kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

টোকিওতেই রোমানের অলিম্পিক প্রস্তুতি!

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : জার্মানি থেকে ফিরতেই তাঁর টোকিও ডাক পড়েছে। টোকিও অলিম্পিকের টিকিট পাওয়া রোমান সানা টোকিও যাচ্ছেন অজানা ভেন্যুতে জানতে। অপরিচিত আবহাওয়াকে বুঝতে। অলিম্পিয়ান আর্চারদের জানা-বোঝার জন্যই আয়োজকরা আয়োজন করছে ‘টোকিও ২০২০ টেস্ট ইভেন্ট—রেডি স্টেডি টোকিও’।

 

প্রতি অলিম্পিকের আগেই আয়োজকরা অলিম্পিক ভেন্যুতে এ রকম একটা কম্পিটিশনের আয়োজন করে। যেখানে খেলে অলিম্পিয়ানরা আগাম অভিজ্ঞতা নিতে পারেন আর আয়োজকরাও সুযোগ পায় ভেন্যুর ত্রুটি-বিচ্যুতি সারিয়ে নেওয়ার। টোকিও আর্চারি ভেন্যুতে এই প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট হবে আগামী ১১ থেকে ১৮ জুলাই। এখানে অংশ নিতে রোমান সানা গত রাতেই টোকিওর বিমান ধরেছেন। এর আগে বলে গেছেন, ‘এখানকার পারফরম্যান্সে কিছু যায়-আসে না। এটা হলো আসলে টোকিও অলিম্পিকের প্রস্তুতির অংশ, ভেন্যুর অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্যই ওখানে যাচ্ছি। ভেন্যুর হাওয়া-বাতাস, গরম-ঠাণ্ডা সব কিছুর ওপর তীরন্দাজের পারফরম্যান্স নির্ভর করে। ওখানে এক দফা কম্পিটিশন করলে ভেন্যুর অভিজ্ঞতা খুব ভালো হবে আশা করি।’

আর্চারি ওয়ার্ল্ড কাপ, স্টেজ-৪-এর খেলা শেষে জার্মানি থেকে গতকাল রোমান সানা ফিরেছেন ঢাকায়। ওখানে তৃতীয় রাউন্ডের বেশি যেতে পারেননি বাংলাদেশের এই সেরা তীরন্দাজ। প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে নাকি তীরগুলো নিখুঁত নিশানা খুঁজে পায়নি, ‘জার্মানিতে তৃতীয় রাউন্ডে হেরে গেছি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্চারের কাছে, গত মাসে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে সে-ই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ওখানে খুব বাতাস ছিল, সেটা ভালোই সমস্যা করেছিল আমাকে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও নিজের সেরাটা ধরে রাখা শিখতে হবে আমার।’ নেদারল্যান্ডসে গত মাসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিযনশিপে গিয়েই এ তরুণের খেলা বদলে গেছে। ক্যারিয়ার বদলে গেছে। সাধারণ এক তীরন্দাজ হয়ে এ টুর্নামেন্টে গিয়ে ফিরেছেন আকাশছোঁয়া সাফল্য নিয়ে। নিজের যোগ্যতায় অলিম্পিকের টিকিট মুঠোবন্দি করার পর জিতেছেন দেশের আর্চারি ইতিহাসের সেরা সাফল্য—বিশ্ব আর্চারির চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক। কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এ সাফল্যের পর রোমান নিজের মধ্যেই পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন, ‘নেদারল্যান্ডস থেকে ফেরার পর নিজের নিজের পারফরম্যান্স এবং মানসিকতার অনেক কিছুই বদলে গেছে। এখন আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। পারব না—কথাটা মনে আসে না কখনো। বড় টুর্নামেন্টে যে স্নায়ুচাপে ভুগতাম, সেটা আর হয় না। এখন বাড়তি কোনো চাপ না নিয়েই নিজের খেলাটা খেলতে পারি। বড় সাফল্য যে কোনো অ্যাথলেটকে সামনে এগোতে সাহায্য করে।’

তাঁর সামনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আছে। সেগুলো হলো তাঁর অলিম্পিক রাঙানোর প্রস্তুতি। অলিম্পিক পদকের কথা সংগোপনে রেখে দেশের তারকা তীরন্দাজ বলেছেন নিজের স্কোর উন্নয়নের কথা, ‘আমার লক্ষ্য অলিম্পিকের জন্য নিজেকের ভালোভাবে তৈরি করা। আগামী এক বছরে প্র্যাকটিসে নিজের স্কোরের উন্নতি করা এবং সেটা নিয়ে কম্পিটিশনে যাওয়া। আশা করি, জার্মান কোচের অধীন আমি আগামী এক বছরে আমার অলিম্পিক প্রস্তুতি ভালো হবে।’

মন্তব্য