kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

এবার টন্টনে

ভীতি নয় বাজুক সম্ভাবনার গান

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভীতি নয় বাজুক সম্ভাবনার গান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সব শেষ আইপিএলে তাঁর ব্যাট যেভাবে খাপখোলা তলোয়ার হয়ে উঠেছিল, তাতে বিশ্বকাপে আন্দ্রে রাসেলকে ঘিরে দুর্ভাবনা আছে সব দলেরই। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে হেড কোচ স্টিভ রোডস সে কথা বলেও গেছেন।

অবশ্য রাসেলকে ঘিরে দুর্ভাবনা ছাপিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যের স্মৃতিও কম তুলে আনেননি এই ইংলিশ কোচ। সর্ব সাম্প্রতিক সাফল্য আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ। যাতে ফাইনালসহ তিন ম্যাচেই জেতা বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপে কিন্তু অন্য চেহারা নিয়েই হাজির হচ্ছে ক্যারিবীয়রা। টন্টনে ১৭ জুনের ম্যাচে থাকবেন রাসেল, ক্রিস গেইল এবং ওশান থমাসরা। যাঁদের একজনও ছিলেন না ডাবলিনে হওয়া টুর্নামেন্টে।

ব্যাট হাতে প্রথম দুজনের যেকোনো বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করতে পারার ক্ষমতাও কারো অজানা নয়। তবে বিশ্বকাপ শুরু হয়ে যেতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণও প্রতিপক্ষ শিবিরে কম কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে পুরোভাগে থাকা ফাস্ট বোলার ওশান থমাসও নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় পরীক্ষা নিতে তৈরি হয়ে আছেন। তাঁর সঙ্গে দারুণ কার্যকারিতা দেখিয়েছেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার এবং শেল্ডন কটরেলও। আর ক্যারিবীয়দের ‘শর্ট বল তত্ত্ব’ যখন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনকেও ভুগিয়ে ছেড়েছে, তখন ঝুঁকিটা অবধারিতভাবেই বাংলাদেশের জন্যও থাকছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চারের বাড়তি গতির সামনে নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্বের ছবিও যখন মাত্রই দেখা হয়ে আছে রোডসের!

যদিও সেই ঝুঁকি সামলে সামনে এগোনোর শক্তিও শিষ্যদের জোগাচ্ছেন কাউন্টি দল উস্টারশায়ারের সাবেক এই কোচিং ডিরেক্টর। জোগাচ্ছেন নিকট অতীত থেকেই। গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে ব্রিস্টল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ভেন্যু টন্টনে যাওয়া বাংলাদেশ শিবিরে ক্যারিবীয়দের পাল্টা চেপে ধরার জ্বলজ্বলে স্মৃতিও কম নয়। গত বছরই দুইবার আছে ওয়ানডে সিরিজ জেতার সাফল্য। বছরের শেষে নিজেদের মাটিতে এবং তার আগে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে গিয়েও। দুবারই ২-১ ব্যবধানে জেতা বাংলাদেশের কাছে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ আর বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল একেবারেই আলাদা হতে পারে। তাই বলে একদম অচেনা কিছুতেই নয়।

ব্যাট হাতে আসুরিক ক্ষমতার গেইল-রাসেলদের নিয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ও তো খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। গত বছর জুলাইতে সফরে গিয়ে গায়ানায় সিরিজের প্রথম ম্যাচটিই যেমন। বাংলাদেশের ২৭৯ রান তাড়ায় গেইল-রাসেলদের নিয়েও সফল হয়নি ক্যারিবীয়রা। ৪৮ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। চোটের জন্য অবশ্য পরের দুই ম্যাচ খেলা হয়নি রাসেলের। তবে গেইল খেলেছিলেন। শেষ ম্যাচে ৩০১ রান তাড়ায় এই জ্যামাইকানের ৭৩ রানের ইনিংসও স্বাগতিকদের সিরিজ হার ঠেকাতে পারেনি। ১৮ রানে জিতেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

ওই সিরিজে না থাকা ওশান থমাস এসেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিরতি সফরে। তাতে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে এই ফাস্ট বোলারের বোলিং ফিগার ৫-০-৩৪-১ ও ১০-০-৫৪-৩! সেই সিরিজের তিন ম্যাচে দু-দুটো সেঞ্চুরি করা শাই হোপও তো ক্যারিবীয়দের সিরিজ জিতিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। কাজেই ত্রিদেশীয় সিরিজের তুলনায় বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক শক্তিশালী হলেও অজেয় যে নয়, সেটি ইতিমধ্যেই প্রমাণও করা গেছে একাধিকবার। তাই ক্যারিবীয়দের দুর্বোধ্য মনে করেও বসে নেই বাংলাদেশ। এমনকি তাদের ডেরায় গিয়ে জিতে আসার ঘটনাও তুলনামূলক কম গতিসম্পন্ন পেস আক্রমণ নিয়েই। গত বছর জুলাইয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফি ৩৭ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ক্যারিবীয়দের পড়া ৯ উইকেটের (একটি রান আউটসহ) ৭টিই নিয়েছিলেন পেসাররা। হেরে যাওয়া পরের ম্যাচেও পেসারদের শিকার ৬ উইকেট। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও পেসাররাই ছিলেন তুলনামূলক সফল। টন্টনে বাংলাদেশের রণপরিকল্পনায় তাই পেসাররাও হয়ে উঠতে পারেন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় ইংল্যান্ডের আবহাওয়াও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সমস্যার জায়গা শুধু এটিই যে টন্টনের মাঠ খুব ছোট। মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য যা সুবিধাজনকই। টপ এজেও যে ছক্কা হতে পারে সেখানে! এটি নিয়েও তাই বিশেষ ব্যবস্থা রেখেই নামার কথা বাংলাদেশের!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা