kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

তাঁর চোট আরো গভীর!

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



তাঁর চোট আরো গভীর!

এখনো চোখে ভাসে, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ম্যান্দামারা উইকেটে বেধড়ক মার খাচ্ছেন খালেদ মাহমুদ পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের হাতে। ১০ ওভারে ৮১ রান দেওয়া সাবেক অধিনায়কের ক্যারিয়ারে আরেকবার যতি পড়েছিল এশিয়া কাপের ওই ম্যাচটির পর। সেবার বাংলাদেশ এসেই নাকি ‘নাটু’কে খুঁজছিলেন ওয়াসিম আকরাম, যে কিনা পাকিস্তান অধিনায়ককে স্লেজ করেছিলেন নর্দাম্পটনশায়ারে!

১৯৯৯ বিশ্বকাপ আর নর্দাম্পটনের সেই ম্যাচ বাংলাদেশের লোকগাথার অংশ হয়ে আছে। সেবারের ইংল্যান্ড ছিল বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ গন্তব্য। আর সে গৌরবের বিজয় তিলক নর্দাম্পটনে পাকিস্তানবধ। সে ম্যাচের সেরার পুরস্কার জয়ী মাহমুদকে এত দিন পরও চিনে ফেলেন নটিংহামের একটি সেলুনের পাকিস্তানি নাপিত। চুল কেটে বুকে জড়িয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি, কিন্তু পয়সা নেননি। ৯ পাউন্ড এমন কোনো অর্থ নয়, তবে ক্যারিয়ারজুড়ে নিন্দিত একজন মানুষ যখন হাজার মাইল দূরে কোনো বিদেশির ভালোবাসায় সিক্ত হন, তিনি তো আপ্লুত হবেনই।

টন্টনের এক প্রবাসীর সঙ্গে বারদুয়েক দেখা হয়েছে। প্রতিবারই ঘুরেফিরে মাহমুদের কথা তুলেছেন, ‘উনি সেদিন (পাকিস্তান ম্যাচ) পুরস্কার হাতে নিয়ে মাইক্রোফোনে যে কথাগুলো বলেছিলেন, এখনো মনে আছে। দেখে মনেই হতো না তিনি পেস বোলার। ওই সময় যে সাহস নিয়ে কথা বলেছিলেন, শুনে অবাক হয়েছিলাম।’ এবারের ইংল্যান্ড সফরে মাহমুদও অবাক হন তাঁর প্রশংসাকারী আছেন জেনে!

অবশ্য এখানে মাহমুদ এসেছেন প্রাসঙ্গিকতার সিঁড়ি বেয়ে। তাঁর ক্রিকেট দর্শন ছিল একতরফা আক্রমণাত্মক। তাই মারমুখী সাঈদ আনোয়ারকে মরা উইকেটেও বাউন্সারে ঘায়েলের চেষ্টা করেছিলেন। গা বাঁচানোর চেষ্টা করেননি। তাই ফর্ম নিয়ে নির্বাচকদের আপত্তি থাকলেও বাইশ গজে মাহমুদের সদিচ্ছা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

তিনি এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার। আর সে দলেরই একজন তরুণকে ঘিরে সংশয় টিম ম্যানেজমেন্টের। সত্যি সত্যিই চোট আছে নাকি নটিংহামের পাটা উইকেটে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই ভান করছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন! এ অলরাউন্ডার সম্পর্কে ফিজিওর ভাষ্য সকালেই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানা গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে বোলিং করার সময়ই নাকি পিঠে ব্যথা পেয়েছিলেন সাইফ উদ্দিন। যদিও ম্যাচে কোনো শুশ্রূষা নেননি তিনি। টন্টন থেকে নটিংহামে এসেই সবাই জেনেছেন যে পিঠে ব্যথা সাইফ উদ্দিনের।

এটা অবশ্য তাঁর পুরনো ব্যথা নয়। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ও একবার আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি পিঠের ব্যথায়। ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেননি সাইফ উদ্দিন। তবে দুদিনের ব্যবধানে ব্যথা চলে যাওয়ায় ফাইনালে খেলেছিলেন তিনি। মাঝে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ মিলিয়ে দারুণ বোলিং করেছিলেন সাইফ উদ্দিন, বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি যাঁকে মনে করেন অন্তত ১০-১২ বছর দলকে সার্ভিস দেওয়ার উপযুক্ত।

