kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

এত কিছু করেও দশে চার ওয়ার্নারের!

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অসহায় আত্মসমর্পণের ছবি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে এই কিংবদন্তি লেগ স্পিনারের। ১৯৯৯-র বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ম্যাচ সেরার কাছে ওয়ার্নার ও স্টার্কের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও তাই আর এখন অতটা অর্থবহ নয়। হলে কি আর ওয়ার্নারকে দশে চার কিংবা স্টার্ককে পাঁচ নম্বর দিতেন!

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এত কিছু করেও দশে চার ওয়ার্নারের!

মাত্র ৯ রানের একটি ইনিংস খেলাতেই কেমন মূল্যহীন দেখাচ্ছে ডেভিড ওয়ার্নারের আগের ৬৩৮ রান! অবশ্য ওয়ার্নার একা নন, বিশ্বরেকর্ড গড়া মিচেল স্টার্কেরও তো পাস মার্ক নিয়ে টানাটানি! স্বদেশি গ্লেন ম্যাকগ্রাকে টপকে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট নেওয়া এই ফাস্ট বোলারের হতাশাজনক সেমিফাইনাল পারফরম্যান্সই এর কারণ। অন্য কেউ হলে তবু কথা ছিল। কিন্তু যখন মার্কিং করতে বসেছেন অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জেতানো শেন ওয়ার্ন, তখন একটু বেশিই খড়গহস্ত হবেন স্বাভাবিক। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অসহায় আত্মসমর্পণের ছবি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে এই কিংবদন্তি লেগ স্পিনারের। ১৯৯৯-র বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ম্যাচ সেরার কাছে ওয়ার্নার ও স্টার্কের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও তাই আর এখন অতটা অর্থবহ নয়। হলে কি আর ওয়ার্নারকে দশে চার কিংবা স্টার্ককে পাঁচ নম্বর দিতেন!

নিউজডটকমডটএইউ-তে ওয়ার্ন বার্মিংহামে অস্ট্রেলিয়ার একাদশের প্রতিটা খেলোয়াড়ের সেমিফাইনাল পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে মার্কিং করেছেন। তাতে অবশ্য কেউ কেউ উতরেও গেছেন। এই যেমন স্টিভেন স্মিথ। সেটি খুব স্বাভাবিকও। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে এই সাবেক অধিনায়ক রুখে না দাঁড়ালে আরো করুণ পরিণতিই অপেক্ষা করে থাকতে পারত অজিদের জন্য। ওয়ার্নের কাছ থেকে তাই সর্বোচ্চ ৮ নম্বর তাঁর পাওনাই ছিল। যা দিতে কার্পণ্যও করেননি সর্বকালের অন্যতম সেরা এই লেগ স্পিনার। ৮৫ রানের ইনিংস খেলা স্মিথকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি, ‘স্মিথ ছিল দুর্দান্ত। ও না থাকলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১৫০ রান করাও মুশকিল হয়ে যেত। অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়ার সময়ও সে দারুণ ব্যাটিং করে গেছে। ওই অবস্থায় ভালো ব্যাটিং করা মোটেও সহজ কাজ নয়।’

স্মিথ প্রশংসিত হলেও ওয়ার্নের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন টুর্নামেন্টজুড়ে আগুনঝরা বোলিং করে আসা স্টার্ক। এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের মধ্যে সেমিফাইনালে আগ্রাসী মনোভাবের অভাবই খেপিয়ে তুলেছে ওয়ার্নকে, ‘পুরো টুর্নামেন্টেই অসাধারণ বোলিং করে এসেছে সে। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওর বোলিংয়ে সেই আগুন কিংবা যথেষ্ট আগ্রাসন ছিল না। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, এমন ডেলিভারি ও যথেষ্ট করতে পারেনি। এমনকি ম্যাচের ছন্দ ধরে দেওয়ার জন্য শর্ট বলও ওকে অতটা করতে দেখা যায়নি। বরং ফুল লেন্থের বলই বেশি করেছে।’ ওয়ার্নারের প্রতি অবশ্য একটু সদয় হয়েছেন এ জন্য যে, ‘যে (ক্রিস ওকসের করা যে ডেলিভারিতে ক্যাচ হয়েছেন জনি বেয়ারস্টোর) বলে সে আউট হয়েছে, তাতে ওর আসলে তেমন কিছুই করার ছিল না।’

বাড়তি বাউন্সের সেই বলে ওয়ার্নার বিদায় নিলেও দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার ব্যাটসম্যান তো আরো ছিলেন। কিন্তু স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি ছাড়া সেমিফাইনালে বাকি সবাই ছিলেন একই পথের পথিক। এঁদের মধ্যে ১০ বলে মাত্র ৩ রান করা পিটার হ্যান্ডসকম্বের ওপর একটু বেশিই চটেছেন ওয়ার্ন, ‘প্রথম একাদশে ওর জায়গা পাওয়াই উচিত নয়। ওকে দেখে রান করতে পারবে বলে মনেই হচ্ছিল না। ওই সংক্ষিপ্ত ইনিংসেও সে আরো তিন থেকে চারবার আউট হতে পারত।’ ওয়ার্নারের ওপেনিং সঙ্গী এবং অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের পাশাপাশি স্টার্কের নতুন বলের পার্টনার জেসন বেহেরনডর্ফকেও দশে চার দিয়েছেন ওয়ার্ন। ‘বল হাতে কোনো প্রভাবই ফেলতে না পারা’ অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসও পাননি চারের বেশি। তবে আরেক অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল পেয়েছেন এক বেশি, ‘ও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ভালোই শুরু করেছিল কিন্তু জোফ্রা আর্চারের একটি স্লোয়ারে বোকা বনে যায়। ও ফিল্ডিংও করেছে ভালো।’ আর্চারের বলেই চোট পেয়েও দারুণ ব্যাটিং করা ক্যারিও পেয়েছেন প্রাপ্য প্রশংসা, ‘আঘাত পাওয়ার পরও সত্যিই দারুণ ব্যাটিং করেছে ও। যথেষ্ট সাহস দেখিয়েছে। তবে ও আরো ৫-১০ ওভার ব্যাটিং করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরটা ভালো জায়গায় যেতে পারত।’

যেতে পারত কিন্তু যায়নি। সেটিরই ফল অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। এ জন্যই এত কিছু করেও ওয়ার্নার দশে পেলেন মোটে চার!

মন্তব্য