kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

‘হাতুরাসিংহে ভালো হলে কেন নয়?’

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘হাতুরাসিংহে ভালো হলে কেন নয়?’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশ দল দেশে ফিরতে না ফিরতেই হেড কোচ স্টিভ রোডসকে বিদায় করার আনুষ্ঠানিকতায় অনেকে অবাক হলেও এতে আসলে চমকিত হওয়ার কিছুই নেই। কারণ অনানুষ্ঠানিকভাবে এ ইংলিশম্যানের উত্তরসূরি ঠিক করার কাজ বিশ্বকাপের আগেই শুরু করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাও আবার বেসরকারিভাবে প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয় রোডসের পূর্বসূরি চন্দিকা হাতুরাসিংহেকেই।

যখন সেই প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে কার্ডিফে। রাস্তার এপার-ওপারের দুই হোটেল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দলের ঠিকানা। ওই সময়ই হাতুরাসিংহের সঙ্গে বসা আলোচনার ফল সহসাই পাওয়ার কথা ছিল না। এখনকার মতো শ্রীলঙ্কার চাকরি তখনো ঝুলে যায়নি বাংলাদেশের সাবেক কোচের। পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় প্রস্তাব পেয়েও দ্বিধান্বিত হাতুরাসিংহের জন্য এখন অন্য বাস্তবতা। চাকরি খুঁজতে হচ্ছে তাকেও। আবার রোডসকে বিদায় করে হেড কোচ হিসেবে নতুন কাউকে চাকরি দিতে তৈরি বিসিবিও।

সেই চাকরি হাতুরাসিংহেই পাচ্ছে, নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই এখনো। তবে ‘প্রশ্রয়শীল অভিভাবক’ রোডস অধ্যায় শেষ হওয়ার পর ‘কড়া হেড মাস্টার’সুলভ ওই লঙ্কানের প্রতি দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের ঝোঁক এখন আর অপ্রকাশ্যও নেই। বরং নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বিসিবির প্রভাবশালী এক পরিচালক ও ব্যবসায়ী এমন মন্তব্যও করেছেন যে ‘পৃথিবীতে এমন অনেক নজির আছে, পুরনো কোচ ফিরে এসে আরো ভালো করেছে।’ সংশয় নেই যে হাতুরাসিংহের সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফল পেয়ে আসছিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশেষ করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছিল।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তো ননই, এমনকি ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল বলে কখনো শোনা যায়নি। তা ছাড়া মাশরাফিকে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে বাধ্য করার জন্যও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় হাতুরাসিংহেকে। কাজেই খেলোয়াড়দের মতামত চাইলে যে নিশ্চিতভাবেই ভোট হাতুরাসিংহের বাক্সে পড়বে না, সেটিও অজানা নয় বিসিবির। আবার তার গেমপ্ল্যান ও কৌশলেও মুগ্ধতা আছে তাদের। সেই সঙ্গে কঠোর হতে জানা লঙ্কানের পক্ষেই নীতিনির্ধারকদের মতো ভারী হওয়ার কথা। এ অবস্থানই স্পষ্ট হতে শুরু করল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কথায়। বিসিবি পরিচালক ও বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘চান্দিকা (হাতুরাসিংহেকে তিনি এ নামেই ডেকে থাকেন) যদি আমাদের জন্য ভালো হয়, তাহলে কেন নয়?’

পরক্ষণেই অবশ্য নিজেকে সামলে নেওয়া মাহমুদ ধোঁয়াশা যেমন তৈরি করতে চেয়েছেন, তেমনি হাতুরাসিংহের পক্ষে যুক্তি দেখানোর চেষ্টাও তো ছিল, ‘এগুলো বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। যে আমাদের জন্য ভালো হবে, এমন কোচই চাই। কিছু কারণ থাকে, কারণের বাইরে কিছু হয় না। চান্দিকা হয়তো যেতে (বাংলাদেশ থেকে) বাধ্য হয়েছিল। আমি বলছি না যে চান্দিকাই আসবে। চান্দিকার সঙ্গে বোর্ড কথা বলছে, সেটিও আমি বলছি না। আমি বলছি যে কোনো একটি নাম। সে যদি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়। চান্দিকার রেকর্ডই ভালো। চান্দিকা যে আসবে, সেটি না। শ্রীলঙ্কার যে ফল (বিশ্বকাপে), ওর সঙ্গে চুক্তি নবায়নও হতে পারে। শ্রীলঙ্কায় সে থেকেও তো যেতে পারে। কাজেই আমরা কোনো একটি নাম নিয়ে কথা না বলি।’

নতুন হেড কোচ হিসেবে যে নামই বেছে নেওয়া হোক, মাহমুদ চান এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা থাকুক, ‘যিনি আমাদের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, সে রকম একজন কোচকেই আনা উচিত। বিশ্বকাপ যেহেতু শেষ এবং চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ, আমি মনে করি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা উচিত। চার বছর পর বাংলাদেশ দলকে আমরা কেমন দেখতে চাই বা দলের শক্তি তখন কেমন হবে, এসব ভেবেই নতুন কোচ আনতে হবে।’

নীতিনির্ধারকদের সেই ভাবনায় অবশ্য বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই এগিয়েছিলেন হাতুরাসিংহে!

মন্তব্য