বিশ্বকাপেও সে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন সাইফ উদ্দিন। কিন্তু আবার ইনজুরি এবং আবারও তাঁর পিঠের ব্যথা নিয়ে গুঞ্জন দলে। ডাবলিনে তো একজন উত্তপ্ত হয়ে চেঁচাচ্ছিলেন, ‘কিসের ব্যথা? ও সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এটা করে!’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওটায় গড়বড় হলে ফাইনালে ওঠার অঙ্ক কঠিন হতে পারত। সে রকম কিছু হয়নি। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে ফাইনালেও ভালো বোলিং করেছেন।

কিন্তু সাইফ উদ্দিনের পিঠের ব্যথা নিয়ে সংশয় আর যায়নি। উল্টো কার্ডিফে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের একটি ঘটনা তিক্ততা ছড়িয়েছে দলের লিডারশিপ গ্রুপের মাঝে। সে ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজা একরকম বিশ্রামে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তখন যাঁকে পাচ্ছে, তাঁকেই মারছে। তো, ওরকম একটা অগ্নিগর্ভ অবস্থায় মাঠের নেতা সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে ডাকেন সাইফ উদ্দিনকে। কিন্তু তিনি নাকি বল মাটিতে আছড়ে ফেলে অ্যাটিচ্যুড দেখিয়েছিলেন, যা একেবারেই মনঃপূত হয়নি মুশফিকুর রহিমের। সাইফ উদ্দিনের ভাগ্য ভালো দৃশ্যটি চোখে পড়েনি সাকিবের। পরবর্তীতে অবশ্য শুনেছেন সতীর্থদের কাছে। শুনেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি সাকিব।

দেখাননি কারণ, সাকিবের ক্রিকেট দর্শনে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম প্রাপ্তবয়স্কদের। এখানে হাতে-কলমে কাউকে শেখানোর নেই। কেউ শিখতে এলে স্বাগতম। আর যদি কেউ না আসে, সেটা ওর ব্যাপার। দিন শেষে ফল তো সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ই ভোগ করবে, সাকিব কিংবা অন্য কেউ নন।

মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের পিঠের ব্যথা একদিন নিশ্চিতভাবেই সারবে, তিনি মাঠেও ফিরবেন। তবে দলের ভেতর তাঁর সম্পর্কে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা কি দূর হবে সহসা? কঠিন প্রতিপক্ষ দেখলেই পিঠের ব্যথা বলে ‘ডাক’ করেন সাইফ উদ্দিন!

অথচ সেকালে প্রায় অসম্ভব লড়াইয়ে নেমে কত মার খেয়েছেন খালেদ মাহমুদ। হাঁটুতে সাতটা অস্ত্রোপচার করিয়েও খেলে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, প্রতিপক্ষ কিংবা কন্ডিশন বিবেচনা করেন না। সাকিব, তামিম ইকবাল কিংবা মুশফিকুর রহিমরা ছোটখাটো ইনজুরি নিয়েও খেলে ফেলেন। সেখানে কিনা সাইফ উদ্দিন..., যাঁকে আগামীর অবশ্যম্ভাবী তারকা মনে করছেন মাশরাফি!

 

পরিসংখ্যান

এবারের বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত আটটি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সবগুলো উইকেটই এই পেসার নিয়েছেন শেষ দিকের বোলিংয়ে, ৩০-৫০ ওভারের মধ্যে।

 

ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাব্বির রহমানের কাছে মাত্র ১০ রানে পাওয়া জীবনটাকে কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৬৬ রানে থেমেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ষোড়শ শতরান। আর এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটা তাঁর ষষ্ঠ ১৫০ ছাড়ানো ইনিংস আর বিশ্বকাপে প্রথম।

 

এর আগে ৪৮ ওয়ানডেতে একটিই মাত্র উইকেট পেয়েছিলেন অনিয়মিত বোলার সৌম্য সরকার। কাল অস্ট্রেলিয়ার হারানো পাঁচ উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন তিনি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের রান আউটটাও কিন্তু হয়েছে সৌম্য সরকারের বোলিংয়ে।  

 

৩৮১

গতকাল নটিংহ্যামে করা ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮১ রান ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১১ সালে ঢাকায় করা ৮ উইকেটে ৩৬১ রান। বিশ্বকাপে এটা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।

 

২৫

৪৬ তম ওভারে অস্ট্রেলিয়া রান নিয়েছে ২৫। এই বিশ্বকাপে এক ওভারে এটা সর্বোচ্চ রান নেওয়ার রেকর্ড। আগের সেরা ছিল বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৮ তম ওভারে ২৪ রান করেছিল বাংলাদেশ।

মন্তব্য