kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

দৃষ্টি আকাশে

বৃষ্টি অভিশাপ হবে না তো!

২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৃষ্টি অভিশাপ হবে না তো!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কখনো সাইক্লোন মার্সিয়া, কখনো অবিরাম বৃষ্টি কিংবা কখনো বৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনা। বিশ্ব আসরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ মানেই এর সঙ্গে বৃষ্টির একটি যোগসূত্র থাকেই। আছে এবারও। এই নিয়ে টানা তিন-তিনবার বৃষ্টির কবলে পড়ার শঙ্কায় টাইগার আর ক্যাঙ্গারুদের লড়াই। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজ নটিংহ্যামে নিয়মিত বিরতিতে বৃষ্টি হানা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে এই বৃষ্টি এলে তা আগের দুইবারের মতো সম্ভবত বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসছে না। ক্রমেই সেমিফাইনাল অঙ্ক জটিল হয়ে পড়ার সম্ভাবনার মুখে এবার সেটি অভিশাপও হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়াকে তো এই দৃষ্টিতেই দেখছে বাংলাদেশ শিবির।

সমীকরণ এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে নিজেদের শেষ চারটি ম্যাচ জিতেও শেষ চারে যাওয়া কঠিন বলে মনে হচ্ছে খোদ মাশরাফি বিন মর্তুজারই। টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর রাতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ অধিনায়ক সে কথা বলেছেনও। কারণ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে হারালেও বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১৩। নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচের (কালকের দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচসহ) দুটোতে হারলেও সমান পয়েন্ট হবে নিউজিল্যান্ডের। সে ক্ষেত্রে রানরেটে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা কিউইদেরই চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখছেন মাশরাফিও। হিসাব যখন এমনই কঠিন, তখন বৃষ্টি তাতে একটু গড়বড় করে দিলেই তো শেষ দেখে ছাড়ার আগেই বিদায় হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের। এই অবস্থায় বৃষ্টি আশীর্বাদ হতে পারে না কিছুতেই।

অথচ ২০১৫-র বিশ্বকাপেও বৃষ্টির আশীর্বাদধন্য হয়েছিলেন মাশরাফিরা। ওই আসরের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ব্রিসবেনে। কিন্তু একই সময়ে সাইক্লোন মার্সিয়ার প্রভাবে অবিরত বৃষ্টিতে ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ম্যাচের টসই হতে পারেনি। তাই পয়েন্ট ভাগাভাগি। যে ১টি পয়েন্ট পরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে রেখেছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও। বৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ ভেসে যাওয়া থেকে পাওয়া ১ পয়েন্ট আরো মূল্যবান হয়ে ওঠে ২০১৭-র চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে আসর শুরু করা মাশরাফিরা পরের ম্যাচেই সামনে পায় অস্ট্রেলিয়াকে। যে ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার একরকম অবধারিতই ছিল। ইংলিশদের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই তিন শ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়া বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৪.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৮২ রানেই। তামিম ইকবালের ৯৫ রানের ইনিংসটি ছাড়া আর কারো ব্যাটে উল্লেখযোগ্য রান ছিল না। জবাবে ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চের উইকেটটি হারিয়ে ১৬ ওভারে ৮৩ রান তুলে ফেলা অস্ট্রেলিয়া এগোচ্ছিল জয়ের পথেই। কিন্তু বাদ সাধে বৃষ্টি। এমনই যে শেষে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণাও করতে হয়। তাতে ১ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশ শেষ গ্রুপ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে উঠে যায় সেমিফাইনালে। অথচ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি আর মাত্র ৪ ওভার হলেই বৃষ্টি আইনে নিশ্চিতভাবে হেরে যেত বাংলাদেশ। তাতে সেমিফাইনাল সম্ভাবনাও ফেঁসে যেত। কিন্তু বৃষ্টি ভাগ্যে পাওয়া ১ পয়েন্টের সঙ্গে কিউইদের বিপক্ষে পাওয়া মহাকাব্যিক জয় যোগ হয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। কার্ডিফে সেই ম্যাচে ২৬৫ রান তাড়ায় ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে জয়ের তীরে নিয়ে যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদ উল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে তাদের ২২৪ রানের জুটি ১৬ বল বাকি থাকতেই এনে দেয় ৫ উইকেটের সহজ জয়ই। দুজনের ব্যাটই ফুটিয়েছিল সেঞ্চুরির ফুলও। এবার যখন সামনে আবার সেমিফাইনালের অঙ্ক, তখন সেই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেই আবার বৃষ্টি হানা দেওয়ার আশঙ্কা। যে বৃষ্টিকে এবার ‘অভিশপ্ত’ই মনে করার কথা বাংলাদেশ দলের!

মন্তব্য