kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

প্রিভিউ

সম্মান পুনরুদ্ধারের ম্যাচ

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্মান পুনরুদ্ধারের ম্যাচ

ইংল্যান্ডে প্রথম যে দুটি বিশ্বকাপ হয়েছিল, দুইবারই চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সত্তরের দশকে ক্লাইভ লয়েডের ক্যারিবীয়দের সামনে অন্য কোনো দল বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৯৮৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ভারতের কাছে হেরে গেল সেটা ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম বড় অঘটন! ১৯৯৯ সালে, সবশেষ যেবার ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হয়েছিল, সেই ট্রফিটা উঠেছিল স্টিভ ওয়াহর হাতে। বলা যায় আরেক সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিল সেখান থেকেই। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে হারের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই যে জেতা শুরু করল অস্ট্রেলিয়া, থামল ২০১১ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের কাছে হেরে। মাঝে তারা জিতেছে ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপের শিরোপা। শুধু ২০১১ বিশ্বকাপটা ফসকে গেছে, অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ২০১৫ বিশ্বকাপও। কিন্তু এবার কেন যেন তাদের হাতে কাপ দেখছেন না অনেকে, ইংল্যান্ড আর ভারতকে নিয়েই যেন রমরমাটা বেশি। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও সেমিফাইনালের বেশি অগ্রসর হতে দেখছেন না। যে দুটি দল মিলে জিতেছে ছয়টি বিশ্বকাপ, ইংল্যান্ডের মাটিতে চারটি বিশ্বকাপের তিনটিতেই শিরোপা যাদের হাতে, তাদেরকেই কিনা সমীকরণ থেকে বাদ দিয়ে দেয়া! ৬ জুন ট্রেন্টব্রিজে এই অবহেলারই যেন জবাব দিতে মুখিয়ে দুই দল।

পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৭ উইকেটের জয়ে বিশ্বকাপ শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়ে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দলেই আছে ‘ঘরে ফেরার গল্প’! বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলায় ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, আন্দ্রে রাসেলদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা গত এক বছরে নিয়মিত খেলেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে। আর বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ হয়ে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ ছিলেন দলের বাইরে। কোন্দল মিটেছে খেলোয়াড়দের সঙ্গে উইন্ডিজ বোর্ডের, বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে খর্বশক্তির দল পাঠালেও বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এসেছে রণসজ্জায়! গেইল, লুইসদের ব্যাট যেন খোলা তলোয়ার আর ওশান থমাস, শেল্ডন কটরেলদের হাত থেকে বের হচ্ছে আগুনের গোলা। টানা হারতে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে জয়ের কৃতিত্বের চেয়ে আশাবাদী করে তুলছে ক্যারিবীয়দের বোলিংয়ের ধার, তাইতো ক্লাইভ লয়েড ফের আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের জয়টা ছিল একদম নিখুঁত। তারা উইকেট থেকে প্রাপ্ত সুবিধাটা কাজে লাগিয়েছে আর পাকিস্তানকে চেপে ধরেছে। তাদের এখন উচিত ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখা। তাদের এই পারফরম্যান্স আমাকে গর্বিত করে। তারা এতটা ভালো করবে সেটা আশা করিনি।’ তবে এখনই লয়েড ফুলিয়ে তুলছেন না আশার পালটা, ‘এখন দেখতে হবে ওরা চাপের মুখে কেমন করে।’ সেই চাপের মুখে পড়ার অভিজ্ঞতাটাই হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের সফলতম দুটি দলের লড়াইয়ের ঝাঁজটা কিছুটা কমে এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার একচেটিয়া আধিপত্যে। এখন দুটি দলই তো সমান! প্রথম ম্যাচে যে তারা জিতেছে একই ব্যবধানে, ৭ উইকেটে! ক্রিকইনফো

মন্তব্য