ে ভাবতে লাগল যে, ‘এটি কী হলো?’ আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম, বল কি স্টোকসের ব্যাটে লেগেছে? নাকি উইকেটরক্ষকের গায়ে লেগেছে। উদ্‌যাপন না করে সেটি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। এটি আসলে উদ্‌যাপন করার মতো ব্যাপারও না; কারণ সেটি আমাদের দলের বিপক্ষেও হতে পারত।’

সুপার ওভারে ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ে পাঠায় স্টোকস ও জস বাটলারকে। সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সময়ের ভাবনা জানান মরগান, ‘শেষ ১০ মিনিট সম্ভবত আগের ২০ মিনিটের চেয়েও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। এমন এক ম্যাচে হেরে গেলে যে কী হবে, তা-ও বুঝছিলাম। ব্যাটিংয়ে বেনকে পাঠানোর ব্যাপারে একটাই চিন্তা ছিল, ওর কি আবার ব্যাটিং করার মতো শক্তি রয়েছে? এরপর ভাবছিলাম, ওরা কোন প্রান্ত থেকে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ডানহাতি, বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকে থাকা, না থাকা ঠিক করেছি।’ আর নিজেরা ১৫ রান করার পর ফিল্ডিং করতে নামার আগে তাঁর কথাবার্তায় যে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা হেসে নিজ নিজ ফিল্ডিং পজিশনে চলে গেলেন, সেটি কিভাবে সম্ভব? ‘সারা দিনের চাপের কথা বাদ দিন, বিশেষ ওই মুহূর্তের চাপ ছিল অবিশ্বাস্য। খেলা সুপার ওভারে গেল; আমাদের রান ডিফেন্ড করতে হবে—অমন চাপের সময়ও আমি সবাইকে উৎসাহিত করছিলাম হাসার জন্য; সময়টা উপভোগ করার জন্য। আসলে আমার চেষ্টা ছিল সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে স্নায়ুচাপ কিছুটা কমানোর। ছেলেরা তাতে সাড়া দিয়েছে দারুণভাবে’—আনন্দিত মরগান।

নিজেরা জিতলেও নিউজিল্যান্ডের জন্য পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে মরগানের, “নিউজিল্যান্ডের জন্য অবশ্যই আমার সমবেদনা আছে। টুর্নামেন্টজুড়েই ওরা দুর্দান্ত খেলেছে। আমার তো মনে হয়, আমাদের চেয়েও ওদের টুর্নামেন্ট ভালো কেটেছে। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত, সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়েছে দাপটের সঙ্গে। যেভাবে ক্রিকেট খেলেছে ওরা, সেটিও দারুণ। এই নিউজিল্যান্ডের খেলা দেখিয়ে শিশুদের বলা যেতেই পারে, ‘ওদের সম্মান করো। কেননা অমন প্রশংসা করার মতো ক্রিকেটই ওরা খেলেছে।’”

নিউজিল্যান্ডের সে সম্মান প্রাপ্য। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা তো জিতল ইংল্যান্ডই। ‘ইটস কামিং হোম’ গানটি সত্যি সত্যি যেন কল্পনা থেকে নেমে এলো বাস্তবে। আইসিসি

মন্তব্য