kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ব্ল্যাকক্যাপদের ফাইনালে ওঠার বিড়ম্বনা!

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্ল্যাকক্যাপদের ফাইনালে ওঠার বিড়ম্বনা!

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড। ভারতের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ড যে ১৪ জুলাই লর্ডসের ফাইনালে জায়গা করে নেবে, সেটা তো খোদ নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দারাই বিশ্বাস করেনি! এখন সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটিই কেন উইলিয়ামসনের দল ঘটিয়ে ফেলায় বড় বিপদেই পড়েছে দেশটির পানশালা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

প্রধান সমস্যা হচ্ছে সময়! নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৯-৩০ মিনিটে। শেষ হতে হতে বাজবে সোমবার ভোর ৫-৩০ মিনিট! অর্থাৎ কিছুক্ষণ পরই শুরু হবে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস! নিউজিল্যান্ড যদি বিশ্বকাপটা জিতে যায় তাহলে কি সমর্থকরা উল্লাস করবেন না অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেবেন? এমন পরিস্থিতি হয়েছিল ১৯৮৩-র আমেরিকাস কাপ ইয়ট রেসিং প্রতিযোগিতার সময়। যেবার নিউ ইয়র্ক ইয়ট ক্লাবের ১৩২ বছরের জয়ের ধারা ভেঙে দিয়ে কাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল পার্থ ইয়ট ক্লাব। তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বব হকস বলেছিলেন, ‘এমন দিনে না আসার জন্য যে বস তার অধীনস্তের চাকরি খায়, সে একটা হাঁদারাম।’ কেন উইলিয়ামসনের হাতে যদি কাপটা উঠেই যায়, তাহলে জেসিন্ডা আর্ডেন নিশ্চয়ই সোমবারের সকালের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেবেন!

এ তো গেল প্রশাসনিক ব্যাপার-স্যাপার। সমস্যা তো আরো আছে। নিউজিল্যান্ডে খেলা দেখার জন্য সমর্থকদের পছন্দের শীর্ষে হচ্ছে স্পোর্টস বার। বেশির ভাগ সময়েই ক্রিকেট ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয় পে-চ্যানেলগুলোতে, সবাই যেসব চ্যানেলের গ্রাহক নন। তাই উৎসাহী সমর্থকরা বন্ধুবান্ধবসহ জড়ো হন স্পোর্টস বার বা পানশালায়, যেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার সঙ্গে সঙ্গে চলে দেদার পান ও ভোজন! বিশেষ উপলক্ষে সারা রাত পানশালা খোলা রাখতে আগাম অনুমতি নিতে হয়। নিউজিল্যান্ড ফাইনালে উঠে যাওয়ায় রাতারাতি এই অনুমতিপত্র কী করে পাবে, তা নিয়েই নিউজিল্যান্ডের রেস্তোরাঁ ও পানশালা ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত! এখন তো এই অনুমতিপত্র জোগাড়ের সময়ও নেই। ওয়েলিংটন সিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এখানে, অর্থাৎ ওয়েলিংটনে আমরা কোনো আবেদন পাইনি। অর্থাৎ ওয়েলিংটনে কেউ ভাবেনি, আমরা ফাইনালে যেতে পারি, তাই কেউ আবেদন করেনি।’ অপ্রত্যাশিতভাবে নিউজিল্যান্ড ফাইনালে উঠে যাওয়ায় শহরজুড়ে কোনো ফ্যান জোনও বসানো হচ্ছে না। এই মুখপাত্র আরো জানিয়েছেন, চাইলে উৎসাহীরা সারা রাত খোলা থাকবে এমন কোনো জায়গা ভাড়া নিতে পারেন। তবে শর্ত একটাই, মদ্যপান চলবে না। আর কে না জানে, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে পানীয় ছাড়া উৎসব যেন মাংস ছাড়া বিরিয়ানি!

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে খেলছে নিউজিল্যান্ড, ২০১৫-র ফাইনালটাই তো হওয়ার কথা তাদের বড় অনুপ্রেরণা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ভুলে যেতে চান সেই বিশ্বকাপ। শুধু ফল নয়, গোটা অভিজ্ঞতাটাই তাদের কাছে ছিল যন্ত্রণার। সহ-স্বাগতিক হিসেবে সবগুলো ম্যাচ নিউজিল্যান্ড খেলেছিল নিজেদের দেশে, শুধু ফাইনালটা খেলতে তারা যায় অস্ট্রেলিয়ায়। রস টেলর জানান সেই অপ্রিয় স্মৃতির কথা, ‘অদ্ভুত একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমরা গোটা টুর্নামেন্ট ভালো খেললাম। এরপর আমাদের প্লেনে তুলে এমন এক দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো, যেখানে আমরা গোটা আসরে একটি ম্যাচও খেলিনি।’ ট্রেন্ট বোল্টও বলছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়ার কষ্টটা এখনো আমাদের ভোগায়।’ এবার অবশ্য আর প্লেন নয়, বাসে করেই মাঠে চলে যাবেন উইলিয়ামসন ও টেলররা। লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচটিও খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই এবার টেলর আশাবাদী, ‘আমরা জানি কী হতে যাচ্ছে। চাপটা আমাদের ওপরই থাকবে। আমাদের ফাইনালটা উপভোগ করতে হবে। খেলাটা হচ্ছে হোম অব ক্রিকেটে। এর চাইতে ভালো জায়গা আর কোনটা হতে পারে!’ শুধু আফসোস এটাই, টেলরদের ফাইনালটা উপভোগ করতে গিয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে দেশে থাকা সমর্থকদের। এনজেড হেরাল্ড, এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা