kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

‘ম্যানচেস্টার মিরাকল’-এর পর...

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিউজিল্যান্ড ফাইনালে যাবে ঘরের লোকজনই তো তা ভাবেনি। সেমিফাইনালের ‘প্রথম দিন’ দেখে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে খোদ নিউজিল্যান্ডেই। ‘রেডিও স্পোর্ট’ কাল ঘোষণা করেছে, ‘সবাই এখন যার যার কথা খান।’ আগের দিন তাদের প্রপ্রামেই শ্রোতারা একের পর এক ফোন করে ক্ষোভ আর হতাশা জানিয়েছিলেন যে। পাকিস্তানের কাছে হেরেও রান রেটে তাদের পেছনে ফেলে কেন উইলিয়ামসনদের সেমিফাইনালে ওঠাটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলছিলে কেউ কেউ। কোনো বিশেষজ্ঞও তো ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’-এর সম্ভাবনা দেখেননি। ডেনিয়েল ভেট্টরি পর্যন্ত ভারতকেই ফেভারিট ধরে রেখেছিলেন।

উইলিয়ামসনরা পাশার দান এভাবে উল্টে দেওয়ায় সেই নিউজিল্যান্ডেই এখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। দৈনিক ‘স্টাফ’-এর সিনিয়র লেখক মার্ক গিন্টি যেমন লিখেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ জয় এটি।’ সাবেক টেস্ট ব্যাটসম্যান ক্র্যাইগ কামিং জয়টাকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমারও সংশয় ছিল। তবে একটা দল যখন বাজে খেলতে থাকে, তখন ভেতরে ভেতরে তারা ভয়ংকরও হয়ে উঠতে পারে।’ অফ ফর্ম মার্টিন গাপটিলের মুণ্ডপাত চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। তবে ম্যাচ জেতানো এক রান আউট করে তিনিই মুহূর্তে নায়ক হয়ে উঠেছেন। অসাধারণ এক ক্যাচ ধরে জিমি নিশামও বাহবা কুড়াচ্ছেন। পুরো টুর্নামেন্টে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে না পারা ম্যাট হেনরিও এখন নায়ক। ট্রেন্ট বোল্ট আর হেনরি মিলেই তো ধসিয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় টপ অর্ডার। কলাম লেখক ডানকান জনস্টন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংকে একঘেয়ে বললেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন তাদের অন্যান্য গুণের কথা, ‘অসাধারণ বোলিং, দারুণ ফিল্ডিং এবং মাঠে হার না মানা মনোভাবের কারণে এই নিউজিল্যান্ডকে কিন্তু আলাদা করা যায়।’ ‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড’-অবশ্য ম্যানচেস্টারের এই জয়টাকে ‘ম্যানচেস্টার মিরাকল’ বলেই আখ্যায়িত করেছে। প্রিভিউতে তারাই যে কিউইদের বিদায় ঘোষণা করে দিয়েছিল একরকম। ‘রেডিও নিউজিল্যান্ড’-জেমস নোকাইজ এই নিউজিল্যান্ডকে একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যার লোভ ছাড়তে পারেনি, ‘এই নিউজিল্যান্ড সহজভাবে জিততে বা হারতেও জানে না। রুদ্ধশ্বাস অবস্থা তৈরি করে, স্নায়ুর চরম পরীক্ষা নিয়ে, অনেক উত্থান-পতন শেষে তবেই ওরা নিজেদের ঘোষণা দেয়।’

ভারতের টপ অর্ডারকে ধসিয়ে অবশ্য এদিন জয়ের সৌরভ পেতে শুরু করেছিল কিউইরা দিনের শুরুতেই। রোহিত শর্মার পর লোকেশ রাহুল আর দীনেশ কার্তিককেও ফেরানো ‘ডেস্ট্রয়ার ইন চিফ’ ম্যাট হেনরিও বলেছেন তেমনটা, ‘আমাদের লক্ষ্যই ছিল ওদের টপ অর্ডারকে দ্রুত ফিরিয়ে চাপ তৈরি করা। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বসেরা আর ওই ওপেনিং জুটিটা ভেঙে দেওয়া ছিল বিশাল ব্যাপার। সেমিফাইনাল সব সময়ই আলাদা। আমরা জানতাম দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে আমাদের সুযোগ আসবেই।’ ভারতের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে সেভাবেই সব হয়েছে নিউজিল্যান্ডের জন্য। টানা দ্বিতীয় আসরে তারা এখন ফাইনালের মঞ্চে। সেখানে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে অধরা শিরোপা ছুঁতে। লিগ পর্বে এই দুই দলের কাছেই আবার হেরেছে কিউইরা। উইলিয়ামসনের অবশ্য বিশ্বাস ম্যাচের দিনের হিসাব-নিকাশই আসল, অতীত বা অন্য কিছু নয়, ‘লিগ পর্বের ম্যাচগুলোতে ২টি পয়েন্ট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনাল অবশ্যই তার চেয়ে বেশি কিছু ছিল। তবে আমরা একই মানসিকতা নিয়েই খেলতে নেমেছি। ফাইনালেও তা-ই ভেবে নামব যে দিনটা যে কারো হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হলো পা-টা মাটিতে রাখা এবং চ্যালেঞ্জটা নেওয়া।’ সেই চ্যালেঞ্জে প্রতিপক্ষ নিয়েও ভিন্ন কিছু ভাবার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কিউই অধিনায়ক, ‘এজবাস্টনে যে কেউ জিততে পারে, দুটি দলই শক্তিশালী।’ এএফপি

মন্তব্য