kalerkantho

সাম্বার ছন্দে শিরোপার স্বপ্ন ব্রাজিলের

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাম্বার ছন্দে শিরোপার স্বপ্ন ব্রাজিলের

ব্রাজিল ৫ : ০ পেরু! রীতিমতো ছেলেখেলা। সাম্বার ছন্দে বিধ্বস্ত সেই পেরুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে। আজ মারাকানার ফাইনালে আরো একবার কি ব্রাজিল বিধ্বস্ত করবে তাদের? ২০০৭ সালের পর অধরা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না ব্রাজিল। তবে পেরুকে সমীহই করছেন কাসেমিরো। ব্রাজিলিয়ান তারকা সবাইকে স্মরণ করে দিলেন এখনই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়নি ব্রাজিল, ‘দারুণ এক ফাইনাল হবে। ম্যাচটা সহজ হবে না। ধরে নেওয়ার উপায় নেই ব্রাজিল শিরোপা জিতে গেছে। উরুগুয়ে-চিলির মতো দলকে ছিটকে ফাইনালে পেরু। আমাদের শ্রদ্ধা করতেই হবে পেরুকে।’

একটা সময় ইউরোপিয়ানরা শাসন করেছে দক্ষিণ আমেরিকা, লুটে নিয়ে গেছে কোটি টাকার সম্পদ। এখন দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলাররা পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপে, তাঁদের দলে নিতে ইউরোপের ধনী ক্লাবগুলো তৈরি টাকার থলে নিয়ে! যে ফুটবল দক্ষিণ আমেরিকাকে দিয়েছে নতুন পরিচয়, ছোট্ট ছোট্ট দেশকেও দিয়েছে বৈশ্বিক পরিচিতি, সেই ফুটবলের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজকের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি এমন দুটি দেশ, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ঔপনিবেশিকতার। ফুটবল-ঐতিহ্যে আর সাফল্যে ব্রাজিল আর পেরুর পার্থক্য ঠিক দুটি দেশের মানচিত্রের মতোই। আয়তনে ব্রাজিল পেরুর চেয়ে সাত গুণ বড়! ফুটবল দক্ষতা ও সাফল্যের মানদণ্ডে ফারাকটা আরো বড়। দিন পনেরো আগে, কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে এই পেরুকেই ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ব্রাজিল, ভাগ্যচক্রে তারা ফাইনালেও পাচ্ছে সেই একই প্রতিপক্ষকে।

নিন্দুকেরা অবশ্য বলবেন, এ আর এমন কী! জার্মানিও তো ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে। তাই বলে কি দুই দলের পার্থক্য এতটাই? তাহলে চোখ ফেরানো যাক ইতিহাসে। ১৯৮২ সালের পর গত বছরই প্রথম বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেল পেরু, সব মিলিয়ে তারা বিশ্বকাপ খেলেছে মোট পাঁচবার। অন্যদিকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপার সংখ্যাই পাঁচ! কোপা আমেরিকার খেরোখাতা বলছে দুইবার কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে পেরু।

এবার ফাইনালে উঠে অবশ্য তাদের খালি হাতে ফেরার সম্ভাবনাটাই বেশি দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। নেইমার না থাকলেও সাবেক ক্লাব সতীর্থ রবার্তো ফিরমিনোর সঙ্গে ফিলিপে কৌতিনিয়োর জুটিটা জমে গেছে দারুণ। গ্যাব্রিয়েল জেসুসও গোলখরা কাটিয়েছেন। দানি আলভেস মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাঁর তরুণ সময়টাকে। আর টুর্নামেন্ট জেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটা, অর্থাৎ গোলবারের নিচের জায়গাটায় অ্যালিসন বেকারের বিশ্বস্ত হাতজোড়া পাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ তিতে।

গোটা আসরে এখন পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলেরই সঙ্গী ছিল পেরু, সেই গ্রুপ থেকে তৃতীয় হয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নক-আউটে তাদের পা রাখা। এরপর শক্তিশালী উরুগুয়েকে টাইব্রেকারে আটকে দিয়ে পেরু উঠে আসে সেমিফাইনালে। এখানেই তারা খেলেছে আসরে এখন পর্যন্ত তাদের সেরা ম্যাচ। টানা দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন চিলিকে তারা হারিয়ে দিয়েছে ৩-০ গোলে। এই ‘জায়ান্ট কিলিং’য়ের ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে পেরুর শিরোপা জয় হবে নিঃসন্দেহে কোপা আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আপসেট। আর মারাকানা স্টেডিয়ামের সেই ফাইনালটা হয়ে যাবে সত্যিকারের মারাকানাজোর (১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল) চেয়েও বড় কোনো ট্র্যাজেডি! তবে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি চান না কাসেমিরো। ফাইনালটাও শেষ করতে চান গোল হজম না করে, ‘আমাদের অন্যতম লক্ষ্য গোল হজম না করে টুর্নামেন্ট শেষ করা। কোনো গোল না খেলে কৃতিত্বটা শুধু রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নয়, আক্রমণভাগ থেকে যারা আমাদের সাহায্য করে তাদেরও। আর এটা পার্থক্য গড়ে দেয়।’

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি ফিলিপে লুইস। আজকের ফাইনালে ফেরার মতো যথেষ্ট ফিট তিনি। পুরো সেরে না ওঠায় রিচার্লিসন আর ফের্নান্দিনহো নিশ্চিত নন একাদশে। আর থাইয়ের চোটে খেলারই সম্ভাবনা নেই উইলিয়ানের। তাই লুইসের ফেরা ছাড়া একাদশে হয়তো আর পরিবর্তন করবেন না তিতে। সেমিফাইনালে চিলিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করার পর পেরু কোচ রিকার্দো গারেকারও একাদশে বদল আনার কোনো কারণ নেই। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ৯৫ বলে ২৭ গোল করা উইঙ্গার জেফারসন ফারহানের চোট ভাবাচ্ছে তাঁকে। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে জেতা ম্যাচে একবার লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন লোকোমোতিভ মস্কোর এই তারকা। তবে একাদশ নিয়ে না ভেবে ফাইনালে নিজেদের উজাড় করে খেলার কথা জানালেন পেরুর লেফটব্যাক ইউসিমার ইউতুন, ‘ব্রাজিলের কাছে হারটা কঠিন ছিল, তবে ফাইনাল একেবারেই নতুন এক ম্যাচ। আমরা সব সময় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার আগে কঠোর পরিশ্রম করি। আশা করছি সেই ফলটা পাব ফাইনালে।’

বদলে যাওয়া পেরুকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিলও। তবে মারাকানার ফাইনালে ফেভারিট তারাই। এখন শুধু সাম্বার ছন্দে মাতানোর অপেক্ষা। তাহলেই মিটবে কোপায় ১২ বছর শিরোপা জিততে না পারার হাহাকার। ও গ্লোবো

মন্তব্য