kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

সেরা তারকা

পুরনো স্মৃতি ফিরে এল বার্মিংহামে

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরনো স্মৃতি ফিরে এল বার্মিংহামে

জোফ্রা আর্চার : ৩২ রানে ২ উইকেট

সব শেষ কবে কোন ইংরেজ পেসার গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন? উত্তর খুঁজতে বোধহয় গুগলেরও অনেকটা সময় লাগবে। গতির নেশা মানেই তো অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান নয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে জীবন কিছুটা বন্য, ঝুঁকিপূর্ণ। ইংল্যান্ড মানেই তো ভদ্রতা, নম্রতা; ফাস্ট বোলারের চরিত্রের সঙ্গে যা একদমই বেমানান। অথচ সেই ইংল্যান্ডই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পেস বোলিং দিয়েই কাঁপিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়াকে। উঠানেই যাদের জোরে বোলিং খেলার অভ্যাস, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তারাই কি না ইংল্যান্ডের পেস বোলিংয়ের সামনে অমন কোণঠাসা!

মার্ক উড, ক্রিস ওকসের সঙ্গে জোফ্রা আর্চার। গতির এই ত্রিফলাতেই গুঁড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ মিলে এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে করেছেন মোট ১১৪৫ রান। কাল দুজনে মিলে যোগ করেছেন ৯ রান; ওয়ার্নার ৯ ও ফিঞ্চ ০। প্রথম বলেই আউট হলেন ফিঞ্চ, আর্চারের ইনসুইং ডেলিভারিটায় ব্যাট নামিয়ে আনার আগেই দেখলেন বল লেগেছে প্যাডে। অনেকটা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিরাট কোহলির আউটের মতোই। রিভিউ নিলেন ফিঞ্চ, বল ট্র্যাকার দেখাল দিনটা ঠিক, স্টাম্পেই লাগছে বল। ডেভিড ওয়ার্নার এই বিশ্বকাপে রীতিমতো রানমেশিন, তাঁকে থামিয়ে দিয়েছেন ওকস। বাউন্সারে পর্যুদস্ত করে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন স্লিপে। উসমান খাজার বদলে এই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব, শট দেখেই বোঝা গেল এই বিশ্বকাপের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। ৪ রান করে ওকসের বলে যেভাবে বোল্ড হলেন, তাতে আন্দাজ করা যায় এটাই হয়তো হ্যান্ডসকম্বের এই বিশ্বকাপের প্রথম ও শেষ ম্যাচ। ১৪ রানেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে এলেন অ্যালেক্স ক্যারি, এই বিশ্বকাপে নিয়মিতই যাঁকে দুর্যোগ সামাল দিতে নামতে হচ্ছে। তাঁকে আর্চার অভ্যর্থনা জানালেন চোয়াল সোজা বাউন্সারে। এমনিতেই ফিল হিউজের মৃত্যুর পর বাউন্সারের ব্যাপারে বেশ নরমসরম হয়ে উঠেছেন পেসাররা, অজান্তেই একটা ভয় কাজ করে তাঁদের মনে। তবে সেমিফাইনালের উত্তেজনায় বোধহয় সেসবকে মন থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন জোফ্রা আর্চার। বিশ্বকাপের শিরোপা গন্ধ পেয়ে এই বার্বাডিয়ান তখন রক্তের গন্ধ পাওয়া বাঘ! তাঁর বাউন্সারে মাথায় আঘাত লাগে ক্যারির, রীতিমতো ব্যান্ডেজ পেঁচিয়েই খেলতে হয়েছে এই উইকেটরক্ষককে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই হাশিম আমলাকে একটা বাউন্সার দিয়েছিলেন আর্চার। হেলমেটের গ্রিলে গিয়ে লাগে সেটা, এরপর আমলার স্বাভাবিক হতে লেগেছে কয়েকটা ম্যাচ! মাঠে আগুন ঝরিয়েও ম্যাচের মধ্যবিরতির  সময়ে বেশ উচ্ছল আর্চার, হয়তো সেটা অস্ট্রেলিয়াকে অল্পে আটকে রাখার তুষ্টিতেই। আর্চার জানালেন, ‘নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটি থেকেই প্রতিটি ম্যাচ আমরা সেমিফাইনাল মনে করে খেলছি। আমাদের এভাবেই কাজটা করে যেতে হতো।’ ফিঞ্চ, ম্যাক্সওয়েলের উইকেট নিয়েছেন আর্চার, দুটোর মধ্যে ম্যাক্সওয়েলের উইকেটটাই আর্চারের বেশি প্রিয়। কারণ হিসেবে জানালেন, ‘ম্যাক্সওয়েলের উইকেটটাই সেরা কারণ ও আমার বলে আগে বাউন্ডারি মেরেছিল।’ আর্চারের পাশাপাশি কম যাননি ওকসও, বাছাই তিনটি উইকেট (ওয়ার্নার, হ্যান্ডসকম্ব, স্টার্ক) তাঁর শিকার। ৮ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২০ রান। বেহরেনডর্ফকে বোল্ড করে ইতিটা টেনেছেন উড। সব মিলিয়ে সম্মিলিত বোলিং পারফরম্যান্সেই অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালের দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়ে ১৯৯২-র পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ইংল্যান্ড।

নতুন যুগের ক্রিকেটে হারিয়ে গিয়েছিল গতির লড়াইটাই। শুধুই ব্যাটসম্যানদের পক্ষে সব আইন আর উইকেট। সেমিফাইনালে আর্চার আর ক্যারির দ্বৈরথটা যেন ফিরিয়ে আনল সেই পুরনো দিন! বোলারের বাউন্সারে চোয়াল ভাঙার পরও ব্যাটসম্যান ব্যান্ডেজ জড়িয়ে ব্যাট করতে নেমেছেন, এমন দৃশ্য সেই ডেনিশ লিলিদের আমলের পর কমই দেখা গেছে। ৮৬ মাইল গতির বল আছড়ে পড়েছে, এরপর চোয়ালে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে, সেলাই নিয়ে খেলছেন ক্যারি। সবচেয়ে পুরনো দুই প্রতিপক্ষের লড়াইতে এমন সব মুহূর্তের জন্ম না হলে হয়!

মন্তব্য