kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

সেরা তারকা

এবার বিশ্বকাপ রাঙানোর সময়

রাহেনুর ইসলাম   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার বিশ্বকাপ রাঙানোর সময়

‘আমাদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে কোহলি। টেন্ডুলকারের ৪৯ ওয়ানডে সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল শেষ কথা। অথচ ৩০ বছর বয়সে ৪১ সেঞ্চুরি কোহলির। কোথায় থামবে ও’—বিশ্বকাপের আগে বিস্মিত কণ্ঠেই জানিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। ভারতীয় এই কিংবদন্তির মতো পুরো ক্রিকেটবিশ্বই মুগ্ধ বিরাট কোহলিতে। কারো কাছে তিনি ভিভ রিচার্ডস-শচীন টেন্ডুলকারের মিশেল। শিল্প, আগ্রাসন, উদ্দামতা মিলিয়ে ক্রিকেটের দারুণ এক চরিত্র। তিন ফরম্যাটের মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে নেন সহজে। এ জন্যই টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যাটিং গড় ৫০-এর বেশি।

গত বছর ওয়ানডেতে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ‘ব্র্যাডম্যানীয়’ উচ্চতায়। ১৪ ম্যাচে রান ১২০২ আর গড় ১৩৩.৩৫! মাত্র ৩০ বছর বয়সে ওয়ানডে সেঞ্চুরি ৪১টি! এই ফরম্যাটে শচীন টেন্ডুলকারের ৪৯ সেঞ্চুরির পর এটাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন টানা তিন ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এ বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি। ধারাবাহিক বড় ইনিংস খেলাতেই ওয়ানডেতে দ্রুততম ১০ হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখার কীর্তিটা কোহলির। এ জন্যই কারো কারো মতে সর্বকালের অন্যতম সেরা ভারতীয় অধিনায়ক।

ভিভ রিচার্ডসের খুনে মানসিকতা আর শচীন টেন্ডুলকারের সৌন্দর্যের মিশেল কোহলির ব্যাটিংজুড়ে। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ধরে রেখেছেন ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান। শুধু তা-ই নয়, টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের চূড়াতেও তিনি। শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, উত্তরটা সময়ের হাতে। তবে একটি দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন ভারতীয় সবাইকে। ভারতীয়দের মধ্যে রেটিংয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ৯৩৭, ওয়ানডেতে ৯১১ আর টি-টোয়েন্টিতে ৮৯৭ পয়েন্ট কোহলির। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তাঁরই।

নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরো একবার তুলে ধরার মঞ্চ হতে পারে এবারের বিশ্বকাপ। কারণ ওয়ানডে বিশ্বকাপেই শুধু নিজের উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি কোহলি। ২২৭ ওয়ানডেতে কোহলির ব্যাটিং গড় ৫৯.৫৭। সেখানে বিশ্বকাপে ১৭ ম্যাচে ৪১.৯২। অথচ শুরুটা হয়েছিল প্রবল আশা জাগিয়ে। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবির্ভাব ২০১১ বিশ্বকাপে। মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই সেঞ্চুরি। বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে জুটি ২০৩ রানের। ৮৩ বলে ৮ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় অপরাজিত ঠিক ১০০ রানে।

এরপর আর নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি কোহলি। ফিফটি মাত্র একটি। চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিপর্যয়ের মুখে খেলেছিলেন ৭৬ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। ৫১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ভারত ঘুরে দাঁড়ায় কোহলি ও যুবরাজ সিংয়ের ব্যাটে। তৃতীয় উইকেটে দুজন গড়েন ১২২ রানের জুটি। ২৬৮-তে অল আউট হওয়া ভারত ম্যাচ জেতে ৮০ রানে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালের চাপটা নিতে পারেননি এই মিডল অর্ডার। চারে নেমে আউট হন ৪৯ বলে ৩৫ করে।

২০১১-র মতো ২০১৫ বিশ্বকাপেও কোহলির শুরু দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে খেলেন ১০৭ রানের ইনিংস। ভারত পায় ৭ উইকেটে ৩০০ রানের পুঁজি। ২২৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান, ম্যাচসেরার পুরস্কার কোহলির। বিশ্বকাপে এই একবারই ম্যাচসেরা হয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। এরপর খেলা তাঁর ইনিংসগুলো ৪৬, ৩৩*, ৩৩, ৪৪*, ৩৮, ৩ ও ১। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চাপ নিতে না পেরে ১৩ বলে ১ রানে ফেরাটা ভুলেই যেতে চাইবেন কোহলি।

এবার তিনি অধিনায়ক। চাপ আরো বেশি। আইপিএলে বেঙ্গালুরুর হয়ে ব্যর্থ হলেও বিশ্বকাপে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে বিশ্বাস কোচ রবি শাস্ত্রীর, ‘কোহলি পরিণত হয়ে উঠছে আর প্রক্রিয়াটা চলমান। মনে রাখতে হবে, তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়া সহজ নয়। নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সবাই শেখে। কোহলিও শিখছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নামার আগে কাগিসো রাবাদা খুঁচিয়েছেন ‘অপরিণত’ বলে। এর জবাবটা মাঠেই দিতে চাইবেন ভারতীয় ক্রিকেটের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

মন্তব্য