kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

সেই ‘তিন মোড়ল’-এর খপ্পরেই ক্রিকেট

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই ‘তিন মোড়ল’-এর খপ্পরেই ক্রিকেট

ক্রিকেটের ‘তিন মোড়ল’ নিয়ে কত কথাবার্তা হলো, অথচ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চার দলের মধ্যে তিনটিই তারা—ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। দলগুলোর অর্থনৈতিক শক্তিও অন্যদের চেয়ে বেশি। বিশেষত ভারত তো এগিয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ক্রিকেটের উন্নয়ন তাই কিভাবে হবে, সে প্রশ্নটি আবারও পেছনের সারি থেকে হাত তুলে দাঁড়াচ্ছে সামনে।

চলতি বিশ্বকাপ থেকে ব্রডকাস্ট রাজস্ব হিসেবে আইসিসি আয় করবে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মতো। আইসিসির ক্রিকেট উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ এখান থেকেই তো আসবে। কিন্তু সে ‘বড়’টা কত বড়? রাজস্বের সিংহভাগ যে চলে যাবে ওই তিন মোড়ল, আরো নির্দিষ্ট করে বললে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে! ২০১৬-২০২৩ চক্রে চলছে এখন বিশ্বক্রিকেট। এই আট বছরে ব্রডকাস্টিং বাবদ আয়ের বিশাল অংশ আসবে ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপ থেকে। এ সময়ে ৯৩টি সহযোগী সদস্য এবং ক্ষুদ্র ক্রিকেটীয় দেশ ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য আইসিসির কাছ থেকে পাবে ১৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। অন্যদিকে শুধু ভারত একা পাবে ৩২০ মিলিয়ন পাউন্ড।

অর্থের এই অসম বণ্টনে তাই হিমশিম খাচ্ছে এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তি ক্রিকেটীয় দেশগুলো। প্রোটিয়াদের প্রতিশ্রুতিশীল ফাস্ট বোলার ডুয়ান অলিভিয়ের যেমন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ কাউন্টি দল ইয়র্কশায়ারে। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা তো বোর্ডকে তোয়াক্কা না করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলে বেড়াচ্ছেন বিশ্বজুড়ে। ক্রিকেটাররা যেন নিজ নিজ দেশের বোর্ডের সঙ্গে থাকতে পারেন, সে জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের এক বেতন কাঠামোর মধ্যে এনে ন্যূনতম অর্থের দাবি তুলেছিলেন আইসিসির কাছে। এখন পর্যন্ত তা নিয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।

নিকট ভবিষ্যতেও তেমন কিছু হওয়ার আশা দেখেন না দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিস, ‘আদর্শ পৃথিবীতে অমন কিছুই হওয়া উচিত। তবে আমরা আদর্শ পৃথিবীতে বাস করি না। শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও আমরা—সবাই একই ব্র্যাকেটে। বলতে পারেন, দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটীয় দেশ। প্রথম স্তরের দেশগুলোর ক্রিকেটাররা যেমন অর্থ পায়, আমরা তা পাই না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থা সবচেয়ে বাজে। কত কত ক্রিকেটার যে ওরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে হারিয়েছে!’ এ প্রেক্ষাপটের ক্রিকেটীয় ভবিষ্যতের তাই আলো দেখেন না দু প্লেসিস, ‘ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ক্রিকেটাররা সব সময় বেশি অর্থ উপার্জন করে। অন্য ক্রিকেটীয় দেশগুলোর ক্রিকেটাররা তেমন অর্থ পায় না। এ অবস্থার বদল হওয়াটা হবে দারুণ এক ব্যাপার। কিন্তু আগামী অনেক অনেক দিনের মধ্যেও অমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আমি দেখি না।’

ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা তাই পূর্বসূরিদের দায় উপেক্ষা করে চলে যাবেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। ‘কোলপাক চুক্তি’ অনুযায়ী প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা ছিটকে পড়বেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গন থেকে। ধুঁকবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের ক্রিকেট উৎকর্ষ না হয় হলো, তাদের বোর্ডগুলোর কোষাগারও হলো স্ফীত; কিন্তু সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের কি লাভ হবে? এএফপি

মন্তব্য