kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

তাঁদের হাতেও ম্যাচের চাবি

তারায় তারায়

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁদের হাতেও ম্যাচের চাবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপটা যে তাঁদের জন্য ‘পাপমোচন’-এর উপলক্ষ হয়ে এসেছে, সেটি বলা হয়তো বাড়াবাড়ি। তবে নিশ্চিতভাবে তা প্রায়শ্চিত্তের। স্টিভেন স্মিথ ও মোহাম্মদ আমিরের বিশ্বমঞ্চে চোখ-ধাঁধানো কিছু করার প্রেরণাটা লুকিয়ে সেখানেই।

আজ অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান আগুনে লড়াইয়েও তাই ওই দুজনের ওপর আলাদা চোখ না রেখে উপায় নেই।

আমিরের কথাই ধরুন। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুটা কেমন বিস্ফোরকই না হয়েছিল! ‘নতুন ওয়াসিম আকরাম’ তকমা পিঠে লেগে যেতেও সময় লাগেনি। আবার স্বর্গ থেকে পতনও খুব তাড়াতাড়ি। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের সময় ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অধিনায়ক সালমান বাট ও সতীর্থ পেসার মোহাম্মদ আসিফের সঙ্গে নিষিদ্ধ হন তিনিও। পাঁচ বছরের সে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটিয়ে ইংল্যান্ডে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রত্যাবর্তন ২০১৬ সালে; সমারসেটের বিপক্ষে টন্টনে। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ যে ভেন্যুতে।

আমির তাই খানিকটা স্মৃতিকাতর হতেই পারেন।

তবে শুধু স্মৃতির জাবরকাটায় যে লাভ নেই, কঠিন এ সত্যটা এত দিনে বোঝা হয়ে গেছে এই পেসারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর টুকটাক সাফল্য পেয়েছেন। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তাঁর বোলিং রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু পুরনো আমিরের ছায়া হয়ে থেকেছেন বেশির ভাগ সময়। সর্বশেষ ১৪ ওয়ানডেতে মাত্র পাঁচ উইকেট শিকারের খেসারতে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেই তো ঠাঁই হয়নি শুরুতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জায়গা হয় বটে। কিন্তু বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পান না; চিকেন পক্সের কারণে পরের চার ম্যাচে থাকেন একাদশের বাইরে।

তবু শেষ সময়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেওয়া হয় আমিরকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলের সাত উইকেটে হেরে যাওয়া ম্যাচে দলের তিন শিকারই এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পাকিস্তানের চমক জাগানিয়া জয়ে তাঁর দুই উইকেটেরও রয়েছে ভূমিকা। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমিরকে আরো বিস্ফোরক রূপেই চাইবে পাকিস্তান।

নিষেধাজ্ঞার খাঁচায় বন্দি ছিলেন স্টিভেন স্মিথও। পাকিস্তানি পেসারের মতো ফিক্সিং-কেলেঙ্কারিতে নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বল টেম্পারিং কাণ্ডে। সে নিষিদ্ধকাল পেরিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে এই ব্যাটসম্যান ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। অধিনায়কত্বে ফেরানো হয়নি। তবে অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের বড় ভরসার জায়গা হয়ে আছেন স্মিথ।

বিশ্বকাপের শুরুটা খুব ভালো হয়নি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আউট হয়ে গেছেন ১৮ রান করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে রান পেয়েছেন স্মিথ। কিন্তু নিজের সহজাত শ্রেষ্ঠত্বে ফিরেছেন, সেটি জোর গলায় বলা যাবে না। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বিপর্যয়ের মধ্যে ১০৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংসটি যেমন-তেমন; ভারতের ৩৫২ রান তাড়া করতে নেমে ৭০ বলে ৬৯ রান পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে পারেনি পুরোপুরি।

আজ তাই স্মিথের সামনে স্বরূপে প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষ। অস্ট্রেলিয়ার জন্যও। প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর সর্বশেষ খেলায় ভারতের কাছে হেরে দলটির বিশ্বকাপ অভিযান খেয়েছে হোঁচট। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ই পারে আবার অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে চনমনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে।

পাকিস্তান কি আর সেটি হতে দিতে চাইবে! বিশেষত আমির। আর তাঁর এক বিস্ফোরক স্পেলেই যে ম্যাচের গতিপথ আঁকা হয়ে যেতে পারে—তা কে না জানেন!

 

মন্তব্য