kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

সাইফ উদ্দিন-মোসাদ্দেকের সঙ্গে কথা বলবেন আকরাম

২২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাইফ উদ্দিন-মোসাদ্দেকের সঙ্গে কথা বলবেন আকরাম

মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের চোট নিয়ে ঝড় বইছে টিম ম্যানেজমেন্টে। সে ঝড়টা যে কোন দিক থেকে আসছে, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা!

ঝড় মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সব শেষ ইনজুরি নিয়ে, পিঠের ব্যথার কারণে যিনি অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি খেলেননি। চোটের কারণে কারো না খেলা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। তবে সাইফ উদ্দিনের চোট নিয়ে তৈরি ধোঁয়াশা দলের মধ্যেও একধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিসিবি পরিচালক এবং ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান তাই সাইফ উদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন গতকাল।

বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটারের চোট আসলে কোথায়, তা নিয়েই ধোঁয়াশা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে। আকরাম খান শুনেছেন, ‘সাইফ উদ্দিনের কাঁধে ব্যথা।’ দলের সঙ্গে থাকা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিনের কাছ থেকে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ জেনেছেন এ অলরাউন্ডারের চোট হ্যামস্ট্রিংয়ে। আর দলের ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহন ম্যানেজারকে বলেছেন পিঠের ব্যথার কথা। তবে এর কোনটি সত্যি, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভাষ্য নেই। ফিজিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাউকেই যে সরকারিভাবে বিষয়টি জানাননি! যদিও যেকোনো খেলোয়াড়ের চোটসংক্রান্ত বিষয়াদি গ্রুপ ই-মেইলে চালাচালি হওয়াটাই নিয়ম।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন একা নন, মোসাদ্দেক হোসেনের অনুপস্থিতিও অনুভব করেছে বাংলাদেশ দল। টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ কাঁধে চোট পেয়েছিলেন মোসাদ্দেক, চিকিৎসাও নিয়েছিলেন মাঠে। কাঁধে আইসপ্যাক রেখে শুশ্রূষাও নেন তিনি। একই ম্যাচের ২২তম ওভারে সীমানাদড়ির কাছে ডাইভ দিয়ে বাউন্ডারি বাঁচানোর সময় নাকি ঝাঁকি খেয়ে পিঠে ব্যথা পেয়েছিলেন সাইফ উদ্দিন। যদিও মাঠে কোনো শুশ্রূষা নেননি এবং ওই ঘটনার পরে আরো ৭ ওভার বোলিংও করেছেন তিনি। সাইফ উদ্দিনের চোটের প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে দল টন্টন থেকে নটিংহামে পৌঁছানোর পর।

এই চোটকে ঘিরে সংশয়ের সূত্রপাত এখানেই। পিঠে ব্যথা নিয়ে একজন ৭ ওভার বোলিং এবং ২৮ ওভার ফিল্ডিং করলেন কী করে? তাও মাঠে কোনো শুশ্রূষা ছাড়াই! এ প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আকরাম খান জানতে চাইবেন, ‘আমি শুনেছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে সাইফ উদ্দিন কাঁধে ব্যথা পেয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে প্র্যাকটিসের দিনে আমি এখানে ছিলাম না। তাই জানি না কী হয়েছে। আমি আজ (গতকাল) ওদের সঙ্গে কথা বলে জানব।’ ‘ওদের’ বলতে সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেনকে ব্র্যাকেটবন্দি করেছেন আকরাম খান। বাঁ কাঁধের চোট নিয়ে তো অন্তত অফস্পিন বোলিংটা করে দিতে পারতেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে মোসাদ্দেকের অফস্পিনকে যথেষ্টই গুরুত্ব দিয়েছিল থিংকট্যাংক। সাইফ উদ্দিন নতুন এবং পুরনো বলে, বিশেষ করে ইনিংসের শেষভাগের বোলিংয়ে দলের সেরা। অন্যদিকে ব্যাটিং নয়, মোসাদ্দেকের অফস্পিন সামর্থ্যেরই কদর বেশি দলীয় পরিকল্পনায়। তাহলে কি বাঁ কাঁধের ব্যথা নিয়েই অফস্পিনটা করে দিতে পারতেন না মোসাদ্দেক?

আকরাম খান নিজে খেলোয়াড় ছিলেন, ক্যারিয়ারে চোট হামলাও করেছে। ছোটখাটো ইনজুরিকে পাত্তাই দিতেন না, ‘আমি একবার তিনটি ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলেছিলাম। আমি কেন, বড় ইনজুরি না হলে ম্যাচ না খেলার কথা ভাবতই না কেউ।’ তবে ইনজুরি গোপন করে খেলা কিংবা কঠিন ম্যাচের আগে নিজেকে ‘ইনজ্যুরড’ ঘোষণা করার রীতি তো আগেও ছিল। আকরাম অবশ্য সরাসরি অতীত থেকে ‘আবর্জনা’ টেনে আনতে চাইলেন না, ‘একজন খেলোয়াড়ই নিজের অবস্থা সবচেয়ে ভালো বোঝে। তবে ফিজিওর দায়িত্বও রয়েছে। আর কেউ ইচ্ছা করে ম্যাচ খেলতে চাইবে না, এটা দুঃখজনক।’ তবে তিনি একবারও বলেননি যে সাইফ উদ্দিন সে রকম কিছু করেছেন, ‘আমার মনে হয় না ব্যাপারটা এ রকম। যতটুকু শুনেছি মোসাদ্দেক পরের ম্যাচেই খেলবে। সাইফ উদ্দিনের হয়তো আরেকটু বিশ্রাম লাগবে। সে ক্ষেত্রে পরের ম্যাচটা (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) না-ও খেলতে পারে।’

আকরাম খানরা যখন খেলতেন তখন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা এত বেশি ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন যুক্ত হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টও। তাতে অনেক ক্রিকেটারই ফুরিয়ে যাচ্ছেন টানা ক্রিকেটে। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে ঘিরেও একই গুঞ্জন আছে ক্রিকেটাঙ্গনে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে ফেরার পর নাকি তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল জাতীয় দলের ফিজিওর পক্ষ থেকে। কিন্তু ক্ষমতাবান ক্লাব আবাহনী সেটি উপেক্ষা করে প্রিমিয়ার লিগে খেলিয়েছে সাইফ উদ্দিনকে। তাতে বিশ্রাম মেলেনি পর্যাপ্ত, চোটও ঘর বেঁধেছে তাঁর শরীরে। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা, ‘ফিজিওর কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি। তা ছাড়া সাইফ উদ্দিন তরুণ। আমরা মনে করেছি অভিজ্ঞতার জন্য ওর ম্যাচ খেলা উচিত।’ 

ছোটখাটো ইনজুরি উপেক্ষা করেও একালের ক্রিকেটারদের খেলা উচিত বলে মনে করেন আকরাম, ‘এখন এত বেশি খেলা হয় যে ছোটখাটো ব্যথা সব সময়ই থাকবে। মাশরাফিকে দেখে আপনার কী মনে হয়? সাকিব কি ব্যথা ছাড়াই খেলছে? এমন ব্যথা পেস বোলারদের আরো বেশি থাকে। তামিমের ঘটনাটার কথা মনে করে দেখেন। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভাঙা হাত নিয়ে একটা বলই কিন্তু খেলেছিল। মুশফিক দুর্দান্ত ব্যাটিং করল, ওই ঘটনা পুরো দলকেই চাঙ্গা করেছিল। আপনি এমন কিছু করলে পুরো দল অনুপ্রাণিত হয়।’

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে সে রকম জাতীয় ‘অনুপ্রেরণা’ হওয়ার সুযোগ ছিল হয়তো, নইলে সাইফ উদ্দিন আর মোসাদ্দেক প্রসঙ্গে এশিয়া কাপে তামিমের এক হাতে ব্যাটিং প্রসঙ্গ টেনে আনবেন কেন ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান!

মন্তব্য