kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

উচ্ছ্বাসে ভাসতে রাজি নন মরগান

সত্যি কি বিশ্বকাপ ট্রফি আসছে ঘরে? খোলা হাসিতে উত্তর দেন ইংলিশ অধিনায়ক, ‘এখনো আমি উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে রাজি নই। অবশ্যই এটি সবার জন্য রোমাঞ্চকর সময়; আমাদের জন্যও। ফাইনালে খেলা দারুণ ব্যাপার। সেখানে ট্রফি জয়ের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব আমরা।’

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উচ্ছ্বাসে ভাসতে রাজি নন মরগান

‘ইটস কামিং হোম’-এর সুর গেল বছরের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় ছড়িয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ডে। খেলাটির জন্মভূমিতে বিশ্বসেরা ট্রফির ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ছিল সে উচ্ছ্বাস। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেমিফাইনালে থেমে যায় ইংরেজদের দৌড়।

ক্রিকেটেরও তো জন্ম ইংল্যান্ডে। আর ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালীনও তাই সেই গানের সুর চড়েছে একটু একটু করে। পরশু সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালেই উঠে গেল স্বাগতিকরা। ‘ইটস কামিং হোম’ গানটির কথা মনে করিয়ে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা করা হলো এউইন মরগানের কাছে। সত্যি কি বিশ্বকাপ ট্রফি আসছে ঘরে? খোলা হাসিতে উত্তর দেন ইংলিশ অধিনায়ক, ‘এখনো আমি উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে রাজি নই। অবশ্যই এটি সবার জন্য রোমাঞ্চকর সময়; আমাদের জন্যও। ফাইনালে খেলা দারুণ ব্যাপার। সেখানে ট্রফি জয়ের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব আমরা।’

অথচ সেমিফাইনালের আগেও এই ইংল্যান্ডকে নিয়ে কত শঙ্কা। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া যে এর আগে বিশ্বকাপের সাত সেমিফাইনাল খেলে হারেনি কোনোটিতে। অন্য দিকে ১৯৯২ সেমির পর এ প্রতিযোগিতার নক আউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতেনি ইংল্যান্ড। গত আসরে তো গ্রুপ পর্বেই ছিটকে গেছে! এবারের সেমির আগের নেতিবাচক হাওয়া উড়িয়ে জেতাটা তাই  ইংল্যান্ডের জন্য সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন মরগান, ‘আমরা বড্ড বেশি দোষ খুঁজে বেড়াই। কাউকে প্রাপ্য সম্মান সেভাবে দিই না। এভাবেই আমরা বেড়ে উঠেছি। তবে ক্রিকেট দলের আমরা এখন সময় উপভোগ করতে শিখেছি। বিশেষত বড় উপলক্ষ, যদি সেটি নিজেদের পক্ষে না যায় তবু। আর ২০১৫ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়ার পর দিন কেউ যদি বলতেন ইংল্যান্ড পরের আসরের ফাইনাল খেলবে— আমি হেসেই তা উড়িয়ে দিতাম।’ চার বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের খোলনলচে পাল্টে ফেলেই এবারের ফাইনালে ইংল্যান্ড বলে দাবি অধিনায়কের, ‘চার বছর যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়েছি, তার সুফলেই এখন আমরা বিশ্বকাপ ফাইনালে। ২০১৫ আসরে আমরা মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। বড় বড় দলের বিপক্ষে ধুঁকেছি, যারা অত বড় দল নয়—তাদের বিপক্ষেও। এরপর আমাদের খেলার ধরনে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেট আমরা খেলছি একেবারে ভিন্নভাবে। বোর্ড, কোচিং স্টাফ সবার কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে ক্রিকেটাররা দলকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’

সে ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ভারতকে হারিয়ে যারা চমকে দিয়েছে ক্রিকেটবিশ্বকে। মরগান তাই সতর্ক, ‘ভারত-নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল আমি প্রায় পুরোটাই দেখেছি। নিউজিল্যান্ড দুর্দান্ত বোলিং করেছে এবং নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে। শুরুর দিকে ওরা উইকেট নিয়ে ভারতকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলে। পুরো বিশ্বকাপ বিবেচনায় নিউজিল্যান্ডকে হারানো সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। ওরা লিগ পর্বের সেরা দল ছিল। নিজেদের সেরা পারফরম করেছে সেমিফাইনালে। এই নিউজিল্যান্ডকে হারানো সত্যিই খুব কঠিন হবে। আমরা সে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’ টানা ভালো খেলেই ইংল্যান্ড ফাইনালে বলে দাবি তাঁর, ‘ফাইনালে ওঠা দারুণ ব্যাপার। গত তিন ম্যাচ ধরে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো থেকে আরো ভালো হচ্ছে। সেমিফাইনাল খেলতে, ফাইনালে উঠতে, ট্রফি জয়ের দাবিদার হতে আমাদের যে অমনটা করা প্রয়োজন—সে আলাপ আমরা করছিলাম টুর্নামেন্টের আগেই।’

ফুটবল-ক্রিকেট দুই খেলারই জন্ম ইংল্যান্ডে। ফুটবল বিশ্বকাপ তাও একবার জিতেছে তারা—১৯৬৬ সালে। ক্রিকেট বিশ্বকাপ কখনোই নয়। প্রথম পাঁচ টুর্নামেন্টের মধ্যে তিন ফাইনালে উঠেও ট্রফি স্পর্শ করতে ব্যর্থ প্রতিবার। অতীতের এই পিছু টেনে ধরা যে কালকের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জন্য বাধা হবে না, সেটিই দৃঢ়কণ্ঠে বলে যান মরগান, ‘আমার মনে হয় রবিবার লুকিয়ে থাকার দিন নয় বরং মুখিয়ে থাকার দিন; ঠিক আজকের মতো। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সুযোগ আমরা তৈরি করেছি। সেখানে যেন পারফরম্যান্সের দিক থেকে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারি, সে চেষ্টা করতে হবে।’

সে চেষ্টায় ইংল্যান্ড এবার সাফল্য পাবে বলে বিশ্বাস গোটা দেশের। ফাইনালটি টেলিভিশনে ফ্রি-টু-এয়ার করে বিনা মূল্যে দেখার ব্যবস্থায় হয়তো সে বিশ্বাসেরই ছাপ। এর মর্যাদা কাল মরগানের দল রাখতে পারলেই হয়! এএফপি

মন্তব্য