kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

পয়েন্ট হারানোর হাহাকার

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পয়েন্ট হারানোর হাহাকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ইংলিশ সামারে আবহাওয়ার যে কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই, আইসিসির মতো বড় সংস্থারও সেটি অজানা নয়। অথচ বিশ্বকাপের মতো আসরে রাখা হয়নি কোনো রিজার্ভ ডে-ই। ম্যাচের পর ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে। তাতে বাংলাদেশের মতো কোনো কোনো দলের সেমিফাইনাল সমীকরণও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যেমন হয়ে গেছে ব্রিস্টলে কাল শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর। তা নিয়ে তাই হতাশা এসে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশ দলের হেড কোচ স্টিভ রোডসও সেই হতাশা গোপন করলেন না। তিনি বরং রিজার্ভ ডে কেন নেই, প্রশ্ন তুললেন তা নিয়েও।

ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর এলেন সংবাদ সম্মেলনে। যেখানে হাসতে হাসতে বলা কথায় ভেতরের বেদনাও উঠে এলো, ‘চাঁদে যখন মানুষ যাচ্ছে, তখন কেন একটি রিজার্ভ ডে রাখা যাবে না? যখন আপনি জানেন যে এই টুর্নামেন্টটি হবে অনেক লম্বা সময় ধরে।’ অবশ্য শুধু দলগুলোর জন্যই নয়, রিজার্ভ ডে না রাখার ব্যাপারটি দর্শকদের দৃষ্টিকোণ থেকেও হতাশাজনক বলে মনে করেন এই ইংলিশ কোচ, ‘দর্শকদের জন্যও এটি বেশ হতাশাজনক। কারণ তারা ক্রিকেট খেলা দেখার জন্যই টিকিট কেটেছেন।’

দর্শকরা যেমন খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি জয়ের আশায় থাকা বাংলাদেশ পয়েন্ট হারানোর বেদনায় বিলীন হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। যেটি মেনে নেওয়া যে খুব কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেল, রোডসের প্রতিক্রিয়াই তা বুঝিয়ে দিতে যথেষ্ট, ‘খুবই হতাশার। ২ পয়েন্ট পাওয়ার জন্য আমরা এই ধরনের ম্যাচই টার্গেট করেছিলাম। আমি জানি যে শ্রীলঙ্কাও কঠিন লড়াই করত। তবে আমরা এটিকে (ম্যাচ ভেসে যাওয়া) ১ পয়েন্ট হারানোর ব্যাপার হিসেবেই দেখছি।’

পয়েন্ট হারিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল আরো। কিন্তু নিরুপায় রোডস বলছিলেন, ‘এই অবস্থায় আমরা কী-ই বা করতে পারি? কিছুই না।’ খেলা হলেই না কিছু একটা করার থাকে। কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ সামনে নিয়েই এখন পরবর্তী করণীয় ভাবতে হচ্ছে তাঁকে। সেটি একটি একটি করে ম্যাচ ধরে এগোনোর। ১৭ জুন টন্টনে পরের ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আপাতত খুব বেশি সামনে না তাকিয়ে ওই ম্যাচেই শুধু নিজেদের মনোযোগ স্থির রাখতে চান উস্টারশায়ারের সাবেক এই ডিরেক্টর অব কোচিং, ‘এখন আমরা যা করতে পারি, তা হলো আমাদের আসন্ন ম্যাচগুলোতে জেতা। তবে আপাতত আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে ভাবতে চাই। এখন যেমন ভাবছি শুধুই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচটির কথা। যেটিতে আমাদের জেতার চেষ্টা থাকবে। সেটি জিতলে আমরা এর পরের ম্যাচে জেতার কথা ভাবব। আমাদের পক্ষে এখন এটুকুই করা সম্ভব। আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি তো আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’

ইংলিশ ওয়েদারের অনিশ্চিত চরিত্রের জন্যই রিজার্ভ ডে রাখা আরো জরুরি ছিল বলে মনে হয়েছে রোডসের, ‘ইংলিশ ওয়েদার সম্পর্কে ধারণা থাকলে আপনার এটি জানার কথা যে এই সময়ে প্রচুর বৃষ্টি হয়। কেউই জানে না কখন বৃষ্টি নামবে। তা ছাড়া বিশ্বকাপে আমাদের ম্যাচগুলোর মাঝে বিরতিও আছে। সে ক্ষেত্রে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে এক দিন পরে গেলেও আমি কোনো সমস্যা দেখি না।’

সমস্যা দেখছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের শর্ট বল সামলানো নিয়েও। আগের দুই ম্যাচে ক্যারিবীয় পেসাররা এই তত্ত্বে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নাকাল করেছেন। একইভাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষেও তারা হামলে পড়তে পারে বলে আশা করছেন কি না এবং সেটি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতিই বা কী, এমন প্রশ্নে রোডসের জবাব, ‘আমার উত্তর, হ্যাঁ আশা করছি। ওরা যা করেছে, তার সবই আমরা দেখেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজই শুধু নয়, অন্যান্য দলও একই তত্ত্বে মাঠে নামছে। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডেরও একই সক্ষমতা দেখেছি আমরা। এ রকম বোলিং সামলানোর নির্দিষ্ট কিছু উপায় আমাদেরও আছে। শর্ট বোলিংয়ে ছেলেরা যেভাবে সাদা বল খেলছে, তাতে আমি খুবই খুশি। আমাদের কিছু ম্যাচ তো আপনারাও দেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই বলি। ওরা কিন্তু আমাদের ঝামেলায় ফেলতে পারেনি। ঝামেলা হয়েছে ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্চারের মতো বোলারের জন্য, যার গতিটা অন্য পর্যায়ের। আর ক্যারিবীয় বোলারদের তো আমরা সম্প্রতি খেলেছিই। আয়ারল্যান্ডেও খেলেছি। খেলেছি গত ডিসেম্বরে দেশের মাঠেও। কাজেই ওরা কী করতে পারে, সে বিষয়ে ভালোই ধারণা আছে আমাদের। আছে ওদের সামলানোর পরিকল্পনাও।’

মন্তব্য